বেহালে ভারতের হাল!

Jan 13, 2020 10:30 pm
বেহালে ভারতের হাল!

 

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হাল) দ্রুত জঙ্গি বিমান, প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারের নতুন অর্ডার প্রয়োজন। কোম্পানির উৎপাদন যাতে থমকে না যায় সেজন্য এই নতুন অর্ডারের প্রয়োজন বলে সরকারের দুজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

২০২১-২২ সালের পরে হালের কাছে কোন অর্ডার নেই এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে নতুন অর্ডার জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

উপরে উল্লেখিত দুই কর্মকর্তার একজন জানিয়েছেন, কোম্পানিটি আশা করছে চলতি অর্থবছর শেষের আগেই ভারতীয় বিমান বাহিনী বহু বিলিয়ন ডলারের লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট (এলসিএ) তেজাস বিমানের অর্ডার দেবে। বিমান বাহিনীর ৮৩টি এলসিএ এমকে-১এ বিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং এটা নিয়ে সব মিলিয়ে তেজাস বিমানের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৩টি।

দ্বিতীয় কর্মকর্তা জানান, আরেকটি যে অর্ডারের দিকে তাকিয়ে আছে হাল, সেটি হলো বিমান বাহিনীকে স্থানীয়ভাবে তৈরি ৭০টি প্রশিক্ষণ বিমান হস্তান্তর করা। যদি তারা হিন্দুস্তান টার্বো ট্রেইনার-৪০ (এইচটিটি-৪০) বিমানের অর্ডার পায়, তাহলে ২০২১ সালের শুরুর দিকে উৎপাদন শুরু করতে পারবে হাল।

বর্তমানে যে সব অর্ডার রয়েছে হালের কাছে, সেগুলো অনুযায়ী ২৪টি এলসিএ বিমান এবং কয়েকটি সুখোই-৩০ বিমান বিমান বাহিনীকে সরবরাহ করতে হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত মাসে প্রতিরক্ষা বিষয়ক পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটিকে জানিয়েছে, “হালের উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে বাড়ছে এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯,৭০৫ কোটি রুপির উৎপাদন করেছে তারা। তবে, বিমান ও হেলিকপ্টারের বর্তমান অর্ডারের বড় অংশই ২০১৯-২০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে”।

মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, নতুর্ন অর্ডার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। “যেহেতু অর্ডারের পর বিমান/হেলিকপ্টারের উৎপাদন শুরু হবে ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়, সে কারণে হাল আশঙ্কা করছে যে, নিশ্চিত অর্ডার পাওয়া না গেলে কোম্পানি অলস বসে থাকবে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে”।

গত মাসে পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এক রিপোর্টে কমিটি বলেছে, “প্রতিরক্ষা সরকারী খাত যাতে উন্নতি করতে পারে সে জন্য ‘অর্ডার বুকিং’ নিশ্চিত করতে ‘সব ধরণের পদক্ষেপ’ নিতে হবে। এবং এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া দরকার।

প্যানেল এক রিপোর্টে বলেছে, “সরকারী প্রতিরক্ষা খাতের উৎপাদন যেহেতু সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদার উপর নির্ভরশীল, সে জন্য কমিটি সুপারিশ করছে যাতে কোম্পানির কাছে বাহিনীগুলো সময়মতো অর্ডার দেয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও যাতে সময়মতো অর্থ সহায়তা দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করে, যাতে ডিপিএসইউ-এর উৎপাদনের মাত্রা হ্রাস না পায়”।