বিশ্ব কবির জীবনে যত প্রেম

Nov 23, 2019 02:24 pm
বিশ্ব কবির জীবনে যত প্রেম

 

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাঁর অমর সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে। তাঁর সাহিত্যে প্রেমের অমর উপস্থাপনা পাঠকদের বিমোহিত করে। সাহিত্য জগতে রবীন্দ্রনাথ অনেক বড় মাপের মানুষ। প্রেমের জগতে ও দান্তে, পেত্রার্ক বা গ্যাটের চেয়ে কোনো অংশেই তিনি কম নন। সরব বা নীরব, দেশী বা বিদেশী, তারুণ্যে বা বার্ধক্যে বিচিত্র প্রেমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে।

আজীবন সৃষ্টিশীল রবীন্দ্রনাথ প্রেমের জন্য ছিলেন বুভুক্ষু। জীবনে বেশ কয়েকবার প্রেমের উত্তাল সমুদ্রে ভেসেছেন বিশ্ব কবি।

১৪ বছর বয়সে কিশোর রবীন্দ্রনাথ প্রথম নারীর সান্নিধ্যে আসেন বৌঠান কাদম্বরী দেবীর সাহচর্যে। রবীন্দ্রনাথের স্থপতি বলে অভিহিত করা হয় জ্যোতি দাদার সহধর্মিণী কাদম্বরী দেবীকে। কাদম্বরী এবং রবীন্দ্রনাথ দুজনে প্রায় সমবয়সী ছিলেন। বয়ঃসন্ধির সংবেদনশীল পর্যায়ে কিশোর মনে ছাপ ফেলতে কাদম্বরীর ভূমিকা ছিল অনন্য। নতুন বৌঠান সম্পর্কে দেবর রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই। কবি তাঁর সাহিত্য চর্চার অনুরাগী ছিলেন। কবির অনেক সাহিত্য সৃষ্টি, কবিতা এই নিঃসঙ্গ, রিক্ত নারীটিকে ঘিরেই।

কবি তাকে নিয়ে ভারতী পত্রিকায় লিখলেন, ‘সেই জানালার ধারটি মনে পড়ে, সেই বাগানের গাছগুলি মনে পড়ে, সেই অশ্রু জলে সিক্ত আমার প্রাণের ভাবগুলিকে মনে পড়ে। আর একজন, সে আমার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল, তাহাকে মনে পড়ে। সে যে আমার খাতায় আমার কবিতার পার্শ্বে হিজিবিজি কাটিয়া দিয়াছিল। সেইটে দেখিয়া আমার চোখে জল আসে। সে-ই তো যথার্থ কবিতা লিখিয়াছিল। তাহার সেই অর্থপূর্ণ হিজিবিজি ছাপা হইল না, আর আমার রচিত গোটা কতক অর্থহীন হিজি-বিজি ছাপা হইয়া গেল।’
অনেক রবীন্দ্র গবেষকই মনে করেন, এই লেখা প্রকাশের পরেই ঠাকুর বাড়িতে আগুন জ্বলে উঠেছিল। আর সে কারণেই রবীন্দ্রনাথের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। এর কিছু দিন পরেই ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে কবির বিয়ে হয়। কিশোরী বৌ দিদির সঙ্গে বালক রবির সম্পর্ক ছিল সৌখিন ও খুনসুটির। দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়ার কারণেই এই সুসম্পর্ক দাঁড়িয়ে ছিল। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘চারুলতা’ আর নষ্টনীড়ে সেই ছাপই যেন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরে ‘ভগ্ন হৃদয়’ গীতি কাব্যের উৎসর্গপত্রে তাকে লক্ষ্য করে অনায়াসে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা।’

রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডাকতেন ‘হেকেটি ঠাকরুন’ বলে। বৌঠান তাকে ডাকতেন ‘ভানু’ নামে। এ নামকরণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘আমরা যাহাকে ভালবাসি, তাহার একটা নতুন নামকরণ করিতে চাই।’ রবীন্দ্র জীবনে এ নিখাঁদ ভালোবাসাবাসি করুণ পরিণতি লাভ করে কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার পর। ১৮৮৪ সালের ১৯ এপ্রিল কাদম্বরী দেবী জোড়া সাকোঁর ঠাকুর বাড়িতে আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেন। অসংখ্য রবীন্দ্র রচনার মধ্যে অন্তত সাতটি গ্রন্থ একই ব্যক্তি কাদম্বরী দেবীকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এক লেখক তাঁর সাত-সাতটি গ্রন্থ একই ব্যক্তির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন এ ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বোধ করি বিরল। রবীন্দ্র মানসে কাদম্বরী দেবী সেই বিরলতম ব্যক্তিত্ব।
মারাঠি তরুণী আন্না তড়খড় রবীন্দ্রনাথের প্রেমে পড়েন। ১৭ বছরের তরুণ কবি মারাঠি তরুণীর রোমান্টিক প্রেমে সরবে না হলেও নীরবে যে সাড়া দিয়েছিলেন তাঁর প্রমাণ মেলে যথেষ্ট। প্রেমিকা আন্না তড়খড়ের নতুন নাম দিলেন রবীন্দ্রনাথ ‘নলিনী’। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বয়সে বড় আন্না তড়খড় অসামান্য সুন্দরী, বিদূষী, বুদ্ধিমতি, রূপ লাবণ্যে ভরপুর এবং বিলাত ফেরত তরুণী। এর কাছে ইংরেজি বলা-কওয়ার পাঠ নেয়ার সঙ্গে বোধ করি প্রেমের পাঠও রবীন্দ্রনাথ নিয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, নলিনী নামটি রবীন্দ্রনাথের খুব প্রিয় ছিল। কবির প্রথম জীবনে রচিত বহুকাব্য-কবিতায়-নাটকে এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায় সে কারণেই। আন্নার জন্য কবি কাব্যের ‘গাথুনি’তে রচনা করেছিলেন- ‘শোন গো নলিনী খোল গো আঁখি’। অচেনা মহল থেকে আপন মানুষের যে দূতী এসে প্রথম প্রথম হৃদয় দখলের সীমানা বড় করে দিলেন- তিনি নিঃসন্দেহে আন্না। প্রায়ই তিনি আসতেন তরুণ কবির কাছে। কত ছুতো করেই না কবির কাছে আসতেন। কবিকে বিমর্ষ দেখলে দিতেন সান্ত্বনা। আর প্রফুল্ল দেখলে পিছন থেকে জড়িয়ে চোখ টিপে ধরতেন। পরে রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন দিলীপ কুমার রায় কে (দ্র: তীর্থ শঙ্কর)- আন্না বলে বসলেন- ‘আহা কী এতো ভাবো আকাশ পাতাল’। অথবা কখনও বা প্রস্তাব পেশ করতেন, আচ্ছা আমার হাত ধরে টানোতো, টাগ-অফ-ওয়ারে দেখি কে জেতে? শেষে একদিন বলে বসলেন আচমকা, ‘জানো কোন মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে যদি তার দস্তানা কেউ চুরি করতে পারে তবে তার অধিকার জন্মায় মেয়েটিকে চুমো খাওয়ার।’

আর তারপর আন্না রবীন্দ্রনাথের আরাম কেদারাটিতে ঢলে পড়লেন নিদ্রাবশে। এক সময় কপট নিদ্রা টুটল। করুণ বিপদে নয়ন পল্লব সিক্ত করে আন্না দেখলেন- তার দস্তানা দুটি তার হাতেই আছে, কেউ চুরি করেনি। কবির লজ্জা কুণ্ঠা স্বভাব আর ভীরুতা এগোতে দেয়নি তাঁকে প্রেমের অনাচরিত পথে। হায় ভীরু প্রেম! কিন্তু কখনও ভোলেননি তাঁকে।
আন্না তড়খড় ছিল ডা. আত্মারাম পান্ডুরংয়ের কন্যা। আন্নার সঙ্গে কবির প্রেম ছিল মাত্র এক মাসের সামান্য কিছু বেশি সময়, জানা যায় বহুদিন তাঁর সঙ্গে কবির যোগাযোগ ছিল পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে।

প্রথম প্রেমের কদম ফুলের এই শিহরণ নিয়েই কবি বিলাতের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন শুক্রবার ১৮৭৮ সালে ‘পুনা’ স্টিমারযোগে। আলেকজান্দ্রিয়া, ব্রিন্দিষি, প্যারিস ঘুরে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাসেক্স কাউন্টির সমুদ্র তীরবর্তী শহর ব্রাইটনে মেজ বউঠান জ্ঞানদা নন্দিনীর বাসায় এসে পৌঁছলেন ১০ অক্টোবর নাগাদ ব্রাইটন আর হোভ-এরগা-লাগাও ‘মেদিনা ভিলা’র বাড়িগুলোর একটিতে। এখানে ভাইঝি ও ভাইপো বিবি সুরণের বিচিত্র উৎপাতে কবির দিন কাটতে লাগলো।

