ফিলিস্তিন, ট্রাম্পকে নিয়ে চমস্কির সাড়া জাগানো সাক্ষাতকার

Sep 19, 2019 01:25 pm
নোয়াম চমস্কি

 

নোয়াম চমস্কি। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, লেখক ও কলামিস্ট। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, তিনি একজন সাহসী ও প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব অশীতিপর হওয়া সত্ত্বেও। নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিশ্বব্যাপী আগ্রাসী তৎপরতা, বিশেষ করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামের উগ্রজাতীয়তাবাদী ও আধিপত্যকামী নীতির একজন বলিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে চমস্কি সাড়া জাগিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ, ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য দিয়েছেন। চমস্কি এখানে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার পাশাপাশি কথিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’র ওপরও আলোকপাত করেছেন। Truthout.Org-এর ৩ জুলাই সংখ্যায় সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। এটি নিয়েছেন সি. জে. পলিক্রোনিউ, যিনি একজন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ এবং ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাকেন্দ্রে শিক্ষকতা করেছেন অথবা অন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সাক্ষাৎকারের ভাষান্তর করেছেন মীযানুল করীম

প্রশ্ন : ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে পুরোপুরিভাবে একটি দুর্যোগ।’ তিনি দাবি করেছিলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তীকালের মার্কিন প্রশাসনগুলো পরিচালিত হয়েছিল অবাস্তব প্রত্যাশা দিয়ে। এতে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি হয়েছে।’ ট্রাম্প নিজে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পরে দেশকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন একটির পর একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে। তখন তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশকে এর দায় নিতে হবে এবং তিনি শুল্ক ও সংরক্ষণবাদের মাধ্যমে আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিতে চেয়েছেন। এসব কারণে অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, বিশ্বের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নবযুগের সূচনা হয়েছে’। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

নোয়াম চমস্কি : সরকারের ব্যাপক গোয়েন্দা সিস্টেম ‘শিয়াল ও তার বন্ধুরা’ কাহিনীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাহিনীতে সবাই সেই শিয়ালকে বলে, ‘আমরা তোমাকে কতইনা ভালোবাসি।’ এদের বুদ্ধিমত্তার নিরিখে এসব কথাকে ঘোরতর পাগলামি বলতে হয়।
সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল পুতিনের একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে। পুতিন বলেছেন, ‘পাশ্চাত্যের উদারতাবাদ সেকেলে হয়ে গেছে।’ অথচ ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, জবাবে তাকে ক্যালিফোর্নিয়া সম্পর্কে বলতে হবে। ট্রাম্প তাই বললেন, ‘পুতিন কথাটা বলতে পারেন। কী ঘটছে, তা পুতিন দেখছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে যা ঘটছে, তা খুবই দুঃখজনক। সান ফ্রান্সিসকো এবং আরো কয়েকটি শহরে কী ঘটছে? এসব শহর চালাচ্ছেন উদার ব্যক্তিদের একটি অসাধারণ গ্রুপ।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধির ব্যাপারে জি-২০ অঙ্গীকার করতে চায়। কিন্তু শুধু যুক্তরাষ্ট্র কেন এতে শামিল হতে চায় না?’ জবাবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বাতাস ও পানির মানের প্রশংসা করলেন। মনে হয়, তিনি বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং মার্কিন বায়ু-পানির মান, এ দুটো বিষয়ের পার্থক্য বোঝেননি।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য এর চেয়ে ভিন্ন রকম হতে দেখা যায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশ্বিক কৌশলের সন্ধানে প্রয়াস চালানোর ব্যাপারটি ব্যঙ্গ করার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন তেমন নীতি যে নেই, তা নয়। বিরাজমান নৈরাজ্যের মাঝে একটি নীতি দেখা যায়। অহংবাদী কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এমনটাই আশা করা যেতে পারে। তা হলো- তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টরা (বিশেষত ওবামার আমলে সম্পাদিত) যেসব চুক্তি করে গেছেন, সেগুলো ইতিহাসের ‘নিকৃষ্টতম চুক্তি’। এর প্রতিস্থাপন করা হবে ‘ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ চুক্তি’ দিয়ে। এ জন্য যিনি আলোচনা করেছেন, তিনি সব সময়ের সুদক্ষ চুক্তি সম্পাদনকারী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে ‘গ্রেট’। একইভাবে আরো বলা হচ্ছে, ‘অতীতের যেকোনো কাজ ছিল ভুল পথে পরিচালিত। ফলে এতে ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার। এখন আমেরিকাকে প্রতারণা ও হামলার হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব যার ওপর অর্পিত, সেই মেধাবী ব্যক্তি এসব ভুল সংশোধন করবেন।’

