Installateur Notdienst Wien hacklink

পায়ে কেন দুর্গন্ধ হয়?

Dec 02, 2019 02:21 pm
পায়ে কেন দুর্গন্ধ হয়?

 

দুর্গন্ধ দূর করতে বেশ কার্যকর একটি উপায় হচ্ছে বেকিং সোডা। জুতা বা মোজা খুলে রাখার পর কিছুটা বেকিং পাউডার বা বেকিং সোডা ছিটিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন ব্যবহারের আগে বেকিং সোডা ফেলে দিয়ে তার পর ব্যবহার করুন। তবে চামড়ার জুতায় বারবার বেকিং সোডা ব্যবহার করা যাবে না।

অনেকক্ষণ জুতা-মোজা পরে থাকলে কেন পায়ে দুর্গন্ধ হয়?
অনেক সময় খোলা জুতা থেকে বেরোনো তীব্র গন্ধে ঘর ভরে যায়। বিশেষ করে অনেকক্ষণ পরে থাকা জুতা মোজা খুললে তা থেকে মাঝে মধ্যে এই গন্ধটি বের হয়? কেন এই গন্ধ বের হয় চলুন জেনে নিই তাহলে!

এই গন্ধের মূল কারণ ঘাম। এমনিতে ঘাম নিজে কিন্তু বর্ণ-গন্ধহীন। কিন্তু এটি এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। আপনি যখন জুতা-মোজা পরে অনেকক্ষণ থাকেন, তখন এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আপনার পায়ের আবদ্ধ পরিবেশে ভীষণ গরমে পা থেকে বের হওয়া ঘামের পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এই গন্ধের সৃষ্টি করে।
ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকভাবেই সহাবস্থান করে। কিন্তু শরীরে যখন ঘাম হয়, তখন পায়ের পাতার সামনের দিকে ঘামের ঘনত্ব বেশি থাকে। কারণ শরীরের অন্য অংশ বাতাসের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকলেও পায়ের পাতার এই অংশটুকু সাধারণত বাতাসের সংস্পর্শে আসে না।

ফলে পায়ের পাতায় গরমের ফলে তৈরি হয় ঘাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে বেশি ঘনত্বের মরা কোষগুলোকে লক্ষ করে ব্যাকটেরিয়াগুলো এই অংশগুলোতে বেশি মাত্রায় উপস্থিত থাকে। এরা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়
দুর্গন্ধ হওয়ার কারণে জুতা খোলার সাথে সাথেই বিশ্রী গন্ধ চার দিকে ছড়িয়ে পরে, যা বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। যাদের পা খুব বেশি ঘামে, তাদের এই সমস্যায় বেশি পড়তে হয়। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমরা কিছু ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারি। আসুন তেমন কিছু পদ্ধতির কথা দেখে নেয়া যাক।

ষ জুতার মধ্যে এক টুকরো ফেব্রিক সফটনার শিট রেখে দিন রাতে। পরদিন সেটি বের করে জুতা পরুন। গন্ধ একেবারে ভ্যানিশ হয়ে যাবে।

ষ জুতা দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে মাঝে মধ্যে সামান্য লবণ ছিটিয়ে দিন। এক টুকরো কাপড় বা তুলা লবঙ্গ তেলে ভিজিয়ে জুতার মধ্যে রেখে দিন সারারাত। জুতার দুর্গন্ধ দূর হবে।

ষ কয়েকটি লবঙ্গ ফেলে রাখলেও উপকার পাবেন। অথবা লবঙ্গ তেলে তুলা ভিজিয়ে সেই তুলা সারারাত জুতার মাঝে রেখে দিলেও দুর্গন্ধ চলে যাবে।

ষ ফুটন্ত পানি টি-ব্যাগ ফেলে রাখুন দুই মিনিট। টি-ব্যাগ ঠাণ্ডা হলে জুতার মধ্যে রেখে দিন। এক ঘণ্টা পর টি-ব্যাগ সরিয়ে জুতোর ভেতরের অংশ ভালো করে মুছে নিন। দুর্গন্ধের পাশাপাশি দূর হবে জুতায় থাকা ব্যাকটেরিয়া। জুতো পরার আগে পায়ে বেবি পাউডার ব্যবহার করুন। দুর্গন্ধ হবে না জুতায়।

ষ দুর্গন্ধ দূর করতে বেশ কার্যকর একটি উপায় হচ্ছে বেকিং সোডা। জুতা বা মোজা খুলে রাখার পর কিছুটা বেকিং পাউডার বা বেকিং সোডা ছিটিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন ব্যবহারের আগে বেকিং সোডা ফেলে দিয়ে তার পর ব্যবহার করুন। তবে চামড়ার জুতায় বারবার বেকিং সোডা ব্যবহার করা যাবে না।

ষ পুরনো সুতি কাপড় কিংবা মোজার ভেতরে বেকিং সোডা রেখে গিঁট বেঁধে রেখে দিন সারারাত। এতেও খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে চামড়ার জুতোয় বারবার বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না।

ষ আপনার নিত্য ব্যবহৃত টি-ব্যাগ রেখে দিতে পারেন জুতার ভেতরে। এটি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। তাই প্রথমে ফুটন্ত পানিতে টি-ব্যাগ কয়েক মিনিট রেখে দিন। এরপর এটিকে তুলে ঠণ্ডা হলে জুতার মধ্যে রেখে দিন এক ঘণ্টা। এরপর টি-ব্যাগটি ফেলে দিন!