ছোট শহর ব্রাইটেনের ইঙ্গ সমাজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় হয়ে গেল অচিরে। সুদর্শন রবীন্দ্রনাথ তখন আঠারো বছরের তরুণ। বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ। সেখানেও হৃদয়ের লেনদেন হয় স্কট কন্যা লুসির সঙ্গে। প্রেমের ভাঙা গড়া খেলায় প্রবাসী প্রেমিকাকে রচনা করতে হয় বিচ্ছেদের পঙ্ক্তিমালা-
‘কিন্তু আহা, দু’দিনের তরে হেথা এনু,
একটি কোমল প্রাণ ভেঙ্গে রেখে গেনু।’

এ সময় পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রেনাথের চিঠি এসে হাজির- বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়া বন্ধ করে দেশে ফিরে এসো। হঠাৎ এমন তলব কেন? তবে কি কানাঘুষায় রবীন্দ্রনাথের প্রণয় পর্বের কথা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল? জ্ঞানদা নন্দিনী দেবী কি শ্বশুর মশাইকে কিছু জানিয়েছিলেন দেবরের মতিগতি সম্পর্কে।

মজার ঘটনা হলো রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির সংবাদ শুনে লুসি নাকি অভিনন্দন জানিয়ে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে চিঠি লেখেন, যদিও ঠিকানার অঘটনে কবি সে চিঠি পাননি।
১২ বছর পর রবীন্দ্রনাথ যখন আবার লন্ডন যান তখন অতীত প্রেমের আকর্ষণে সেই স্মৃতিধন্য বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। সেই স্কট পরিবার তখন আর সেখানে ছিল না।
রবীন্দ্রনাথের স্বর্গতোক্তি ‘ভারি নিরাশ হৃদয়ে আমার সেই পরিচিত বাড়ি থেকে বেরুলুম।’
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গুঞ্জন ছিল। আর্জেন্টিনা ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ ৬৩ বছরের প্রবীণ। ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর জন্ম ১৮৯০ সালে আর রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। বয়সের দিক দিয়ে ওকম্পো থেকে রবীন্দ্রনাথ ২৯ বছরের বড় ছিলেন। আর্জেন্টিনার প্লাতা নদীর ধারে বিদেশী কন্যা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে কবি বেশ আপন করে নিয়েছিলেন। নোবেল লাভের পর (১৯১৩ খ্রি:) রবীন্দ্রনাথ তখন বিশ্বকবি।

বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্ত সৃষ্টি হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থে বিমুগ্ধ ছিলেন ওকাম্পো। সে কোনো এক ফরাসি সাহিত্যিকের অনূদিত ‘গীতাঞ্জলি’ পড়েই প্রেমে পড়েন রবীন্দ্রনাথের। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব ভ্রমণের এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনায় পা রাখেন। সেখানে পৌঁছেই প্রচুর সংবর্ধনা পেলেন বিশ্বকবি। প্রিয় কবিকে কাছে পেয়ে ওকাম্পো উদ্বেলিত হলেন। ক্রমেই কবির কাছে নিজের ভালোলাগার যে আবেদন প্রকাশ করেছেন তাতে দুজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। প্লাতা নদীর তীর ঘেষে বিশ্ব কবির পথ সঙ্গী হয়েছেন ওকাম্পো। খাবার টেবিলে পড়ে শুনিয়েছেন স্বরচিত কবিতা-

‘হে বিদেশী ফুল, যবে তোমাকে শুধাই বলো দেখি


বলো দেখি মোরে ভুলিবে কি, হাসিয়া দুলাও মাথা,
জানি জানি, মোরে ক্ষণে ক্ষণে
পড়িবে যে মনে
দুই দিন পরে
চলে যাবো দেশান্তরে, যেন দূরের টানে স্বপ্নে আমি হব তব চেনা,
মোরে ভুলিবে না।’
ক’দিনের মধ্যেই মেয়ের বয়সী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের অন্তরঙ্গ নারী। কবি তাঁর নতুন নাম দেন বিজয়া। পুরবী কাব্যগ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেন ‘বিজয়ার’ করকমলে।