যদি কোনো প্রেসিডেন্ট ‘শিয়াল ও তার বন্ধুরা’ ধরনের কাহিনীর ভিত্তিতে দুনিয়াকে দেখে থাকেন, বলা যায়, তিনি নতুন নন। ৪০ বছর আগে একজন পূর্বসূরি (রোনাল্ড রিগ্যান) সিনেমা দেখে বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করেছিলেন। এর ফলে তিনি এমন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলেন যে, বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি নাৎসি বন্দিশিবির থেকে মানুষকে মুক্তিদানের কাজে অংশ নিয়েছিলেন (নিজ এলাকা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কোথাও না গিয়েই)। এ সবকিছু আধুনিক রাজনীতির সাথে আমাদের কিছুটা পরিচিত করে তোলে।
প্রহসন পরিহাসের জন্ম দেয়, তা বোধগম্য। সন্দেহ নেই, কেউ কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বরিস জনসনের ইঙ্গ-মার্কিন সভ্যতার পতাকা তুলে ধরাকে উপভোগ করছেন। তবে বিশ্বের জন্য এটা ব্যাপার হিসেবে মারাত্মক। কারণ, পরিবেশকে ধ্বংস করা হয়েছে; আর চূড়ান্ত পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বেড়ে চলেছে এবং অন্যান্য অপরাধ ও আতঙ্কের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই।

আমেরিকার জন্য, পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সর্বাধিক সমাসন্ন সঙ্কট হলো, ইরানের সাথে সঙ্ঘাত। মনে করা হয়, ইরান দেশটা সব অনিষ্টের গোড়া এবং ইরানকে অবশ্যই নিজের ‘আগ্রাসন’-এর ইতি ঘটাতে হবে। ইরানকে নাকি হতে হবে একটি ‘স্বাভাবিক রাষ্ট্র।’ যেমন, সৌদি আরব ট্রাম্পের কাল্পনিক জগতে দ্রুত প্রগতি হাসিল করছে। জি-২০ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘নারী জাতির বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্র বিরাট অগ্রগতি সাধন করেছে।’ ইরানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিডিয়াতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের যথার্থতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। ইরানের আন্তর্জাতিক আচরণ নিয়ে কেউ যা মনে করুক না কেন, এ অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের শোচনীয় মাপকাঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের কথা না হয় বাদ দিলাম- ইরান দুর্বৃত্ত দেশের তালিকায় থাকার মতো নয়, এটা বলা চলে।