ষ ভিনেগার ব্যবহারের ফলে অ্যাসিডিক (ধপরফরপ) পরিবেশ তৈরি হয় ফলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। এর জন্য যেকোনো ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে আপেল সাইডার ভিনেগার। একটি পাত্রে ছয়-আট কাপ গরম পানি নিয়ে নিন এরপর এর মধ্যে এক-দুই কাপ ভিনেগার মিশিয়ে নিন এবং এই মিশ্রণে পা ভিজিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এরপর সাবান দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন যেন পায়ে ভিনেগারের গন্ধ না থাকে।

ষ জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে জুতার মাঝে কয়েকটি কমলার খোসা সারারাত রেখে দিন। কমলার খোসা সমস্ত দুর্গন্ধ শুষে নেবে। ব্যবহারের আগে খোসাগুলো ফেলে ব্যবহার করুন।

ষ বেবি পাউডার শুধু শিশুদের ত্বকের যতেœ ব্যবহার ছাড়াও নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও বেশ কার্যকর। জুতা পায়ে দেয়ার আগে কিছুটা পাউডার ছিটিয়ে নিন। তবে এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন পাউডার যেন বেশি না হয়।

স্যান্ডেল পরার ক্ষেত্রে যা করবেন :

পানিতে বেকিং সোডা গুলে নিন। সেই পানিতে কাপড় ভিজিয়ে সেটা দিয়ে নিজের পা ভালো করে মুছে নিন। পানি নিজে থেকেই শুকাতে দিন। কাপড়টি ভালো করে চিপে সেটা দিয়ে স্যান্ডেলের ভেতরের দিকটাও মুছে নেবেন। কাপড় যেন খুব বেশি ভেজা না থাকে। এবার পায়ে ডিওডোরেন্ট স্প্রে করুন। তারপর স্যান্ডেল পরুন। দেখবেন, সারাদিন দুর্গন্ধের যন্ত্রণা থেকে সহজেই মুক্তি পাবেন আপনি।

পা দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে মেনে চলুন
ষ ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে দেয়া চলবে না একদম। পায়ের আঙুলের নখ ছোটো করে কেটে রাখুন। নখের গোড়ায় ময়লা জমতে দেবেন না। আর পা পরিষ্কার করে ধোয়ার পর গোড়ালির ময়লা পিউমিক স্টোন ব্যবহার করে ঘষে দূর করুন।
ষ পা ভালো করে পরিষ্কার করে ধুলেই হয়ে গেল না। আরো কাজ আছে। শুকনো করে আঙুলের ফাঁক মুছুন।

ষ চায়ে ট্যানিন থাকে, পায়ে ঢালার জন্য এক কাপ লিকার চা বানান। তিন চা-চামচ চা-পাতা গরম করুন এক লিটার পানিতে। সেটাকে এবার দুই লিটার ঠণ্ডা পানিতে মেশান। আধ ঘণ্টা তাতে পা ভিজিয়ে বসে থাকুন।

ষ আধা লিটার অ্যাপল সিডার ভিনিগার ২০০ মিলিলিটার পানিতে মেশান। এবার তাতে গজ ভিজিয়ে আঙুলের ওপর ওপর দিন। এরপর আপনা থেকে শুকতে দিন পায়ের আঙুলকে।

ষ ল্যাভেন্ডার তেল শুধু গন্ধ ছড়ায় না, ব্যাকটেরিয়া মারতেও কাজে লাগে। চার ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল নিয়ে আঙুলসহ পুরো পায়ের পাতা ম্যাসাজ করুন। এ ছাড়া ফুটবাথ নিয়েও দেখতে পারেন। দুই-তিন ফোঁটা তেল চার লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে বসে থাকুন।

ষ মোজা যখন কাচবেন তখন উল্টে-পাল্টে কাচুন। দুই দিক ভালো করে পরিষ্কার করে ধুতেই হবে, আবার ব্যবহার করার আগে এবং ভেজা মোজা কখনই পরার চেষ্টা করবেন না।

ষ জুতা ছাড়া শুধু মোজা পরে ঘোরাঘুরি করলে মেঝে থেকে অনেক ব্যাকটেরিয়া ধুলোর মাধ্যমে মোজায় বাসা বাধে। তাই বাড়িতে যখন থাকবেন, খালি পায়ে হাঁটুন অথবা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। মোজা পরে কখনোই হাঁটবেন না।

ষ এমন জুতা ব্যবহার রুন, যেটা কাচা যায়। যেমন স্নিকার। রোদের মধ্যে কাচুন। অ্যান্টিসেপ্টিক সলিউশন দিয়ে জুতা, জুতার ফিতা সব আলাদা আলাদা করে পরিষ্কার পানিতে ভেজান। আর যদি জুতা ধোয়া না যায়, তাহলে তুলার মধ্যে অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন দিয়ে জুতার ভেতরটা ভালো করে মুছে ফেলুন। আর শুকাতে দিন রোদে। জুতার মধ্যে জন্ম নেয়া ব্যাকটেরিয়া মরবে এতে। আর গন্ধটাও চলে যাবে।