মেঘরাজ্য বান্দরবানে

Nov 23, 2019 02:29 pm
মেঘরাজ্য বান্দরবানে

 

পাহাড় এবং সমুদ্র দুটোই আমাকে সমানভাবে টানে। ভ্রমণপ্রিয় আমি বারবার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই। বিদেশে যেমন বহু জায়গা প্রিয় তেমনি বাংলাদেশের বহু জায়গা আমার খুব প্রিয়। আমাদের দেশ খুব সুন্দর। যতবার রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি যাই মনে হয় নেপাল, ভুটান, দার্জিলিং, সিকিম, সিমলা, মানালির সৌন্দর্যের চেয়ে আমার দেশের পাহাড়ের সৌন্দর্য কোনো অংশেই কম নয়। এত সুন্দর আমাদের দেশ অথচ পৃথিবীর অনেকেই জানে না এখানে প্রকৃতি উদার হয়ে তার সৌন্দর্যের ডানা মেলে আছে।

একবার যখন আমি আমার ছেলে ও বরের সাথে দার্জিলিংয়ের কালিম্পং বেড়াতে গিয়েছিলাম। সারাদিন বেড়িয়ে সন্ধ্যার আগেই রিসোর্টে ফিরেছিলাম। আমাদের রিসোর্টের নাম ছিল আর্টিয়াম। এটা এক পাহাড়ের উপরে ছিল। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে সেই রিসোর্টে যেতে হতো। রিসোর্টের বারান্দা এবং ছাদ থেকে পাহাড়ের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যেত। পাহাড়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্যই আমরা তখন কালিম্পং শহরের হোটেল ভাড়া করিনি। যদিও শহরের হোটেল থেকে সর্বত্র যাতায়াতের গাড়ি সহজলভ্য এবং খরচ কম।

আর্টিয়াম রিসোর্টের বারান্দায় বসে সূর্য ডোবা দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা স্লাইড শো একের পর এক দেখে যাচ্ছি। পুরো আকাশ জুড়ে পেঁজা তুলোর মতন মেঘ উড়ে যাচ্ছিল। কাছে দূরে ছোট-বড় সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। সবুজ পাহাড়ে নীল লাল কমলা রঙ খেলা করছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই থেকে থেকে তক্ষক ডাকছিল। হয়তো আমি মনে মনে কোনো কবিতার চরণ সাজাচ্ছিলাম। সেইক্ষণে নীরব নিস্তব্ধ প্রকৃতিতে তক্ষকের ডাকে আমার ধ্যান ভেঙে ছিল। চাঁদের আলো বাঁধ ভেঙে আমাদের গায়ে আছড়ে পড়ছিল। চারিদিকে জোনাকির ঝিঁ ঝিঁ ডাক, জোনাকির মিটিমিটি আলোর সম্মোহনীতে ভীষণ মুগ্ধ আমি পাহাড়ের প্রেমে পড়ে যাই।

আমাদের পরিবারের চারজন মিলে বান্দবানের উদ্দেশে ঢাকা থেকে সৌদিয়া পরিবহনের এসি বাসে চড়ে রওনা হলাম। বাসে চড়ে ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে প্রায় ৮-১২ঘণ্টা সময় লাগে। বান্দরবান বাজারের কাছে অবস্থিত হোটেল প্লাজা বান্দরবানে আগেই রুম ভাড়া করা ছিল। রুমে যেয়ে একে একে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে লম্বা জার্নির ধকল কিছুটা সামলিয়ে প্রথমেই সন্তানদের নিয়ে গেলাম মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি বান্দরবান শহরে প্রবেশের ৭ কিলোমিটার আগে অবস্থিত। এই পর্যটন স্পটটি উঁচুনিচু পাহাড়বেষ্টিত। একটি লেককে পরিবেষ্টিত করে এটি গড়ে উঠেছে। পানিতে আছে হাঁসের প্যাডেল বোট। ডাঙায় একটি মিনি চিড়িয়াখানা আছে আর আছে রোপওয়ে কার। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের পাশেই আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বান্দরবান পর্যটন হোটেল।

