Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama

জীবন বদলে দিতে ২০ পরিবর্তন

Jan 26, 2020 04:47 pm
জীবন বদলে দিতে ২০ পরিবর্তন

 

জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কথা আমরা প্রায়ই ভাবি, কিন্তু আজ নয় কাল করে করে পরিবর্তনটা আর আনা হয় না। নতুন বছর এলে অনেকেই এই সুযোগে জীবনটা নতুন ছকে ফেলার কথা ভাবেন। আবেগের বশবর্তী নানা ধরনের বড় নাটকীয় সংকল্প বা রেজ্যুলুশন গ্রহণ করে ফেলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই বেশি দিন সেই সংকল্পে টিকে থাকতে পারেন না।

সুতরাং, নতুন বছরে জীবনে বড় অবাস্তব সংকল্প নয়, বরং ছোট ছোট বাস্তব ও সহজসাধ্য পরিবর্তন আনার কথা ভাবুন। এমন অনেক কিছু আছে যা করা খুব কঠিন নয়, কিন্তু এর প্রভাব আমাদের জীবনে অনেক। যেমন, এ বছর এলোমেলো ঘুমের রুটিনটাকে পরিবর্তন করে ঠিক সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে পারেন, টাকা-পয়সা খরচের বেলায় একটু হিসেবি হতে পারেন, সুষম খাবার খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে পারেন, বা প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করা কমাতে পারেন। চলুন দেখি কী কী করা যায় জীবনটা আরেকটু সুন্দর ও সহজ করার জন্য।

ঘুমাতে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। প্রতিদিন সেই সময় ঘুমাতে যান। যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, তাই সকালে কয়টা বাজে উঠতে হবে সেই হিসাব করে ঘুমাতে যাওয়ার সময়টা ঠিক করুন। যদি সকাল ৬টায় উঠতে হয় তাহলে রাত ১০টার মধ্যে অবশ্যই বিছানায় যেতে হবে। আর ঘুমাতে যাওয়ার সেই নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক এক ঘণ্টা আগের একটি অ্যালার্ম আপনার ফোনে সেট করে নিন যেটা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে, এক ঘণ্টা পর আপনাকে ঘুমাতে হবে। সুতরাং, আপনি ঘুমের প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে পারবেন। যেমন, ঘুমের পোশাক পরা, দাঁত ব্রাশ করা, হাত-মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ করা ইত্যাদি। এই এক ঘণ্টা সময় শুধু এ ধরনের কাজই করবেন, যাতে মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য তৈরি হয়।

ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে আপনার মুঠোফোনটি সুইচ অফ করে দিন। টেলিভিশন বা কম্পিউটার থেকেও দূরে থাকুন এই সময়। এ ছাড়াও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম আধাঘণ্টা মুঠোফোন থেকে দূরে থাকুন। এ সময়টা সারা দিনের প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগান।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বই পড়–ন। বই পড়ার অভ্যাস ব্রেইনকে কার্যকর রাখার জন্য খুবই জরুরি। বই পড়লে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি দুটোই বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া ২০১৬ সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট বই পড়ে, তারা অন্যদের তুলনায় দীর্ঘদিন বাঁচে। তাই ঘুমানোর আগে বই পড়তে পারেন। এতে করে ঘুমও তাড়াতাড়ি আসবে।

সপ্তাহে চার দিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করুন। এটা যেকোনো ধরনের ব্যায়াম হতে পারে, হতে পারে সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, জগিং, হাঁটা বা জিমে গিয়ে ব্যায়াম। প্রথমেই সপ্তাহের চারটি দিন ঠিক করে নিন, যে দিনগুলোতে আপনি ব্যায়াম করবেন, তারপর সময় পছন্দ করুন। দিনের কোন সময়টা থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়ামের জন্য ব্যয় করতে চান সিদ্ধান্ত নিন। মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন যাতে ভুলে না যান। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে। কিন্তু রুটিন ধরে ব্যায়াম চালিয়ে যান, পরিবর্তন নিজেই টের পাবেন। আগের চেয়ে বেশি এনার্জি পাবেন, শরীরটা ঝরঝরে মনে হবে।
এ বছর খাবার তালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দিন। এতে একদিকে মাসল সুগঠিত হবে, অন্যদিকে বাড়তি ওজনও কমবে। প্রোটিন হজম হতে বেশি সময় লাগে, ফলে ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। যেমনÑ সকালবেলা নাশতায় সিরিয়াল খেলে খুব তাড়াতাড়িই ক্ষুধা লেগে যায়, দুপুরের খাবারের আগে অন্যকিছু খেতে হয়, কিন্তু নাশতায় ডিম খেলে সেটা অনেকক্ষণ পেটে থাকে। এ ছাড়াও খাবার তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন শস্য ও বাদাম রাখুন।
ঘন ঘন রেস্টুরেন্টে খাওয়া বা বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করার অভ্যাস কমিয়ে ঘরেই রান্না করুন তিনবেলার খাবার। এটা যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তেমনি মানিব্যাগের ওপরও চাপ কমায়।

