রেমিট্যান্স প্রণোদনায় যা ঘটছে

Jan 08, 2020 06:49 am
ডলার

 

বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে দেয়া প্রণোদনায় এখন পর্যন্ত সরকারের ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এই অর্থ মোট তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর এই রেমিট্যান্সের ওপর শতকরা ২ ভাগ হারে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, বিদেশ থেকে কেউ ১০০ টাকা পাঠালে তাকে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ১০২ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ব্যাংকের দেয়া অতিরিক্ত এই দুই টাকা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রণোদনা খাত থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংককে। সেই সময়ে এই ব্যাংকটির বিপরীতে প্রণোদনা খাতে পরিশোধ করা হয় ২৭১ কোটি ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে বলে তাদের দেয়া অর্থের পরিমাণও বেশি। অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এক প্রবাসীর রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫০০ শ’ মার্কিন /সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার (এক লাখ ৫০ হাজার টাকা) অর্থের জন্য ২ শতাংশ হারে কোনো প্রকার কাগজপত্র ব্যতিরেকে প্রণোদনাসুবিধা দেয়া হয়। একজন প্রবাসী প্রতিবার ১৫০০ ডলার করে প্রতিদিন যত ইচ্ছে তত রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারবেন। এ জন্য তাকে শতকরা ২ ভাগ হারে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তফসিলি ব্যাংকগুলো বরাবর ২ ভাগ প্রণোদনা হিসেবে এক হাজার ৪২৭ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে। বর্তমানে ১০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।

বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬২৮ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। অন্য দিকে, চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে একই সময়ে (জুলাই-নভেম্বর) পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৭৭১ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ২৩ শতাংশ। এই হারে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই অবশিষ্ট অর্থ শেষ হয়ে যাবে। তাই চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হলে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অবশিষ্ট ১৫৩০ কোটি টাকার পুরোটাই ছাড় করে দেয়া উচিত।

এই চিঠির জবাবে অর্থ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে প্রণোদনার তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থ একই সাথে ছাড় করা সম্ভব নয়। আপাতত তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করার জন্য অর্থ সচিবের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এই নির্দেশনা দেয়ার পরই প্রণোদনা তৃতীয় কিস্তির ৭৬৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রণোদনা দেয়ার কারণে দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণও আগে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এখন বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ এ খাতের জন্য রাখা হয়েছে তার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ এ বছরে লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত খাত থেকে অর্থের সংস্থান করা হবে।