বান্দরবান জেলার একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে স্বর্ণমন্দির। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রিয় উপাসনালয়। বান্দরবান শহর থেকে চার কিলোমিটার উত্তরে বালাঘাটের পাহাড়ের চূড়ায় স্বর্ণমন্দিরটির অবস্থান। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই ‘বৌদ্ধ ধাতুজাদীকে স্বর্ণমন্দির নামকরণ করা হয়েছে। স্বর্ণমন্দিরটির নির্মাণশৈলী চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোর আদলে তৈরি করা হয়েছে। আপনি নীলগিরি এবং নীলাচলের মোহময় রূপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যখন বান্দরবান যাবেন তখন এই স্বর্ণমন্দিরটিকে আপনার বেড়ানোর তালিকায় স্থান দিয়ে দেখে আসতে পারেন। ভালো লাগবে এটা বলতেই পারি।

আমরা মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র এবং স্বর্ণমন্দির বেড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে এলাম। আমাদের পরের দিনের প্রোগ্রাম প্রস্তুত করাই আছে। মনে আনন্দ দোলা দিয়ে যাচ্ছে। যেজন্য বান্দরবান আসা, নীলাচল এবং নীলগিরি আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। মনকে প্রবোধ দিচ্ছি, ‘আহা মন রসো রসো, রাতটা ফুরোতে দিই এসো।’

কি মজা আজ নীলাচল যাবো, বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি যাবো। আমরা একটা ল্যান্ড ক্রুজার জিপ ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম। বান্দরবান শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে নীলাচল। ১৭০০ ফুট উচ্চতায় নীলাচল একটি পর্বতশৃঙ্গ। এখানে নীলাকাশ সবুজ ঘাসের জমিনে যেন তার নীল আঁচল ছড়িয়ে দিয়েছে।

কতটা সুন্দর সজ্জায় নীলাচলকে সাজানো হয়েছে তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। যে দিকেই দৃষ্টি ফেরাই না কেন কেবল সবুজের হাতছানি। নীল আকাশের চাদরে হারিয়ে যেতে চাইলেও পারবেন। নিলাচলে এলে মুগ্ধতায় মন ভরে বলেই তো শত শত পর্যটকের ভিড় লেগেই আছে।

নীলগিরিতে গেলেই মনে হবে হাত দুটোকে ডানা করে পাখির মতন উড়ে বেড়াই। কেউ কেউ মন খুলে গান গাইছে। সেই গানের সুর যেন প্রতিধ্বনিত হতে হতে মেঘে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে। শিশুরা খুশিতে হাতে তালি দিয়ে নাচছে। নীলগিরি থেকে একটু নিচে তাকিয়ে দেখুন, দেখতে পাবেন তির তির করে বয়ে যাচ্ছে সাঙ্গু নদী। ওটা এত নিচে যে আপনার মনে হবে একটা সুতো বুঝি এঁকেবেঁকে গেছে। পূর্বের অতি উচ্চ পর্বত শীর্ষ থেকে সাঙ্গু নদী নেমে এসেছে। এই নদী বান্দরবান শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। বান্দরবান শহরের পূর্বপাশে পাহাড়ি ঢালে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।

যেখানে সারাক্ষণ পাহাড় আর মেঘের মিতালি চলে সেটাই আমাদের নীলগিরি। বান্দরবান জেলাসদর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বদিকে লামা উপজেলায় নীলগিরির অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট ওপরে বাংলাদেশের অপূর্ব পর্যটনকেন্দ্র নীলগিরি যাকে অনেকেই দার্জিলিংয়ের সাথে তুলনা করে। আপনি কি খুব মেঘ ভালোবাসেন? মেঘের ভেলায় ভাসতে ইচ্ছে করে? তাহলে নীলগিরি ভ্রমণের জন্য জুন-জুলাই মাস বা বর্ষাকাল বেছে নিতে পারেন।

বর্ষাকালে মেঘ এসে নিজ থেকেই আপনাকে ঘিরে রাখবে।যেদিকে আপনার চোখ যাবে দেখবেন সবুজ আর সবুজ। চারপাশে সবুজের সমারোহ আর নির্জন প্রকৃতি নীলগিরির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র পূর্ণতা লাভ করে। এখানে একটি ক্যাফেটেরিয়া আছে। মেঘদূত, আকাশলীনা, নীলাঙ্গনা, মারমা হাউজসহ নানা নামের আকর্ষণীয় কটেজ আছে।
নীলগিরিতে রাত্রি যাপন করতে চাইলে এখানকার কটেজ ভাড়া করতে পারেন। তবে কটেজ ভাড়া করতে হলে এবং রেস্টুরেন্টে খেতে হলে অন্তত দেড়মাস আগে বুকিং দিতে হয়। বুকিং এর জন্য সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ের একজন অফিসারের রেফারেন্স অবশ্যই লাগবে। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এসে ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিতে পারেন এখানকার রেস্টুরেন্টে। নীলগিরিতে পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে হলে ৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়। যদিও নীলগিরিতে ঘুরে বেড়াতে কোনো রেফারেন্স লাগে না।

