মেসি : মহামঞ্চে মহানায়ক

Sep 25, 2019 02:09 pm
মেসি

 

মিলানের সুসজ্জিত অডিটোরিয়ামে তখন নীরবতা বিরাজ করছে। মঞ্চে দুই সঞ্চালক রুড গুলিত ও ইলারিয়া ডি’অ্যামিকোর সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফানতিনো। বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম ঘোষণা হওয়ার প্রাক-মুহূর্ত। পিছনের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ভার্জিল ফন ডিক, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিও মেসির ছবি। দর্শকাসনে উপস্থিত প্রত্যেকে অপেক্ষমান, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের নাম শোনার জন্য।

এক হাতের উপর অপর হাত রেখে ভার্জিল ফন ডিক ভাবছেন, গত মাসে উয়েফার অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি কি হবে?

কিন্তু না। ফিফা প্রেসিডেন্ট খাম খুলে কাগজ বের করে ঘোষণা করলেন লায়োনেল মেসির নাম। মুহূর্তে করতালিতে ফেটে পড়ল অডিটোরিয়াম। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি নিয়ে মঞ্চে উঠলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকাটি। ইনফানতিনোর হাত থেকে বর্ষসেরার খেতাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘সহ-ফুটবলার, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের অভিনন্দন। ধন্যবাদ জানাব সমর্থকদেরও। যে কোনও ব্যক্তিগত সম্মান অবশ্যই তৃপ্তি দেয়। তবে আমার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য দলকে সাফল্য এনে দেয়া।’

অনেকেই ভেবেছিলেন, ভার্জিল ফন ডিকই এবার ফিফার বর্ষসেরা সম্মান পাবেন। কিন্তু ফিফার প্রতিনিধি দেশগুলির কোচ, অধিনায়ক এবং সাংবাদিকদের ভোটে ডাচ ডিফেন্ডারটিকে পিছনে ফেললেন মেসি। তার প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪৬। দ্বিতীয় ফন ডিক পেয়েছেন ৩৮। তৃতীয় স্থানাধিকারী রোনাল্ডোর সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট। পরিসংখ্যান বলছে, গত মরশুমে দেশ ও ক্লাবের হয়ে মোট ৫৮টি ম্যাচে ৫৪টি গোল করেছেন এলএমটেন। অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২০। এরকম চোখ ধাঁধানো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল না ভার্জিল ফন ডিক এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। তাই মিলানের মহামঞ্চে মহানায়ক এক এবং অদ্বিতীয় মেসি।

পর্তুগালের প্রাণভোমরা তো অনুষ্ঠানে গরহাজির ছিলেন। উল্লেখ্য, গত মরশুমে শুধুমাত্র লা লিগা খেতাবের স্বাদ পেয়েছিলেন মেসি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে বার্সেলোনা হেরেছিল লিভারপুলের কাছে। কয়েকদিন বাদে কোপা দেল রে’র ফাইনালে ভ্যালেন্সিয়া থামিয়ে দিয়েছিল আর্নেস্তো ভালভার্দে-ব্রিগেডের জয়রথ।

এখনও পর্যন্ত ছ’বার ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার পেয়েছেন মেসি। সোমবার তিনি পিছনে ফেললেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে (৫)। তবে ব্যালন ডি’ওরের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করার পর এই প্রথমবার বর্ষসেরা হলেন এলএমটেন। এবার ফিফার বর্ষসেরা কোচের সম্মান পেলেন লিভারপুলের জুরগেন ক্লপ। শেষ ল্যাপে তার সঙ্গে ছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির পেপ গুয়ার্দিওলা এবং মরিসিও পোচেত্তিনো। গত মরশুমে লিভারপুলকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর নেপথ্য কারিগর ক্লপের মন্তব্য, ‘একটা কোচ ততটা ভালো যতটা তার দল। তাই এই সম্মান শুধু আমার নয়, লিভারপুলের প্রত্যেকের।’ মহিলাদের বর্ষসেরা হয়েছেন আমেরিকার মেগান র‌্যাপিনো। সেরা গোলরক্ষক লিভারপুলের আলিসন।

সেরা গোলের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ড দেয় ফিফা। এবার তা পেয়েছেন হাঙ্গেরির প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন ড্যানিয়েল জোরি। শেষ ল্যাপে তিনি পিছনে ফেলেন লিও মেসি ও হুয়ান ফার্নান্দো কুইন্টেরোকে।