বাস্তবে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, (ইরানের সাথে) পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে দেয়া হবে। অথচ চুক্তিটি ভালোভাবেই কার্যকর হচ্ছিল। এমন হাস্যকর সব অভিযোগে তা বাতিল করা হলো যে, প্রকৃতপক্ষে কেউই এটা বিশ্বাস করেনি। যুক্তরাষ্ট্র আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরম কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য। ইরানের জনগণকে শায়েস্তা এবং তাদের অর্থনীতির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। (মার্কিন প্রশাসন) আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণসহ নিজের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করছে। যাতে অন্যরা ওয়াশিংটনের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়। এ সবকিছুর বিন্দুমাত্র বৈধতাও নেই। কিউবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একই আচরণ করা হচ্ছে। বিগত নভেম্বরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ আবারো নিন্দা জানিয়েছে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার। ১৮৯টি দেশের সমর্থন ছিল প্রস্তাবটির প্রতি। বিপক্ষে ছিল মাত্র ২টি দেশ (কেবল যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে)। জাতিসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতারা ধারণা করেছিলেন, ‘মানবজাতির মতামতকে চমৎকার মর্যাদা দেয়া হবে।’ কিন্তু তা বহু আগেই বিদায় নিয়েছে এবং বিশ্বের বেদনার্ত কণ্ঠ শুনেও সাড়া দেয়া হয় না। ইরানের বেলায়ও এটা ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের জনগণকে শাস্তি দেয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে অনেক কথাই বলা যায়। ‘দুর্ভোগ সৃষ্টির মার্কিন পন্থা’র আওতায় ব্যতিক্রমী এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বিদ্বেষপ্রসূত হলেও এ ধরনের আচরণকে আমেরিকান সিস্টেমে স্বাভাবিক মনে করা হয়। এ নীতির প্রকৃত উদ্দেশ্যের বৈধতা ও আইনসিদ্ধতার বিষয়ে বিশ্লেষণের কোনো প্রয়াস চোখে পড়ে না সাধারণত। কিন্তু এর গুরুত্ব সামান্য নয়। ইরান প্রসঙ্গে বলা যায়- (যুক্তরাষ্ট্রের) সরকার ও মিডিয়ার কাছে একমাত্র প্রশ্ন হলো, ভিকটিম দেশ কোনো না কোনোভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে কি না। এটা হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের বাতিল করা চুক্তিটি ‘লঙ্ঘন’ কিংবা আর কোনো উপায়ে। যদি ইরান এমনটা করে বসে, তাহলে নির্মম শাস্তিই তার প্রাপ্য বলে মনে করা হবে। ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, ইরান বিভিন্ন চুক্তি ‘লঙ্ঘন’ করেছে। অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্র এগুলো থেকে কেবল ‘সরে এসেছে’। প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ে একটি কথা : ‘শুধু গরিবরাই আইন লঙ্ঘন করে; ধনীরা তা কেবল এড়িয়ে যায়।’

ট্রাম্পের চার পাশে ঠগরা অবস্থান করছে। এদের কার কী মতলব, সহজেই বোঝা যায়। পম্পেও এবং বোল্টনের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ দূরত্বে থেকে ‘দুর্বৃত্ত’দের খতম করা যাতে ‘আমাদের ক্ষতি তেমন না হয়’। এর পরিণতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা গোল্লায় যাক। ট্রাম্প কিছুটা ভিন্ন ভাবনা করছেন, মনে হয়। তিনি নাকি দেড় শ’ মানুষের জীবনের জন্য দরদে একটি সামরিক অভিযান চালাননি। তবে এ কথার একমাত্র উৎসটির তেমন গ্রহণযোগ্যতা নেই। মনে হয়, ট্রাম্প সে যুদ্ধ চান না, যা তার রঙ্গতামাশা ও খেলাধুলাকে বরবাদ করে দেবে এবং তার নির্বাচনী সম্ভাবনাকে করে দেবে নস্যাৎ। মনে করা হচ্ছে, দুষ্টু দুশমনের অলৌকিক হুমকির সম্মুখীন না হয়ে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া অনেক উত্তম। আর এই শত্রুর মোকাবেলা করতে সক্ষম কেবল এই সাহসী নেতাই। হাঁটুকাঁপা ডেমোক্র্যাটরা তা মোকাবেলায় সক্ষম নন; ‘নিছক’ যারা নারী, তারা তো এটা পারবেই না। (এককালের প্রেসিডেন্ট) রিগ্যানও এ নীতি গ্রহণ করেছিলেন যখন তিনি তার কাউবয় বুটজোড়া পায়ে দিয়ে নিকারাগুয়াকে মোকাবেলায় নেমেছিলেন। তখন তিনি হুঁশিয়ার করে দেন, টেক্সাসের হার্লিংটন থেকে মাত্র দু’দিনের দূরত্বে আছে নিকারাগুয়ার ফৌজ। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রতি এই অসাধারণ হুমকির কারণে রিগ্যান জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।

