'ঔদ্ধত্যপূর্ণ' আচরণের শাস্তি পাবেন সাকিব!

Oct 27, 2019 08:42 am
সাকিব

 

কোনো নিয়ম ভেঙে থাকলে সাকিব আল হাসানকে ছাড় দেয়া হবে না, প্রয়োজনে লিগ্যাল অ্যাকশনে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক সাকিব বিসিবির অনুমতি না নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের পণ্যদূত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে ওই মন্তব্য করেন বিসিবির এই কর্তা।

পাপন বলেন, ‘এই ধরনের চুক্তি কোনোভাবেই সাকিব করতে পারে না। রবি আমাদের টাইটেল স্পন্সর। গ্রামীণ বিডই করল না। এতে তিন বছরে বোর্ডের প্রায় ৯০ কোটি টাকা লস যাবে। খেলোয়াড় লাভবান হলো। কিন্তু বোর্ডের তো ১২টা বেজে গেলো।’

গত ২২ অক্টোবর টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে খেলোয়াড়দের সাথে বিসিবির চুক্তি অনুযায়ী, জাতীয় ক্রিকেট দলের চুক্তিবদ্ধ একজন খেলোয়াড় ইচ্ছেমতো যেকোনো টেলিকম কোম্পানির সাথে যুক্ত হতে পারে না। এ ব্যাপারে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে যাচ্ছি। ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করব। সেটি কোম্পানির কাছেও দাবি করব, খেলোয়াড়ের কাছেও। ছাড় দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

পাশ থেকে বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, ‘আইন ভঙ্গ করলে যে রকম শাস্তি হওয়ার নিয়ম রয়েছে সেরকমই হবে।’

পাপন আরো বলেন, ‘আমার জানা মতে মন্ত্রণালয় থেকেও ওদের বলা আছে, না জানিয়ে টেলকোর সাথে চুক্তি করা যাবে না। আমাদের সাথে চুক্তি তো আছেই। তারপরও আমাদের না জানিয়ে কী করে চুক্তি করে? টাইমিংটা দেখুন। খেলা বন্ধ করে চুক্তি! এগুলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পর্যায়ে পড়ে।

বিসিবি সভাপতি কড়া পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানালেন, ‘বোর্ডের আইন অনুযায়ী এটি কোনোভাবেই করার কথা নয়। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। টেলিকম কোম্পানিও জানে, ক্রিকেটারও জানে। চুক্তিতেই আছে। (সাকিব) এটা কেন করল, ওকে আগে আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এজন্যই আমরা ওকে কারণ দর্শানোর চিঠি দিচ্ছি। তবে একটি ব্যাপার আমরা জানি, এটা সে কোনোমতোই করতে পারে না, সম্পূর্ণ বেআইনি।’

টেলিকম কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি না করার এই বাধ্যবাধকতা শুরু হয় বিসিবির সাথে আরেক টেলিকম কোম্পানি রবির চুক্তির সময়। রবি ছিল বাংলাদেশ দলের স্পন্সর। ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটারদের আরেকটি ফোন কোম্পানির সাথে চুক্তি তাই ছিল সাংঘর্ষিক। গত বছরের আগস্টে নানা কারণ দেখিয়ে বিসিবির সাথে চুক্তি বাতিল করে রবি। তবে ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের চুক্তিতে সেই ধারা থেকেই যায়। আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

তবে নানা সূত্র থেকে ধারণা করা হয়, টেলিকম কোম্পানিগুলো টিম স্পন্সরের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ না করে শীর্ষ ক্রিকেটারদের সাথে ব্যক্তিগত চুক্তি করতেই বেশি আগ্রহী। এতে তাদের ব্যয় অনেক কম হলেও বাণিজ্যিক প্রচারে অনেক বেশি লাভবান হয়। টিম স্পন্সরের ক্ষেত্রে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই টেলিকম কোম্পানির সাথে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপে কড়াকড়ি রেখেছে বোর্ড।