এরপর একটি বিতর্ক রয়েছে যে রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় গান ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী’ তাঁকে ভেবেই লেখা। কিন্তু গানটি লেখা হয়েছিল ১৮৯৫ সালে শিলাইদহে। প্রচলিত যে আর্জেন্টিনার ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে মনে করে রবীন্দ্রনাথ এই গানটি লিখেছিলেন, সেটি আসলে ভুল। কারণ রবীন্দ্রনাথ তো আর্জেন্টিনায় যান আরো অনেক পরে সম্ভবত ১৯২৪ সালে।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হেমন্ত বালা রায় চৌধুরীর সম্পর্কের কথাও তুলে এনেছেন রবীন্দ্র জীবনী গবেষকরা। হেমন্তবালা রবীন্দ্র ভাবনার গুণমুগ্ধ পাঠিকা ছিলেন। দু’জনের মধ্যে আলাপ হতো পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে। কবিকে হেমন্ত বালা ডাকতেন ‘কবি দাদা’ বলে। বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক বাধা সত্ত্বেও এমনকি রাতের বেলায়ও কলকাতার ল্যান্স ডাউন রোডের বাড়ি থেকে ঠাকুরদের জোড়া-সাঁকোর বাড়িতে অকস্মাৎ হাজির হতেন তিনি। হেমন্তবালা এক চিঠিতে কবি গুরুকে লিখেছেন- ‘আপনি আমার দেবতা, আমার কল্প লোকের রাজা। আমার দুর্ভাগ্য যে আমার পূর্ণ পূজা আপনার চরণে দিতে পারছি না। আপনি কি আমার মন বুঝতে পারছেন না?’ পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ তার এই গুণমুগ্ধ ভক্তকে আপন করে নিয়েছিলেন তাঁর স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতেই।

স্ত্রী মৃণালিনীর সমবয়সী ভ্রাতুস্পুত্রী ইন্দিরার (রবীন্দ্রনাথের মেজ দাদা সতেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে) জন্য রবীন্দ্রনাথের মন পুড়ত। মনের দিক থেকে এই মেয়েটির সঙ্গে, কবির আত্মিক সম্পর্ক ছিল। ইন্দিরাকে লেখা রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি চিঠি পড়েই তা জানতে পারা যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্থানাধিকারিণী ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক পাওয়া ইন্দিরা বহুদিন অনুঢ়া ছিলেন। ইন্দিরা যেমন সাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন তেমনি ছিলেন সঙ্গীত চর্চায় আগ্রহী। সেই জন্যই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে ইন্দিরার বিয়ে হয় সেকালের ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর সঙ্গে। সাহিত্য সাধনায় তিনি ‘বীরবল’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ইন্দিরার প্রণয়ের সূত্রের খোঁজে অনেকেই খুঁজে বের করেন পত্র বিনিময়ে রবীন্দ্রনাথের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ।
জীবনের শেষ ভাগে রানু অধিকারীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মনের মিলন ঘটে। রানু ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনাথের সব গল্প পড়ে শেষ করেছে। তার পাঠানো চিঠিতে তার অনুযোগ কেন কবি ইদানীং এত কম গল্প লিখছেন? কলকাতায় গিয়ে সেই কিশোরী পৌঢ় কবির সান্নিধ্য পেয়েছে। অনেক রবীন্দ্র গবেষকই মনে করেন তাদের মধ্যে একটি ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেমের আবেশই যোগ হয়েছে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টিকর্মে। রবীন্দ্র সাহিত্যে আমরা যে প্রেমের ধারায় ভাসি তার স্রোতে মিশে আছে অনেক বৈচিত্র্যময় প্রেমের অনুভূতি। কবি প্রেমকে দেখেছেন জীবনের দর্শন খুঁজে পেতে। তাঁর সঙ্গীত ও সাহিত্যকর্মের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে প্রেম। সেই প্রেম সার্বজনীন, পবিত্র, সরল ও আবেগময়।

প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ সফল বা বিফল যাই হোক না কেন, কবি হিসেবে যে তিনি যে জগৎ শ্রেষ্ঠ তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এক একটি প্রেম তাঁকে দিয়েছে এক একটি সৃষ্টি। এক একজন নারীর সান্নিধ্য কবির হৃদয়ে রচনা করেছে এক একটি নতুন পৃথিবী। হ

তথ্যসূত্র :
রবীন্দ্রনাথের যত প্রেম : তানভীর আহমেদ

রবীন্দ্রনাথের বিলাত যাত্রা ও প্রথম প্রেম : বারিদ বরণ ঘোষ

রবীন্দ্রনাথ তার ভালোবাসার নারী এবং পুরুষের সাফল্য : নায়েব জুয়েল

রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো কথন : মুহাম্মদ ফরিদ হাসান