মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য

Sep 02, 2019 10:12 pm
মোহাম্মদ আলী

 

‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ’-এটাই তার কৃতিত্ব বোঝানোর জন্য সবচেয়ে সহজ বাক্য। সামর্থ্যর সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকার সময়ে তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি। লড়াই এ তার দক্ষতা আর অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস তাকে সত্যিকার অর্থেই ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ’ করেছে। মুষ্টিযুদ্ধের রিং এ প্রজাপতির মতো নৃত্য করে এবং মৌমাছির মতো হুল ফুটিয়ে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের পর্যুদস্ত করতেন। তিন তিনবার হেভিয়েট শিরোপা জয় করে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানবে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে সনি লিস্টনকে হারিয়ে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমিই বিশ্বের সম্রাট’। তবে তার সেদিনের সাম্রাজ্য শুধুমাত্র হেভিওয়েট রিং এর মধ্যেই সীমিত ছিল। আজ তিনি মুষ্টিযুদ্ধেই নয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের একজন। রিং-এর ভেতরে এবং বাইরে তিনি যে কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন, তা তার আগে বা তার পরও দেখা যায়নি। হয়তো কোন দিনই দেখা যাবে না। এমনকি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় থাকার সময়েও একজন মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা, তার মহাত্ম ফুটে ওঠতো। একজন শোম্যান, একজন বিদ্রোহী, একজন মুসলমান, একজন মানবাধিকার কর্মী, একজন কবি-সব গুণেই তাকে অভিহিত করা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তিনি একজন বিস্ময়কর ব্যক্তি বা মহামানব। বস্তুত তিনি এক সময়ে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষে। এমনকি পৃথিবীর অনেক স্থান-যেখানে মুষ্টিযুদ্ধের কোনই জনপ্রিয়তা নেই, সেখানেও তিনি মুকুটহীন সম্রাট। একজন মুষ্টিযোদ্ধার নামও যদি কেউ জানে, তবে তিনি হলেন মোহাম্মদ আলী।

মোহাম্মাদ আলী নামে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলে জন্মগ্রহণ করেন, তখন তার নাম ছিল ক্যাসিয়াস মারসেলাস ক্লে। ক্যাসিয়াস (সিনিয়র) এবং ওডেসার প্রথম ছেলে ছিলেন তিনি। তার পিতা ছিলেন একজন পেইন্টার। মোহম্মদ আলী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার ছোট ভাই রুড্লফও মুসলমান হলেন। তার নাম হয় রহমান আলী। আলীর মেয়ে লায়লা আলী পরবর্তীকালে মুষ্টিযুদ্ধে সুনাম অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে আলী চারবার বিয়ে করেছিলেন।

১৯৬৪ সালের ১৪ আগস্ট আল বিয়ে করেন সনজি রোইকে। দুটি সন্তান হওয়ার পর ১৯৬৬ সালে এই বিয়ে ভেঙ্গে যায়। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী খালিদা ‘বেলিন্দা’ আলীকে বিয়ে করেন ১৯৬৭ সালের ১৭ই আগস্ট। চারটি সন্তান হওয়ার পর তারা আলাদা হয়ে যান। ১৯৭৭ সালের ১৯ আগস্ট বিয়ে করেন ভেরোনিকা পোর্সে আলীকে। ১৯৮৬ সালে এই বিয়েও ভেঙ্গে যায়। তার চতুর্থ ও শেষ স্ত্রী লনি উইলিয়ামস। ১৯৮৬ সালের নভেম্বরের এই বিয়েটি টিকে থাকে। তারা আসাদ নামের এক ছেলেকে দত্তক নেন। আলীর সন্তানরা হলেন : রাশিদা, জামিলা, মরিয়ম, মিয়া, খালিয়াহ, হানা, লায়লা, মোহাম্মদ জুনিয়র ও আসাদ।


মোহাম্মদ আলীর ফ্যাক্টফাইল :
পুরো নাম : মোহাম্মদ আলী
জন্ম নাম : কেসিয়াস মার্সেলাস ক্লে, জুনিয়র
ডাক নাম : দি গ্রেটেস্ট, লুইসভিল লিপ।
জন্ম : ১৭ জানুয়ারি, ১৯৪২ ; লুইসভিল, কেন্টাকি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শিরোপার বিভাগ: হেভিওয়েট।

অলিম্পিক গেমস স্বর্ণপদক জয় : লাইট হেভিওয়েট, ১৯৬০, রোম।
মোট লড়াই: ৬১টি; জয় ৫৬, নক-আউটে জয় ৩৭, পরাজয় ৫, ড্র ০।
বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপার লড়াই : ২৫টি (সবগুলোই হেভিওয়েট) জয় ২২, পরাজয় ৩।
মোহাম্মদ আলীর হেভিওয়েট শিরোপার লড়াইগুলো :
২৫ ফেব্র“য়ারি, ১৯৬৪ : সনি লিস্টন; মিয়ামি, জয় (প্রতিপক্ষের পরাজয় স্বীকার, ৬ষ্ট রাউন্ড)।
২৫ মে, ১৯৬৫: সনি লিস্টন, লুইস্টন; মেইন, জয় (প্রতিপক্ষ নক আউট, ১ম রাউন্ড)।
২২ নভেম্বর, ১৯৬৫: ফ্লয়েড পিটারসন; লাস ভেগাস, জয় (লড়াই থামিয়ে দেওয়া, ১২তম রাউন্ড)।
২৯ মার্চ, ১৯৬৬: জর্জ চুভালো ; টরেন্টো, জয় (পয়েন্টে)।


২১ মে, ১৯৬৬: হেনরি কুপার ; লন্ডন, জয় (লড়াই থামিয়ে দেওয়া, ৬ষ্ট রাউন্ড)।
৬ আগস্ট, ১৯৬৬: ব্রায়ান লন্ডন; লন্ডন, জয় (নক আউট, ৩য় রাউন্ড)।
১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ : কার্ল মিল্ডেনবারজার; ফ্রাংকফুর্ট, জয় (লড়াই থামিয়ে দেওয়া, ১২তম রাউন্ড)।
১৪ নভেম্বর, ১৯৬৬ : ক্লিভল্যান্ড উইলিয়ামস; হিউস্টন, জয় (পয়েন্টে)।
৬ ফেব্র“য়ারি, ১৯৬৭ : আরনি টেরেল; হিউস্টন, জয় (পয়েন্টে)।
২২ মার্চ, ১৯৬৭: জোরা ফলি; নিউ ইয়র্ক, জয় (নক আউট, ৭ম রাউন্ড)।
৮ মার্চ, ১৯৭১: জো ফ্রেজিয়ার ; নিউ ইয়র্ক, পরাজয় (পয়েন্টে)।


৩০ অক্টোবর, ১৯৭৪ : জর্জ ফোরম্যান; কিনসাসা, জায়ার, জয় (নক আউট, ৮ম রাউন্ড)।
২৪ মার্চ, ১৯৭৫: চুক ওয়েপনার ; ক্লিভল্যান্ড, জয় (লড়াই থামিয়ে দেওয়া, ১৫তম রাউন্ড)।
১৬ মে, ১৯৭৫: রন লাইলি ; লাস ভেগাস, জয় (লড়াই থামিয়ে দেওয়া, ১১ শ রাউন্ড)।