যা হোক, ইরান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে কিছু সত্য বিষয় আছে। ইরানের পরমাণু হাতিয়ারের কথিত হুমকির অবিলম্বে সুরাহা হতে পারে সে অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করে। এটা আরব দেশগুলো, ইরান এবং আসলে সারা বিশ্বেরই দাবি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এক্ষেত্রে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে এতে বাধা দিয়ে আসছে। এর কারণ অস্পষ্ট নয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবে স্বীকার করে নেয় যে, ইসরাইলের আছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার, তা হলে দেশটিকে যে বিপুল সাহায্যের বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে, তা মার্কিন আইন মোতাবেক বেআইনি হয়ে যাবে। তাই ইসরাইলের মানবধ্বংসী মারণাস্ত্র গণ্য হয় না পরিদর্শনের বিষয় হিসেবে।

এবার শুল্ক বা ট্যারিফ প্রসঙ্গে আসা যাক। ‘ট্যারিফম্যান’ আমাদের বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই তা আরোপ করা হয়ে থাকে। তবে খোদ তিনিই এতে বিশ্বাস করেন কি না কিংবা এ বিষয়ে তিনি মনোযোগী কি না, জানি না। রাজনৈতিক কথাবার্তা আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করতে পারাটা বিরল ব্যাপার। আর ট্রাম্প তো সত্যবাদিতা ও বিশ্বাযোগ্যতার জন্য পরিচিত নন। ট্রাম্প গর্ব করেন যে, তার আরোপিত শুল্ক মার্কিন কোষাগারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেলতে চীনকে বাধ্য করছে। কিন্তু এমন দাবির সপক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ সামান্যই। ‘অতীতের প্রশাসনগুলোর আমলে কোষাগারে ১০ সেন্টও আয় হয়নি। কিন্তু এখন আসছে কয়েক বিলিয়ন ডলার’- এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প। বাস্তবে, তার আরোপ করা শুল্কের মাশুল দিতে হচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে (তারা মজুরি কমিয়ে দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে পারেন বৈকি) এবং এ দেশের ভোক্তাদেরও। এমনিতেই এই ভোক্তারা করের বোঝা বইছেন। সে করের টার্গেট প্রধানত কম সচ্ছল মানুষেরা। ট্রাম্পের ট্যারিফ হলো, আমেরিকার শ্রমিক ও গরিবদের ক্ষতি করার আরেকটি মাধ্যম। হ্যাঁ, ‘বিলিয়ন’-এর ব্যাপারটা এ ক্ষেত্রে জড়িত। নিউইয়র্ক ফেড এবং প্রিন্সটন ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির যৌথ জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আর কনজিউমার বা ভোক্তারা মাত্র এক মাসেই তিন বিলিয়ন ডলার দিয়েছেন অতিরিক্ত কর হিসেবে। এর কারণ, চীনা পণ্য।

সেই সাথে সারা দুনিয়ার অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বসানো হয়েছে। ২০১৮ সালে দক্ষতা কমে যাওয়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ১.৪ বিলিয়ন ডলার গচ্চা দিয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে শুল্কযুদ্ধের কারণে কিছু শিল্প চীন থেকে চলে যেতে পারে ভিয়েতনাম ও অন্যান্য দেশে যেখানে শ্রমের মূল্য আরো কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ঘটনা হচ্ছে, ‘অ্যাপল’ কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের ম্যাকপ্রো কম্পিউটার তৈরির কাজ আমেরিকার টেক্সাস থেকে চীনে সরিয়ে নেবে।

ট্রাম্প পরিচালিত ‘ট্যারিফ ওয়ার’ তার অভ্যন্তরীণ নীতির সাথে সম্পর্কিত মনে হচ্ছে। সামনের নির্বাচনের কথা ভেবে তিনি এ নীতি প্রণয়ন করেছেন। তার বলয়ের ভোটারদের দেখানো দরকার যে, “দেশের তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মার খাওয়া আমেরিকানদের বাঁচাতে পারেন এবং তারা ট্রাম্পের পূর্বসূরিদের ‘হত্যাযজ্ঞের’ পরিণামে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।”

এদিকে কর্মক্ষম শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের অনেকের প্রত্যাশিত আয়ু বিস্ময়করভাবে কমে গেছে। বলা হচ্ছে, ‘হতাশায় মৃত্যু’ই এর কারণ যা উন্নত সমাজগুলোতে দেখা যায় না। ট্রাম্প এটা দেখানোর কৌশল নিয়েছেন যে, গরিব আমেরিকানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা না হলে এবং ভালো আচরণ করতে রাজি না হলে তার দোলানো ডাণ্ডা মেরে তিনি ঠাণ্ডা করে দেবেন।

