রানীর তৃপ্তি

Dec 16, 2019 08:41 pm
রানী মুখার্জি

 

লম্বা বিরতি দিয়ে রানী মুখার্জি বড় পর্দায় ফিরেছেন ‘মারদানি টু’ ছবির মাধ্যমে। যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। নাম শিবানী রায়, যিনি বিশ্বাস করেন, যে কোনো মূল্যে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গত ১৩ ডিসেম্বর মুক্তির আগে ছবিটির বিপক্ষে প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা। তবে মুক্তির পর বক্স অফিসে ভালোই ব্যাবসা করছে ছবিটি।

২৫ কোটি রুপি খরচ করে বানানো এই ছবিটি মুক্তির প্রথম দিন শুক্রবার ব্যবসা করেছিলো ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। শনি ও রোববার যথাক্রমে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ও ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যবস্যা করেছে ছবিটি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে এনআরসি ও সিএবি নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও ছবিটি মাস শেষে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবস্থা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রানীর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কারোই প্রশ্ন নেই, তারওপর এই ছবির দুর্দান্ত গল্পের সাথে তার উপস্থিতি ছিলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখার মতো।


গ্ল্যামারস চরিত্র ছেড়ে পুলিশ হয়ে পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে রানী বলেছেন, ‘আপনি যদি মানুষের ভালোবাসা, সম্মান আর মনোযোগ পান, তাহলে আপনি তাদের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করবেন। আর সেই দায়বদ্ধতাকে আপনি যখন শৈল্পিক উপায়ে উপস্থাপন করবেন, তার তৃপ্তি অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।’

অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন, এ ধরনের চরিত্র যেকোনো অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অভিনয়শিল্পীদের এ ধরনের চরিত্র বেছে নেয়ার আগে অনেক রাত ভাববেন। বড় পর্দায় সামাজিক বার্তা দিয়ে বলিউডে স্থান করে নেয়া সহজ নয়। ব্যতিক্রম আয়ুষ্মান খুরানা। অবশ্য ২৩ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির রানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, ৭টি ফিল্মফেয়ারজয়ী রানী মুখার্জির নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনি নেতিবাচক চরিত্র করতে চাইবেন। তাতে নিজের ধূসর দিকটাও দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। অভিনয়শিল্পীর সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে পরীক্ষা করা উচিত। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার সক্ষমতা যাচাই করার এর চেয়ে ভালো উপায় নেই। আমি ভাগ্যবান, আমার ক্যারিয়ারে আমি তেমন সুযোগ পেয়েছি, আর লুফে নিয়েছি। আমি বৈচিত্র্যময় সব রকম চরিত্র করেছি।’

 

রানী মুখার্জী
সোমাবার মুম্বাইয়ে ছবির প্রচারণায় অংশ নিয়ে রানী বলেছেন, আমি বরাবারই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। সেটা অ্যাকশন চরিত্র হোক আর রোমান্টিক। বিনোদিত করার পাশাপাশি শিল্পীরা যদি সামাজিক ক্রটি গুলো থেকে দর্শকদের বের করে না আনতে পারেন তাহলে সার্থকতা থাকে না। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি এই জায়গাটা ঠিক রেখে এগোতে। -ফিল্মফেয়ার ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে লিখেছেন আলমগীর কবির