দুর্গম পাহাড়ের চূড়া নীলগিরিতে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভিড় লেগেই আছে। যদি আকাশ দেখার ইচ্ছে পূরণ করতে চান তবে নীলগিরি হবে আদর্শ স্থান। মেঘের অপরূপ নৃত্য দেখতে চাইলেও নীলগিরি আদর্শ স্থান। প্রকৃতির এক অনন্য দান নীলগিরি। মেঘের পরশ পেয়ে আপনি আনন্দে আত্মহারা হবেন। মেঘ নিজ থেকে এসেই আমাদের কাছে ধরা দিলো। আসলে মেঘ তো ধরা যায় না। আমাদের চোখ-মুখের ভেজা অনুভূতি থেকেই মেঘের স্পর্শ টের পাই।

নীলগিরির চূড়া থেকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং,অতি সুন্দর বগা লেক, কক্সবাজারের সমুদ্র, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের মিটমিটি আলোর বাতি এবং পাহাড়ের সারিও দেখা যায়। রাতের নিলগিরি দেখে আমরা অভিভূত! চারিদিকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং তক্ষকের ডাক। পাহাড়ের আলো আঁধারিতে জীবনকে রহস্যময় মনে হচ্ছিল। আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হন তবে রাতের নীলগিরি মিস করবেন না। যদি মেঘ কমে গিয়ে আকাশ ভরা থাকে নক্ষত্ররাজীতে, কেউ যদি বাঁশরিতে সুরের মূর্ছনা তোলে তবে তো আপনি অথই আনন্দে ভাসবেন।

নীলগিরি ছেড়ে আসতে একদম মন চাইছিল না। তবু নীলগিরি বেড়ানো শেষে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সর্পিল রাস্তা ধরে বাংলার পাহাড়ের রানীখ্যাত চিম্বুক পাহাড় দর্শনে এগিয়ে যেতে থাকলাম। নীলগিরি এবং চিম্বুক পাহাড়ের মধ্যে রাস্তার দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। যাওয়ার পথে পাহাড়ের চমৎকার দৃশ্যগুলো মন উদাস করে দেয়। মন ভরে সবুজ দেখে নেওয়ার এই তো সুযোগ। ইট পাথরের নগরীতে এমন মন শান্ত করা সবুজ কোথায় পাব?

নীলগিরির কাছাকাছি বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এই গ্রামগুলো ম্রো উপজাতিদের গ্রাম। নীলগিরির খুব সন্নিকটেই কাপ্রুপাড়া। আমরা সেখানে গেলাম। আদিবাসীদের সাথে ছবি তুললাম। তাদের দোকান থেকে ডাব কিনে খেলাম। নীলগিরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকায় এখানে এলে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হয় না। যেকোনো সমস্যায় সেনা সদস্যরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

আসার পথে যে কাজগুলো করা হয়নি নীলগিরি থেকে বান্দরানের হোটেলে ফিরে যাওয়ার পথে তা করলাম। পথে গাড়ি থামিয়ে আমরা এক ভীষণ সুন্দর শৈলপ্রপাত দেখতে নেমে পড়লাম। এখানে আদি বম তরুণীরা আমাদের স্বাগত জানায়। আদিবাসী দোকানে বিভিন্ন হাতের তৈরি পণ্য সাজিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় বসে আছে বমেরা। এখানকার বেশির ভাগ পণ্য আদিবাসীদের হাতের তৈরি পণ্য। শৈলপ্রপাতে নামতেই শীতল পানির পরশে শরীর জুড়িয়ে গেল। সন্তানদের নিয়ে ভেতরে গেলাম, সেখানে বনের ভেতরে ঝোপঝাড় পেরিয়ে সরু রাস্তা ধরে হেঁটে এলাম। শৈলপ্রপাত থেকে জলের ধারা বয়ে যাচ্ছে। পাথর, নুড়ি কুড়িয়ে নিয়ে আসি এক্কা-দোক্কা খেলব বলে।