তবে ট্রাম্পকে ভুল বুঝলে ভুল করা হবে। তিনি ধূর্ত গলাবাজ এবং কারসাজি করতে পারেন সাফল্যের সাথে। তার প্রশংসায় মুখর জনতার বিশ্বাস, তিনি ঘৃনিত এলিটদের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। একই সাথে, চরম ধনাঢ্যশ্রেণী আর করপোরেট পাওয়ারের সমর্থনও ধরে রেখেছেন। এরাই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী শক্তির ভিত্তি। তারা ট্রাম্প গংয়ের মদদে দস্যুসুলভ আচরণ করছে।

অভিযোগ আনা হয়েছে, ‘চীন আমাদের শেষ করে দিচ্ছে এবং আমাদের চাকরি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ওদের সাথে আছে মেক্সিকোর ডাকাতরা।’ কিন্তু চীন কিভাবে আমাদের খতম করছে? তারা কি ‘অ্যাপল’-এর প্রধান নির্বাহী টিম কুকের কপালে বন্দুক তাক করে বলছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপল কম্পিউটার উৎপাদনের কাজ বন্ধ করে দাও।’ বোয়িং, জিএম কিংবা মাইক্রোসফটের বেলায়ও কি এমন করা হয়েছে? অথচ তারা উৎপাদনের কার্যক্রম চীনে সরিয়ে নিয়ে গেছে। নাকি, এ সিদ্ধান্ত নিউ ইয়র্ক ও শিকাগোর কোম্পানিগুলোর বোর্ডরুমে ব্যাংকার এবং বিনিয়োগ কর্তারা নিয়েছেন? যদি এটাই হয়ে থাকে, তাহলে চীনের উদ্দেশ্যে ঘুষি বাগিয়ে লাভ নেই। বরং সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনুন যাতে স্টেকহোল্ডার, শ্রমিক আর সমাজ মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অথবা গণতন্ত্রের চাহিদা মাফিক তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে দেয়া হোক। এসব দাবি তোলা হয় না। অপর দিকে, ‘সরকারি মন্ত্র’ অবাধে আওড়ানো হচ্ছে।

বলা হচ্ছে, ‘বিনিয়োগকারীদের ওপর চীন অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দেয়।’ ‘অ্যাপল’ ও অন্যদের ভালো না লাগলে তারা চীনে বিনিয়োগ না করলেই পারে। এ কথার সাথে নিশ্চয়ই একমত হবেন মুক্ত ও বাজার অর্থনীতির পূজারীরা। আরেকটি অভিযোগ, ‘চীন পছন্দের শিল্পকে ভর্তুকি দিচ্ছে যা অন্যায়।’ যদি এটা সত্য হয়, মার্কিন রাজনীতিকদের উল্লাসে মেতে ওঠার কথা। কারণ, তা হলে চীন নিজের ক্ষতি করে আমেরিকার অর্থনৈতিক একাধিপত্যের পথ সুগম করছে। আসলে, আমরা যা শুনি, সব ঠিক নয়।
এ সবকিছু কিভাবে পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদী সমাজে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের পুরো সময়জুড়ে এবং নাটকীয়ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়ে গেল, তা নিয়ে বেশি আলোচনা করা হয় না। বিগত বিশ্বযুদ্ধ হলো আজকের উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন অর্থনীতির ভিত্তি।

