স্মার্টফোন যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে নারী-পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা

Dec 30, 2019 06:33 am
স্মার্টফোন

 

বায়ুদূষণ ও স্মার্ট ফোন ছেলেমেয়ে উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করে দিচ্ছে। যারা যত বেশি বায়ুদূষণ ও ফোনের রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছে জন্মদান ক্ষমতা তাদের তত বেশি হ্রাস পাচ্ছে। ইনফার্টিলিটি বিষয়ক গবেষকরা জানিয়েছেন, দূষণে ও স্মার্ট ফোনে ছেলেদের অনেক বেশি ক্ষতি হলেও মেয়েদেরও কম হচ্ছে না। অপ্রয়োজনীয় স্মার্ট ফোন ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ রোধ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে কেবলই অন্ধকার অপেক্ষা করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে বড় ধরনের সমীক্ষা না হলেও সন্তান জন্মদানে সমস্যায় পড়া দম্পতিদের পরীক্ষা করে ইনফার্টিলিটি (বন্ধ্যত্ব) চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমনকি অল্প বয়সের ছেলেদের জন্মদানের জন্য যে উপাদানটি প্রয়োজন তাও আজকাল পরিমাণ মতো পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেকের মধ্যে একেবারেই থাকে না।

এ বিষয়ে গবেষকরা বলছেন, ভারী ধাতুকণা এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন ছেলেদের স্পার্ম (শুক্রাণু) অকার্যকর করে দেয়ার জন্য দায়ী। বায়ুদূষণে ডিএনওর ক্ষতি হচ্ছে এবং কোষ গঠনেও সমস্যা সৃষ্টি করছে। ডেইলি টেলিগ্রাফ ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে একটি বিশাল অংশের পুরুষের মধ্যে বন্ধ্যত্বের সমস্যা পাওয়া গেছে। তাইওয়ানের সাড়ে ছয় হাজার পুরুষের মধ্যে পরিচালিত গবেষণা থেকে গবেষকরা উচ্চ বায়ুদূষণে স্পার্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন। এমনকি ২.৫ পিএম (পার্টিকল ম্যাটার) আকারের একটি ভারী ধাতু অত্যন্ত ছোট হলেও তা নব দম্পতিকে অনুর্বর করে দিতে খুবই কার্যকর। গত ৪০ বছরে পশ্চিমা দেশগুলোর পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন কারণে স্পার্ম কমে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। পুরুষের স্পার্ম কমে যাওয়ার পেছনে বায়ুদূষণ, হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয় এমন রাসায়নিক পদার্থ, ডায়েট, স্ট্রেস (মানসিক চাপ), ধূমপান ও স্থূলতাকে দায়ী করছেন গবেষকরা। হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. শিয়াং চিয়ান লাওকে উদ্ধৃত ডেইলি টেলিগ্রাফ এ বিষয়ক রিপোর্টে বলেছে, যদিও গবেষণায় যা পাওয়া গেছে তা এখনো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় তথাপি জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক পারভীন ফাতেমা বলেন, আমরা বাংলাদেশেও অল্প বয়সী ছেলেদের মধ্যে স্পার্ম পাচ্ছি না। এর জন্য বায়ুদূষণ যেমন দায়ী তেমনি দায়ী বর্তমানকার আধুনিক জীবন-যাপন। স্মার্ট ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার স্পার্মকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ল্যাপটপ ব্যবহার করছে কোলে রেখে। ছেলেরা প্যান্টের পকেটে স্মার্ট ফোন রেখে চলাফেরা করছে। ল্যাপটপ ও স্মার্ট ফোনের গরমে স্পার্মগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক পারভীন ফাতেমা আরো বলেন, বেশি বয়সে অথবা কম বয়সে বিয়ে দুটোই খারাপ। বেশি বয়সে বিয়ে করলে মেয়েরা সন্তান ধারণে অক্ষম হয়ে পড়ে। আবার কম বয়সে বিয়ে করলে দ্রুত মা হয়ে নষ্ট করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ সন্তান জন্মানোর ক্ষমতাও নষ্ট করে ফেলে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরো-অ্যান্ড্রোলজি ইউনিটের চিকিৎসক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছু কারণে ছেলেদের স্পার্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে সময় মতো বিয়ে করেও সন্তান জন্ম দিতে পারছে না। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, স্মার্ট ফোনের বেশি ব্যবহার, বেশি বেশি জাঙ্ক ফুড (ফাস্টফুড) খাওয়ার অভ্যাস, পোশাকের ক্ষেত্রে অন্ধভাবে পশ্চিমা স্টাইল অনুসরণ অন্যতম। তিনি জানান, আজকাল ছেলেরা দুই-তিনটা স্মার্ট ফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একটি হাতে রাখলে অবশিষ্টটা থাকে প্যান্টের পকেটে। পকেটের স্মার্ট ফোনের গরম এবং ফোন থেকে ছড়িয়ে পড়া বিকিরণ বা রেডিয়েশন নষ্ট করে দিচ্ছে ছেলেদের জন্মদান ক্ষমতা। জাঙ্ক ফুডে রয়েছে স্টেরওয়েড, থাকে উচ্চ মাত্রার কলেস্টেরল, এখনকার ছেলেদের রাত জাগার প্রবণতা বাড়ছে। ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, রাত জাগলে স্পার্ম পরিস্ফুটন হয় না ঠিক মতো। অতএব পশ্চিমা স্টাইলের জীবন-যাপন পরিত্যাগ করতে হবে। আমাদের দেশীয় পোশাক এবং দেশীয় সংস্কৃতি অনেক বেশি ভালো। এসবে নিজেদের মানিয়ে চললে ভবিষ্যতে সমস্যা কমে যাবে।