ডায়াবেটিসের সাথে যোগসূত্র রয়েছে ক্যান্সারের!

ডা. সুরাইয়া সেহেলী | Feb 23, 2021 03:54 pm
ডায়াবেটিসের সাথে যোগসূত্র রয়েছে ক্যান্সারের!

ডায়াবেটিসের সাথে যোগসূত্র রয়েছে ক্যান্সারের! - ছবি সংগৃহীত

 

ডায়াবেটিস নিয়ে দুচিন্তার শেষ নেই। এটা নিয়ে গবেষণারও শেষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই নতুন কোনো না কোনো আবিষ্কার হচ্ছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় বৃহৎ একটি গবেষণায় জানা গেছে, ডায়াবেটিসের সাথে নিবিড় সম্পর্ক আছে ক্যান্সারের। সব ধরনের ক্যান্সার নয় কিছু কিছু ক্যান্সার ডায়াবেটিস আক্রান্তদের মধ্যে বেশি, তুলনামূলকভাবে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন তাদের চেয়ে। এ ক্যান্সারগুলো হলো- প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার, লিভার, জরায়ু, কিডনি, থাইরয়েড, গল ব্লাডার ও লিউকেমিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ডায়াবেটিক সার্ভিস স্কিম ডায়াবেটিক রোগীদের নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ নামকরা। এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর ওপর পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮০ হাজার টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাকিরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে। এ গবেষণার প্রধান জেসিকা হার্ডিং। তিনি ম্যালবোর্নের বেকার আইডিআই হার্ট ও ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটের গবেষক। তিনি গবেষণার ব্যাপারে জানান, তারা মনে করেছিলেন ইনসুলিন হয়তো বা ক্যান্সার কোষকে বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এটা প্রমাণ করার জন্য তারা এ গবেষণা চালান। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেল টাইপ-২ ডায়াবেটিকদের সব ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু টাইপ-১ ডায়াবেটিকদের লিভার, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, জরায়ু ও লিম্ফোমার ঝুঁকি বেশি। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগী তাদের বেশির ভাগই ইনসুলিন ব্যবহার করছিলেন না। তাই তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। গবেষকরা জানান, আসলে ইনসুলিনের জন্য নয়; রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের জন্যই ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

আবার অনেক ডায়াবেটিক রোগী ডায়াবেটিসে আক্রান্তের বেশ পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রধান গবেষক জেসিকা বলেছেন, স্থূলতা ও বয়স বৃদ্ধিজনিত কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

ব্যথানাশক ওষুধে হৃদরোগ!
আজাদুল কবির আজাদ

একটু ব্যথা হলেই ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন না এমন ব্যক্তির সংখ্যা নগণ্য। লাল বড়ি হিসেবে পরিচিত ডাইক্লোফেনাক সেবন করেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এতদিন জানা ছিল, এ ব্যথানাশক বড়ি সেবন করলে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু এ মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে হৃৎপিণ্ডের সমস্যা দেখা দেয়। এ ওষুধ সেবনকারীরা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত হন। যেটি স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিওরের অন্যতম কারণ।
একদল ডেনিশ গবেষক ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর গবেষণা করেন।

এতে দেখা যায়, যারা নন-সিলেকটিভ এনএসআইডি- ব্যথানাশক ওষুধ যেমন অ্যাসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, কিটোরোলাক, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন, এনডোমেথাসিন ইত্যাদি সেবন করেন তাদের অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত হওয়ার হার ৪৬ শতাংশ ও কক্স-২ ইনহেবিটর যেমন- সেলেকক্সিব, মেলোক্সিকাম সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ বেশি।

গবেষকরা আরো জানান, নন-সিলেকটিভ এনএসআইডি ও কক্স-২ ইনহেবিটর সেবন করলে প্রতি বছর প্রতি এক হাজারে চারজন ও সাতজন অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত হন। এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন ডেনিশ আরহাম ইউনির্ভাসিটি হাসপাতলের মারটেন স্ক্যামিড। এ মাসেই এটি বিখ্যাত ‘বিএমজে’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা অযথা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়েছেন।


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us