নতুন বছরে টাকা জমানোর দিকে নজর দিন। প্রতি মাসের শুরুতে বাজেট তৈরি করুন। এতে করে আপনি দেখতে পারবেন কোথায় কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচ করছেন। ফলে সেসব খরচ কমিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে। বাজেটের কারণে আপনার টাকার ওপর আপনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। মাস শেষে আপনাকে ভাবতে হবে না এতগুলো টাকা কোথায় গেল, কিভাবে খরচ হলো।
বাসার ওয়ারড্রোব ঘেটে দেখুন এমন অনেক কাপড় আছে যা অনেক মাস বা বছর হয়েছে আপনি একবারের জন্যও পরেননি, ভবিষ্যতেও পরবেন কি না জানা নেই। এগুলো দান করে দিন দুঃস্থদের জন্য। মনে প্রশান্তি পাবেন, ওয়ারড্রোবেও জায়গা খালি হবে।
মাঝে মধ্যে এদিক সেদিক বেড়ানোর চেষ্টা করুন। দূরে কোথাও যেতে হবে না। এলাকার মাঝেই আশেপাশে কোথাও, অথবা পাশের পাড়ায়, বা শহরের মাঝেই বেড়ানোর জায়গা খুঁজে নিন।

নতুন বছরে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি কিছু খারাপ অভ্যাসও ত্যাগ করা যেতে পারে। শুরু করুন প্লাস্টিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থেকে। এটি পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা তো সবারই জানা আছে। অন্যরা প্লাস্টিক ব্যবহার করলেও আপনি করবেন না, পরিবর্তনের শুরু করুন নিজেকে দিয়ে। স্ট্র ব্যবহার করা বন্ধ করুন, প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে কাগজ, কাপড় বা চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন এবং কোনো জিনিস একবার ব্যবহার করে ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করুন।
ধূমপান করা ত্যাগ করতে যদি নাই পারেন, অন্তত পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন। প্রতিদিন যতটি সিগারেট খান তার চেয়ে একটা কম খান। শরীর ও পরিবেশ দুটোই কিছুটা হলেও কম ক্ষতির মুখোমুখি হলো।

খাবার অপচয় বন্ধ করুন। যতটুকু খেতে পারবেন ততটুকুই প্লেটে নিন। রান্না বা অর্ডার করুন পরিমাণমতো। তারপরও যদি বেশি হয়ে যায়, ফ্রিজে রেখে দিন পরে খাবার জন্য অথবা এমন কাউকে দিয়ে দিন যার খাবার প্রয়োজন। যদি তাও সম্ভব না হয়, অন্তত খাবারটা ফেলবেন না, এটি কম্পোস্ট করে প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করুন।

অফিস ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে সমন্বয় আনুন। কাজে এতটাই ডুবে যাবেন না যে, নিজের জীবন বলতে কিছুই থাকে না। সময়মতো অফিসে যাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি প্রতিদিন সময়মতো অফিস থেকে বের হওয়াও জরুরি। বাড়ি পৌঁছে পরিবারকে সময় দেয়া, নিজে বিশ্রাম নেয়া, প্রার্থনা করা, বই পড়া, গান শোনা, মুভি দেখা- সবই দরকার আছে জীবনে। বাসায় পৌঁছে অফিসের কাজ নিয়ে ভাববেন না, অফিসের মেইল চেক করবেন না। যদি এমন কোনো চাকরি করেন যেটা করতে গিয়ে নিজের বলতে কোনো সময়ই আপনার থাকছে না, তাহলে নতুন চাকরি খুঁজুন।

দিনের বেশির ভাগ সময় অফিসেই কাটে। তাই অফিসে এমন সহকর্মীদের সাথে সময় কাটানো উচিত যারা ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী। যারা আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে, বা অযথা নেতিবাচক চিন্তা মনে ঢুকিয়ে দেয়, নতুন বছরে তাদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

যদি মনে হয় অফিসে আপনি একটি প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্ট অথবা অন্তত একটু বেশি সম্মানের দাবিদার, অবশ্যই মুখ ফুটে বলুন। নিজ থেকে না বললে কখনোই হয়তো পাবেন না, পেলেও অনেক দেরিতে।

বন্ধুদের সময় দিন, তাদের জন্য ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করুন। মাঝে মধ্যে একটি সন্ধ্যা প্রাণখুলে গল্প-আড্ডায় কাটিয়ে দেখুন, অনেক ভালো বোধ করবেন। কাজকর্ম ও সংসারের নানা বিষয়ের চিন্তার যে বোঝা রয়েছে মাথায়, তা অনেকটাই হালকা মনে হবে।
রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হোন। বুঝতে শিখুন আপনাকে সুখে রাখার দায়িত্ব কিন্তু আপনার সঙ্গীর নয়, বরং আপনার নিজের। বেশি নির্ভরতা সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি করে। আপনার মনের কথা আপনি ছাড়া অন্য কেউ বুঝে নিতে পারবে না। তাই আশা করবেন না আপনার মন খারাপ হলে তা নিজে থেকে বুঝে নিয়ে আপনার সঙ্গী ফুলের তোড়া নিয়ে আসবে মন ভালো করতে।

পুরনো দুঃখ-কষ্টের স্মৃতি ভুলে যান। যারা কষ্ট দিয়েছে তাদেরকে নিজের জীবনে স্থান দেয়া না দেয়া একান্তই আপনার নিজের সিদ্ধান্ত, কিন্তু তাদের সবাইকে মনে মনে মাফ করে দিয়ে নিজের মনকে বোঝামুক্ত করে ফেলুন।

কিছুদিন পরপর নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই লক্ষ্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে নিজেকে ছোট ছোট উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করুন।

একটি ডায়রি রাখুন হাতের কাছে। নতুন বছরে কী কী পেলেন তার হিসাব রাখুন। প্রতিদিন আপনার সাথে ভালোলাগার মতো কী কী ঘটল ছোট্ট করে টুকে রাখুন, তা সে যত ছোট ঘটনাই হোক না কেন। ভালো জিনিসগুলোর হিসাব রাখুন, মানসিকভাবে খুব ভালো বোধ করবেন।