বিশ্বকাপের বিস্ময় সাকিব

Aug 03, 2019 03:16 pm
সাকিব আল হাসান

 

সাকিব আল হাসান। ব্যাট-বলে সমান উজ্জ্বল। ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রানের পাশাপাশি ১১ উইকেটও নিয়েছেন। বিশ্বকাপের কোনো আসরেই ন্যূনতম ৪০০ রান ও ১০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব আর কারো নেই। আট ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি, সর্বনি¤œ ৪১ রান। এবারের বিশ্বকাপের বিস্ময় সাকিব। বিশ্বকাপের এক আসরে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস তার আগে করেছেন কেবল ভারতের শচীন টেন্ডুলকার।

আবার এক ম্যাচে ব্যাট হাতে হাফ সেঞ্চুরি আর বল হাতে ৫ উইকেটের যে কীর্তিটি গড়েছেন, সেটিরও আগে মালিক ছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং। বাংলাদেশ এবার যে তিনটি ম্যাচ জিতেছে, সবকটিতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচও সাকিব। যার এত অর্জন, তিনি তো সেরার কাতারেই থাকবেন। সাকিবের ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পথে বাধা হিসেবে যে ধারণাটি করা হচ্ছে সেটি হলো তার দলের সেমিতে না খেলার ব্যর্থতা। ১৯৯২ আসরে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার চালু হওয়ার পর থেকে বিগত সাত আসরে সেমিফাইনালে না ওঠা দলের কেউ পুরস্কারটি পাননি। যে কারণে সাকিব থাকতে পারেন পুরস্কার বঞ্চিত।

এই বিশ্বকাপে সম্ভবত একটা জিনিস নিশ্চিত করে ফেলেছেন সাকিব আল হাসান, ২১ শতকের সেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডারের আলোচনার যোগ্য তিনি। এক বিশ্বকাপে এর আগে কোনো ক্রিকেটার পাঁচশ’ ছয়শ’ বা তার বেশি রান ও ১০ বা তার চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি। সাকিবের নামের পাশে ৮ ম্যাচে ১১ উইকেট। একবার নিয়েছেন ৫ উইকেটও। অসামান্য আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন, তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে যুবরাজ ও কপিলের পর এক বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েছেন। এই আসরে সব মিলিয়ে প্রায় এক ডজন বিরল রেকর্ডের মালিক হয়েছেন সাকিব।

সাকিব হলেন তৃতীয় ক্রিকেটার, যার একটি বিশ্বকাপে ৬০০-এর বেশি রান রয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কেবল শচীন টেন্ডুলকার (২০০৩) ও ম্যাথু হেইডেনের (২০০৭)। শচীনের পরে তিনিই হলেন দ্বিতীয় ক্রিকেটার, যিনি একটি বিশ্বকাপে ৭টি অর্ধশতক পেরোনো ইনিংস খেলেছেন। কুমার সাঙ্গাকারার পর সাকিবই একমাত্র ক্রিকেটার, যার বিশ্বকাপে ১২টি অর্ধশতক পেরোনো ইনিংস আছে।

২০৬ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৭.৮৬ গড়ে ৬,৩২৩ রান পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাকিবকে একজন ভালো ব্যাটসম্যান বানিয়েছে। তিনি ভারতের বীরেন্দ্র শেবাগ ও যুবরাজ সিংয়ের চেয়ে বেশি গড়ের ব্যাটসম্যান। স্পিনে তুলেছেন ২৬০ উইকেট, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৫টি বেশি নিয়ে শীর্ষে মাশরাফি। ২১ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার সাকিব। এরপর জ্যাক ক্যালিস, শেন ওয়াটসন, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস এবং শহীদ আফ্রিদিরা। ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে দলকে এগিয়ে নেয়া গেলেও শিরোপা এনে দেয়া সম্ভব হয়নি বলে ট্রাজিক হিরো তকমাটা এখন সাকিবের।