এরপরেই আছে স্বপ্নচূড়া। স্বপ্নচূড়া থেকেও বান্দরবানের অপার বিস্ময়কর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। স্বপ্নচূড়া পার হতেই আমরা চিম্বুক পৌঁছে গেলাম। চিম্বুক আমাদের দেশের সব পর্যটকের কাছে পরিচিত নাম। চিম্বুকে টি অ্যান্ড টির বিশাল টাওয়ার আছে। ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তৈরি করেছে একটি রেস্ট হাউজ যেখানে সকল সুবিধা অনায়াসে পাওয়া যাবে। রোডস এবং হাইওয়ের একটি পুরনো রেস্ট হাউজও এখানে আছে।
চিম্বুকে আদিবাসীদের হাতের তৈরি চা খেতে বেশ ভালোই লাগল। এক আদিবাসী কিশোরীর কাছ থেকে কিছু দেশী টক বড়ই কিনে খাওয়া শুরু করলাম। ছবি তোলা কি আর বাদ যায়। বেড়াই আর মোবাইলে ছবি তুলি। স্মৃতির পাতায় সুখস্মৃতি হয়ে এই ছবিগুলোই জমা থাকবে।

বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করলে টাকা এবং সময় দুটোই খুব প্রয়োজন এটা সত্যি। তবে আপনার যদি বেড়ানোর ইচ্ছে থাকে তাহলে উপায় হবেই। আমাদের দেশেও এখন ঘুরে বেড়ানোর অনেক জায়গা আছে। যাতায়াত, থাকা খাওয়া সব কিছুর বন্দোবস্ত বেশ ভালো। দিন দিন মানুষ ভ্রমণপ্রিয় হয়ে ওঠছে। বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ফেলুন। সময় অনুযায়ী থাকার জায়গার বুকিং দিয়ে দিন।
আমার ছোটবোন হলি খুব ঘুরে বেড়ায়। সে খুব ভালো একটা চাকরি করে। ছুটি বলতে কেবলমাত্র শুক্রবারের একটা দিন। কয়েক বছর আগে সে বন্ধু, পরিবার, আত্মীয়দের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর একটা গ্রুপ করেছে। নাম দিয়েছে ‘এমনি এমনি ঘুরাঘুরি’। তাদের ভাষা ‘আমরা তো এমনি এমনি ঘুরি’। প্রায় প্রতি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে দেশের অভ্যন্তরে কোথাও না কোথাও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বেড়ানোর তালিকায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার কত জায়গা যে আছে।

বৃহস্পতিবার অফিস শেষে তাদের যাত্রা শুরু হয়। শুক্রবারে সারাদিন বেড়ায়। কখনো আবার শনিবার যোগ করে নেয়। রাতের গাড়িতে বাড়ি ফিরেই পরদিন সকাল থেকে অফিস করে। ঈদ বা অন্যান্য বড় ছুটি পেলে তো কথাই নেই, একেবারে দেশের বাইরে। গ্রুপের সবাই মিলে অনেক মজা হয়। গ্রুপের সদস্য যত বেশি খরচ তত কম পড়ে। এই কয়েক বছরে তারা বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ জেলার বেড়ানো সম্পন্নের কাছাকাছি চলে এসেছে।

খুব ইচ্ছে করে আমাদের দেশের সুন্দর জায়গাগুলো বিদেশীদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করি এবং তাদের ভালো নিরাপত্তা দিই। তারা বেড়িয়ে যেয়ে অন্যদের বাংলাদেশে বেড়াতে আসার অনুপ্রেরণা দিক। সবাই জানুক বাংলাদেশ নামক খুব সুন্দর একটি দেশ আছে। এখানে সবুজ পাহাড় আছে। পাহাড়ে মেঘেরা খেলা করে। বাংলাদেশের সবুজে চোখ জুড়ায়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়াক। কুয়াকাটা, মনপুরা, রাতারগুল, সেন্ট মার্টিন থেকে ধরে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি সর্বত্রই তাদের পদচারণা পড়ুক।

আমার বাংলাদেশ নিরাপদ এবং সুন্দর পর্যটন দেশ হিসেবে বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিক।