কিউই ক্রীড়ার সবচেয়ে বেদনার দিন

Jul 20, 2019 02:38 pm
কিউই ক্রীড়ার সবচেয়ে বেদনার দিন

 

ক্রীড়ার সাথে অনিশ্চয়তা শব্দটি সম্পূরক হয়ে গেছে। আর বহু দিনে পুরনো প্রবাদ, ‘গোল ঘুঁটি ও গোল বলের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।’ কোনো খেলাতেই আগাম কিছু বলা যায় না। তবে ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই এটাকে বলাই হয় গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। তেমনই এক অসাধারণ চিত্তাকর্ষক ও অনিশ্চয়তায় মোড়া ম্যাচ এবার উপহার দিলো ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনাল। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের ৫০ ওভারের খেলা টাই। এরপর সুপার ওভারেও টাই। শেষ পর্যন্ত ইংলিশরা প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বেশি বাউন্ডারি মারার কারণে। এতে ইংলিশদের বাঁধভাঙা উল্লাসের বিপরীতে হৃদয়ভাঙার করুণ কাহিনী কিউইদের। টানা দুই ফাইনালে তারা হারলেও এমন কষ্ট তাদের ২০১৫ সালেও পেতে হয়নি। বিশ্ব ক্রীড়ায় নিউজিল্যান্ডের এমন তীরে এসে তরী ডুবানো মতো পরিস্থিতি আরো আছে। তবে এবার লর্ডসে যা হলো গত পরশু তা ছাড়িয়ে গেছে সব কিছুকে। তাই ১৪ জুলাই লর্ডসের বেদনাই ব্ল্যাক ক্যাপসদের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় কষ্টের দিন।

২০১৪ সালের ট্যুর ডি ফ্রান্সের ঘটনা। নিউজিল্যান্ডের সাইক্লিস জ্যাক বাউয়ারের জন্য তারা টিম ইভেন্টে স্বর্ণ জিততে পারেনি। ৫ ঘণ্টার ২২২ কিলোমিটারের রোড রেসে অন্যদের সাথে সমান তালেই চলছিলেন বাউয়ার। রেস শেষ হওয়ার ৯ মিনিট আগেও লিড ছিল নিউজিল্যান্ডে। তখনই ছন্দ পতন বাউয়ারের। ফলে একেবারে শেষ মুহূর্তে ৩০ মিটার বাকি থাকতে তাকে পেছনে ফেলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা। প্রথম হওয়া হলো না কিউদের।
১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকের ঘটনা। নিউজিল্যান্ডের ইকুয়েস্ট্রিং দল অগ্রবর্তী অবস্থানেই ছিল। স্বর্ণ জয়ের সামান্য দূরে তারা। কিন্তু অ্যান্ড্রু নিকোলসনের ঘোড়াটি শেষ হার্ডলটা পার হতে পারেনি। ফলে যা হওয়ার তাই। স্বর্ণের বদলে রৌপ্যতেই সন্তুষ্টি তাসমান সাগরের পূর্ব-দক্ষিণ পাড়ের দেশটির।

১৯৯৯ সালের মহিলা নেট বলের বিশ্বকাপের ফাইনাল। নিউজিল্যান্ডের ডোনা উইকিস জয়সূচক স্কোরের জন্য খুব কাছ থেকে শট নেয়ার সুযোগ পান। এই স্কোর হলেই নিউজিল্যান্ড ৪২-৪১ পয়েন্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতো। কিন্তু ১৭ সেকেন্ড আগে সেই স্কোর করতে ব্যর্থ ডোনা। স্কোর তখন ৪১-৪১। তখনই অস্ট্রেলিয়ার শারেল্লা ম্যাকমোহন স্কোর করে নিজ দেশকে ৪২-৪১ এ জিতিয়ে শিরোপা এনে দেন।
২০০০. ২০০১ ও ২০০২ বেলডিসোল কাপ রাগবির ফাইনাল। তিনবারই অস্ট্রেলিয়ার কাছে তাদের হার শেষ মিনিটে। এর দু’টিতে হার পেনাল্টিতে। ২০০৩ সালে অবশ্য শিরোপার দেখা মেলে।
২০১৩ আমেরিকা কাপ ইয়টিংয়ের ফাইনাল। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৮-১ এর এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। ডিন বারকারের অল ব্ল্যাকদের আর একটি রেসে জেতা বাকি ছিল। তাহলেই শিরোপা নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু তাদেরকে আর তা করতে দেননি মার্কিন জিমি শিফটহিল ও ওরাকেলের দল। দারুণ কামব্যাকে তারা বাকি সব রেস জিতে ট্রফি ঘরে তুলে। অবশ্য চার বছর পর নিউজিল্যান্ড পুনরুদ্ধার করে শ্রেষ্ঠত্ব। সূত্র : নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।