উদ্বেগ আর নাটকীয়তার ১২ ঘণ্টা

Oct 24, 2019 08:33 am
উদ্বেগ আর নাটকীয়তার ১২ ঘণ্টা

 

জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারসহ দেশের ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে যে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে। গত রাত ১১টায় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড-বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের যৌথ সভায় অধিকাংশ দাবির ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ধর্মঘটের অবসানের কথা জানানো হয়।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ক্রিকেটারদের অধিকাংশ দাবি-দাওয়া আমি আগেই মেনে নিয়েছিলাম। বাকি যেগুলো ছিল ওইগুলো এবং সবকিছু নিয়ে তাদের সাথে খুব আন্তরিকতায় আলাপ-আলোচনা হয়। আমরা প্রথমত তাদের যে ১১ দফা দাবি ছিল সেগুলো দু-তিন দিনের মধ্যেই পূরণ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মাঠের উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়, সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে করবো বলে প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা একযোগে দ্রুত সব কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারেও একমত হয়েছি। ক্রিকেটাররা আগামী শনিবার থেকে মাঠে ফিরবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম, এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা বাতিল করে দেবো। যেহেতু এটা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের আগ্রহে সেটি পিছিয়ে শনিবার থেকে শুরু হবে। একই সাথে জাতীয় দলে যারা রয়েছেন তারা ভারত সফরের ক্যাম্পে আগামী ২৫ তারিখ নির্ধারিত সময়েই যোগ দেবেন। তাদের সর্বশেষ যে দু’টি দাবি এসেছে সেটি আমি এখনো কাগজে-কলমে কিছু পাইনি। আমরা তা পেলে পরবর্তী আলোচনায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।

এরপর পাপনের পাশে বসে থাকা জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিসিবি আমাদের অধিকাংশ দাবিই মেনে নিয়েছে এবং আমাদের সাথে আন্তরিকতার সাথেই আলোচনা হয়েছে। আমরা আগামী শনিবার থেকে মাঠে ফিরব এবং জাতীয় দলে যারা রয়েছি, তারা নির্ধারিত ক্যাম্পে যোগ দেবো। এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, যেহেতু সর্বশেষ দাবি দু’টি বুধবার সন্ধ্যায় উপস্থাপিত হয়েছে, তাই এ ব্যাপারে বোর্ড এখনো আলোচনা করার সুযোগ পায়নি। তবে তারা জানিয়েছে, অবিলম্বে এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।

এ দিকে বোর্ড রুমে দুই পক্ষের ব্রিফিং যখন চলছিল, তখন বিচ্ছিন্নভাবে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন আলোচনায় অংশ নেয়া অধিকাংশ ক্রিকেটার। তাদের মুখে ছিল হতাশার ছাপ। কারণ এ রকম দাবি-দাওয়া নিয়ে অতীতে তারা অনেকবারই আলোচনা করেছেন, আশ্বাসও পেয়েছিলেন; কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেছিল খুব সামান্যই। সাকিব আল হাসান অবশ্য ব্রিফিং শেষে সব ক্রিকেটারকে নিয়ে আলাদাভাবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। তবে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সেটা জানা যায়নি। তবে এই ঘটনার মধ্যেই বিসিবির একটি শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভকে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সাংবাদিক এবং খেলোয়াড়দের সামনেই কটূক্তি করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মোহাম্মদ আলী যে রকম আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলতে থাকেন, তেমনি শুভ এবং তার পক্ষে থাকা উপস্থিত তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীমসহ বেশকিছু ক্রিকেটার এর জোরালো প্রতিবাদ করেন। বিসিবির একটি কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ার সময় বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম উভয় পক্ষকে শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছুক্ষণ এর রেশ চলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত রাতের বৈঠকের মাধ্যমে গত তিন দিন ধরে দেশব্যাপী ক্রিকেট নিয়ে যে উৎকণ্ঠা চলছিল, ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন কি না এবং ভারত সফরে যাবেন কি না, না কি ভারত সফর বাতিল হয়ে যাবেÑ এই পরিস্থিতির অবসান ঘটল।

আগের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও বসেছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বিসিবির কয়জন পরিচালক। মাশরাফির কাছ থেকেও বিস্তারিত জানেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় গুলশানের একটি হোটেলে ক্রিকেটাররা জড়ো হয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে তাদের মুখপাত্র হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আগের ১১ দাবির সাথে আরো দু’টি দাবি জুড়ে দেন। নতুন দুই দাবি ছিলÑ ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ক্রিকেটের আয়ের একটা অংশ ক্রিকেটারদের প্রদান এবং নারী ক্রিকেটারদের ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।

ক্রিকেটারদের যেখানে মীমাংসায় বসার কথা সেখানে আরো দু’টি দাবি বাড়িয়ে অনড় থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে গেলেও পরে তা কেটে যায়। সাকিবও এক ফাঁকে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, ‘আমরা বিসিবির সাথে আগেও যেমন সম্মানবোধ রেখে কথা বলেছিল এখনো আমাদের সে সম্পর্ক রয়েছে।’

এর আগে গণভবনে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্ন ছিল, খেলোয়াড়দের জন্য সবসময় আমার (প্রধানমন্ত্রী) দরজা খোলা। এরপরও না জানিয়ে কেন তারা আন্দোলনে গেল? পাপন জবাব কিভাবে কী দিয়েছেন, সেটা জানা না গেলেও এক রাতের ব্যবধানে বোর্ড সভাপতির মনোভাবে আমূল পরিবর্তন দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে ফিরেই বোর্ডে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ক্রিকেটারদের তার সাথে আলোচনা করতে বসার অনুরোধ জানান বিভিন্ন মাধ্যমে। এ প্রেক্ষিতেই ক্রিকেটারদের সাথে বিসিবির বৈঠক হয়।