যা হোক, চীনের ব্যাপারে যে অভিযোগ অধিক বিশ্বাসযোগ্য, তা হচ্ছে- তারা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করছেন। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা-এর স্থপতি। চীন এটা লঙ্ঘন করছে বলে ধরে নেয়া হলেও প্রশ্ন জাগে, এতে কার লাভ, কার ক্ষতি? আসলে মার্কিন ভোক্তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বিগ ফার্মা ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ঞজওচঝ-এর আওতায় চরম ও নজিরবিহীন ছাড় দিয়েছে স্বত্বাধিকারের ক্ষেত্রে। এতে অবশ্য তাদের বিপুল মুনাফার মাত্রা কিছুটা কমেছে। আরো প্রশ্ন হলো, এই ঞজওচঝ কি আইনসঙ্গত? আন্তঃরাষ্ট্র চুক্তি দিয়ে এর প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করতে হয়, এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারা? জনগণের কোনো ভূমিকা কি এতে ছিল? এমনকি, তারা কি জানতেন, কী ঘটছে? আর যাকে ‘মুক্তবাণিজ্য চুক্তি’ (ঋঞঅ) বলা হচ্ছে, তাকে ‘বিনিয়োগকারীর অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি’ বলাই সঠিক। এর সাথে বাণিজ্যের সম্পর্ক সামান্যই এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা এর পরিকল্পনা করেছেন, তাদের স্বার্থই এ চুক্তি রক্ষা করছে।

‘চীন আমাদের শেষ করে দিচ্ছে’ বলাটার যুক্তি আছে। প্রায়ই প্রকাশ্য উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয় যে, (চীনা কোম্পানি) হুয়াওয়েই’র অপেক্ষাকৃত কম দামি ও উন্নততর প্রযুক্তি ৫এ নেটওয়ার্ক স্থাপনের বেলায় তাদের ‘অন্যায় সুবিধা’ দিতে পারে। চীনের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি, মার্কিন কর্তাব্যক্তিরা বলে থাকেন, হুয়াওয়েই-এর অন্যায় সুবিধা পাওয়ার পথ বন্ধ করতে হবে। এ অবস্থায় ১৯৮০-এর দশকের একটি কথা মনে পড়ে যায়। তখন অদক্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো মার খাচ্ছিল জাপানের উন্নততর ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনিকের হাতে। এ অবস্থায় তদানীন্তন রিগ্যান প্রশাসন জাপান থেকে আমদানির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এর নাম দেয়া হয় ‘রফতানি থেকে স্বেচ্ছামূলক বিরত থাকা।’ এখানে ‘স্বেচ্ছামূলক’ মানে, ‘রাজি হও অথবা ...’। পিছিয়ে থাকা আমেরিকাকে উদ্ধার করার জন্য এসব করা হয়েছে।

প্রশ্ন : ট্রাম্পের কূটনীতির পেছনে একটা ঘোষিত লক্ষ্য হলো, ‘শত্রুদের বন্ধু বানানো’। তিনি এ উদ্দেশ্যে কাজ করছেন, এর কোনো প্রমাণ কি আছে? এক্ষেত্রে বিশেষভাবে বলতে হয় উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার কথা।

চমস্কি : ট্রাম্পের এই ‘লক্ষ্যে’র ব্যাপারটি রাজনীতির মূলধারায় ব্যঙ্গবিদ্রƒপ আর তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে দু’কোরিয়ার পানমুনজম ঘোষণা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বটে। এতে দু’কোরিয়াকে বলা হয়েছে পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং এর সুফলস্বরূপ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দিকে স্বউদ্যোগে এগিয়ে যাবার জন্য। অতীতে প্রায় সময়ে কোরিয়া ইস্যুতে সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাইরের হস্তক্ষেপের দরুন। ইতিহাস থেকে দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে বার বার হস্তক্ষেপ করেছে; যদিও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয় না। উল্লিখিত, ‘পানমুনজম ঘোষণা’য় প্রথমবারের মতো দুই কোরিয়া উত্তেজনা হ্রাস এবং নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে অঙ্গীকারসমেত সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল।

পুতিনের রাশিয়াকে ‘বন্ধু’ করার দরকার নেই। তবে তার সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা জরুরি। কূটনীতিই সঠিক পথ আত্মহনন রোধ করার জন্য। বাস্তবে এর কোনো আলামত চোখে পড়ে না। একই কথা সত্য আইএমএফ চুক্তির ব্যাপারেও। দুদেশের তৎকালীন নেতা যথাক্রমে রিগ্যান ও গর্বাচেভ আলোচনা করে এ চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন।

