বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুযোগে সফল স্কোয়াশ চাষী

অন্য এক দিগন্ত ডেস্ক | Feb 20, 2021 04:38 pm
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুযোগে সফল স্কোয়াশ চাষী

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুযোগে সফল স্কোয়াশ চাষী - ছবি সংগৃহীত

 

টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ারের আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী করোনার বন্ধে অলস বসে না থেকে পিতার জমিতে বিদেশী সবজি স্কোয়াশ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। পরীক্ষামুলকভাবে চাষ করা স্কোয়াশের ফলনও হয়েছে ভালো। এতে খুশি শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ। কৃষি বিভাগ এ অঞ্চলে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণের কথা ভাবছে।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে শাকিল আহমেদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত বছর কৃষিতে বিএসসি পাশ করেছেন।

শাকিল বলেন, করোনার বন্ধে বাড়িতে এসে অলস সময় কাটাচ্ছিলাম। অলস সময়ে নিজের পিতার জমিতে কিছু একটা চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করি। ইন্টারনেট ঘেটে বিদেশী সবজি জাতীয় ফসল স্কোয়াশ চাষ করার উদ্যোগ নেই। পিতার ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশের বীজ রোপণ করি। নিজে কৃষি বিভাগের ছাত্র হওয়ায় এ বিষয়ে আগেই কিছুটা ধারণা ছিল। ইন্টারনেট থেকেই জেনে নেই বিষমুক্ত ফসল আবাদের কৌশল। নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। প্রথম দফাতেই স্কোয়াশের ভালো ফলন পেয়েছি। জমি জুড়ে লম্বা আকৃতির স্কোয়াশ দেখে নিজের মধ্যে আনন্দ লাগছে। স্কোয়াশ বিক্রি করে আমি ব্যাপক আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছি।

ছেলের এ সফলতায় খুশি শাকিলের পিতা আব্দুল করিম। তিনি আগামীতে তার ছেলেকে আরো বেশি জমি চাষাবাদের জন্য দিবেন। শিক্ষার্থী শাকিলের পরামর্শে তারই চাচাতো ভাইও স্কোয়াশ চাষ করেছেন। তিনিও ভালো ফলন পেয়েছেন।

নিজেদের এলাকায় অচেনা ফসল স্কোয়াশে চাষের সফলতার কথা জেনে আরো অনেকেই স্কোয়াশ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি অফিসার শোয়েব মাহমুদ বলেন, চলতি মৌসুমে দেলদুয়ার উজেলায় এক হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্কোয়াশ চাষীদের সব ধরনের সহায়তা করছে। পুরো টাঙ্গাইল জেলায় স্কোয়াশ চাষ ছড়িয়ে দেয়া গেলে লাভবান হবেন চাষীরা।


নওগাঁয় সাথী ফসল চাষ করে ২৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন কৃষক শামিম
জেলার বদলগাছি উপজেলায় এক কৃষক তার ৩ বিঘা জমিতে পটলের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে সীম এবং আদা উৎপাদন করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এলাকার অনেক কৃষক এ রকম কৃষি উৎপাদনে এখন উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, জেলার বদলগাছি উপজেলাধীন বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বাবু তার ৩ বিঘা জমিতে চলতি মওসুমে পটল-এর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে সীম এবং আদা চাষ করেন। পুরো জমিতে জাংলা দিয়ে পটল এবং সীম চাষ করেন। জাংলার নিচে জমিতে আদা রোপন করেন। ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমে উৎপাদিত পটল এবং সীম বিক্রি শেষ হয়েছে। সেসব পটল এবং সীমের গাছ কেটে দেয়া হলে বর্তমানে কেবল আদা গাছ রয়েছে। এই চৈত্র মাসের মধ্যে সে আদা জমি থেকে উত্তোলিত হবে।

কৃষক শামীম হোসেন বাবু জানিয়েছেন, বদলগাছি কৃষি কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং তত্বাবধানে সমন্বিত এই ফসল উৎপাদনে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ১৪ লাখ টাকার সীম এবং পটল বিক্রি করেছেন।

এদিকে, ওই কৃষক এই ৩ বিঘা জমি থেকে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৮০ মন হিসেবে ২৪০ মন আদা উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন। বর্তমান বাজার মুল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি আদা ১২৫ টাকা হিসেবে তার উৎপাদিত আদার বিক্রি মুল্য দাঁড়াবে ১২ লাখ টাকা বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
এই গ্রামেরই কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কৃষক কুবের আলী তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে দারুনভাবে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারাও একইভাবে সমন্বিত ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

নওগাঁ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন- পটল, সীম এবং আদা এই তিন ফসলের জন্যই তেমন কোন সেচ প্রয়োজন হয় না। আবার পোকামাকড়ের আক্রমণও তেমন নাই। কৃষি বিভাগ আরও বলেছে বদলগাছি উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং তত্বাবধানে বদলগাছির মহেশপুর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বাবু এই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এই সম্ভাবনার আলোকে যে সব কৃষক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তাদের কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।

সূত্র : বাসস


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us