চুক্তিটি চূড়ান্ত যুদ্ধের আশঙ্কা রোধ করেছিল। তবে এখন উভয় পক্ষ দাবি করছে, প্রতিপক্ষ এটি লঙ্ঘন করছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আলোচনায় বসাই এ ক্ষেত্রে করণীয়। তবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা সর্বাপেক্ষা মন্দ পদক্ষেপ। কিন্তু এটাই যুক্তরাষ্ট্র এখন করছে। রাশিয়া তাকে অনুসরণ করছে। অস্ত্র সংবরণ সংক্রান্ত অন্য প্রধান চুক্তির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মনে হয়, (প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা) জন বোল্টন বরাবরের মতো তার দুষ্টামি অব্যাহত রেখেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতি বিধানে বাধা দিয়ে এমন নীতি অবলম্বনের দিকে সরকারকে পরিচালনা করেছেন, যা অত্যন্ত অশুভ।

প্রশ্ন : ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? জ্যারেড কুশনারের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব বহন করে?

চমস্কি : আমার ধারণা, কুশনারই এর মূল স্থপতি। এটা মিডিয়ার রিপোর্টও বলেছে। আগে থেকেই এই প্রশাসনের অনুসৃত পলিসির সাথে এ পরিকল্পনা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা ইসরাইলের গোলান মালভূমি দখল এবং বৃহত্তর জেরুসালেমের ‘উন্নয়ন’কে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এটা নিরাপত্তা পরিষদের আদেশের লঙ্ঘন। অথচ এই আদেশের পেছনে সমর্থন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ফিলিস্তিনিদের যে সামান্য সাহায্য আমেরিকা দিয়ে আসছিল, তাও একই সময়ে বন্ধ করে দেয়া হলো। যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পর্যন্ত হরণ করছে, তখন ‘বসকে’ বিনয়ের সাথে ধন্যবাদ না দেয়ায় এটা করা হয়েছে। কুশনারের পরিকল্পনা এ কাজটাই এগিয়ে নিচ্ছে। মনে করা হয়, সম্প্রসারণবাদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইলের যে আকাঙ্খা, তা পূরণের সুযোগ দিতে হবে। অন্য দিকে, (যুক্তরাষ্ট্র নয়) কয়েকটি দেশের দেয়া উন্নয়ন তহবিলের বিনিময়ে ‘কিনে নিতে হবে’ ফিলিস্তিনি জনগণকে। ট্রাম্প ও কুশনারের ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তির সারকথা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন, ‘ফিলিস্তিনিদের উপলব্ধি করতে হবে, খেলা সাঙ্গ হয়ে গেছে। এবার তাদের আত্মসমর্পণের পালা।’

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার অন্তর্নিহিত কৌশলগত লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। তা হলো, তেলসমৃদ্ধ রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো, মিসর ও ইসরাইলের ন্যায় প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রগুলোর জোট তৈরি করা, যা হবে ওই অঞ্চলে মার্কিন ক্ষমতার ভিত্তি। আগে এ ব্যাপারটা আজকের মতো এত বেশি প্রকট ছিল না।
এসব লক্ষ্য পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বে বিশ্বব্যাপী জোট গঠনের বৃহত্তর কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জোটে আছেন পূর্ব ইউরোপের ‘অনুদার গণতন্ত্রী’ (যেমন, হাঙ্গেরির বর্তমান নেতা ওরবান) এবং ব্রাজিলের উদ্ভট বোলসোনারো। শেষোক্তজন ট্রাম্পের মতো মেতে উঠেছেন মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশ ধ্বংস করার কাজে। এ জন্য ‘বিশ্বের ফুসফুস’ আমাজনকে খনি ও কৃষি ব্যবসার মাধ্যমে শোষণ করতে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন তার বন্ধুদের কাছে। চরম দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকান পার্টি এনীতি অনুসরণ করছে। এদিক দিয়ে ওরা ইউরোপের লোকরঞ্জনবাদী দলগুলোর চেয়ে অগ্রবর্তী।

প্রশ্ন : ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যা করলেন, তাকে ইতিহাস মূল্যবান করবে কিভাবে? অথচ এটাই বিশ্বের জন্য বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ।
চমস্কি : একটা কথা আছে, ‘ভদ্রভাবে কিছু বলা সম্ভব না হলে নীরব থাকতে হবে।’