Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama

ট্রাম্পের শঠতা

Feb 12, 2020 05:34 pm
ট্রাম্প ও প্যালোসি

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রসিকিউটর গ্লেন কিরচনার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের লক্ষ্য করে কয়েকটি প্রশ্ন রেখেছেন। প্রশ্নগুলো ট্রাম্পের গোঁড়া সমর্থকদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। ট্রাম্পের শঠতার বিষয়টি সবাই জানেন। তিনি ডাহা মিথ্যা বলেছেন- এই রেকর্ড সবার কাছে রয়েছে। ফ্যাক্ট চেকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে যাচাই করে থাকে। দেখা গেছে, তার দাবি করা প্রতিশ্রুতির ৬৮ শতাংশই ভিত্তিহীন। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে ট্রাম্প ৪৯২টি মিথ্যা বলেছিলেন। ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি ১৫ হাজার ৪১৩ মিথ্যা বলে ফেলেছেন। এই যখন ট্রাম্পের নৈতিক অবস্থান, তখন গ্লেন কিরচনারের প্রশ্নটি একটি মোক্ষম আঘাত ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান সমর্থকদের প্রতি। তবে এ কথাটি সত্য, অনেক মানুষ জেনেও সত্যকে গ্রহণ করে না।

ট্রাম্পের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসততার ব্যাপারটি সবার কাছে স্পষ্ট। একই সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্পের সমর্থনও বেড়ে যাচ্ছে। সততা ও সত্যনিষ্ঠার প্রতি আমেরিকার জনমানুষের প্রত্যয় প্রশ্নবিদ্ধ হলো। ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান সমর্থকদের লক্ষ্যে তাই কিরচনারের এ প্রশ্ন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, ট্রাম্প যদি ডাক্তার হতেন তাহলে তার সমর্থকরা কি রোগী হিসেবে তার ডায়াগনসিস বা রোগ নির্ণয়ের ওপর আস্থা রাখতে পারতেন? কিংবা তিনি একজন আর্কিটেক্ট হলে ভবন বানানোর জন্য তার তৈরি করা নকশা কি তারা গ্রহণ করতেন? অন্য প্রশ্নটি আরো জোরালো। অনেকে দুর্ঘটনার ভয়ে বিমানে ওঠেন না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি জানেন পাইলটের মাথা খারাপ, তাহলে সেই বিমানে কি তিনি চড়বেন? সাবেক ওই প্রসিকিউটর ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন, ট্রাম্প পাইলট হলে তারই চালানো বিমানে তারা চড়বেন কি? সম্ভবত এই সমর্থকদের কেউ পাইলট ট্রাম্পের বিমানে উঠবেন না। তাহলে কিভাবে রাষ্ট্রের চালক হিসেবে এই আমেরিকানরা ট্রাম্পকে সমর্থন করতে পারেন? তিনি কি অন্যায় অসততার চর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্রটিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করছেন না?

রিপাবলিকান সিনেটররা ভোটাভুটিতে বাতিল করে দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ‘সাফসুতরো’ করে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা দুটো অভিযোগের একটি হলো, তিনি ইউক্রেন সরকারকে চাপ দিয়েছিলেন যাতে করে ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের পারিবারিক ‘ব্যবসার জালিয়াতি’ প্রকাশ করা যায়। বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে একে বন্ধ করে দিতে চান। প্রথমে একটি অন্যায় কর্ম সম্পাদন, পরে সেটা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করে দুটো অপরাধ তিনি করেছেন।

প্রতিনিধি পরিষদে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেখানে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের জন্য সেটা পাস হলো। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিনেটে এ অভিযোগ থেকে পার পেয়ে গেলেন ট্রাম্প। সংখ্যার জোর যদি অপরাধ বিবেচনার মানদণ্ড হয়, তাহলে আমেরিকার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কী? এই আলোচনা এখন আমেরিকায় শুরু হয়েছে। অনেকে ট্রাম্পের আমল শেষ হলে তার বিরুদ্ধে একটি কমিশন গঠনের কথা বলছেন, যেখানে ট্রাম্পের করা যত অপরাধ সবগুলোর বিচার করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকায় এখন ট্রাম্প শক্তিশালী একজন প্রেসিডেন্ট। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার আবারো নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে যাওযার পরই ট্রাম্পের আগ্রাসী তৎপরতা আরো বেগবান হয়েছে। তিনি তার প্রশাসন থেকে সেসব কর্মকর্তাকে বাছাই করেছেন, যারা বিবেকের তাড়নায় সত্যের পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন। প্রথমেই তিনি এ ধরনের দু’জনকে চাকরিচ্যুত করেছেন- তাদের একজন সামরিক কর্মকর্তা ও অন্যজন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। এ ব্যাপারে তিনি তার রিপাবলিকান সহকর্মীদের অনুরোধ অনুনয় বিনয়কে পাত্তা দিচ্ছেন না। কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে বিবেকবান সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের চুপ করিয়ে দিচ্ছেন সারাজীবনের জন্য। এ অবস্থায় কেউ সত্য বলতে এগিয়ে আসবেন না। এভাবে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের ‘রাজতান্ত্রিক ক্ষমতা’ অর্জনের পথে হাঁটছে। এখন তিনি তার বিরুদ্ধে যতসব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সেগুলো ‘কবর দেয়া’র কাজ শুরু করছেন। তার কোনো অপকর্মের তথ্যপ্রমাণ তিনি আর রাখবেন না। সত্য ও মিথ্যার এ লড়াইয়ে ট্রাম্প আপাতত জয়ী। তাই সত্য প্রকাশিত হওয়ার সব পথ তিনি বন্ধ করে দেবেন।

কয়েকটি দেশকে যদি ‘গণতন্ত্রের মডেল’ ধরা হয়, যুক্তরাষ্ট্র একেবারে প্রথম কাতারে পড়বে এর মধ্যে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিযোগিতা নিয়ে উত্থিত সমাজতন্ত্রকে পরাস্থ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেও গণতন্ত্রের একটি ধরনের চর্চাকারী। পুতিনকে স্বৈরাচারী, একনায়কতান্ত্রিক কিংবা গণতন্ত্রের অলিগর্কি প্রতিষ্ঠাকারী ইত্যাদি যাই বলা হোক, তিনি কিন্তু গণতন্ত্রের নামেই ধাপ্পা দিচ্ছেন। বিস্তৃত দীর্ঘ ও মসৃণ গণতন্ত্র চর্চার পর আমেরিকা নিজে একটি গোলযোগের অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। রিপাবলিকান শিবিরে উগ্র মারমুখী ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপ্রবেশের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলো। ‘মারমার কাটকাট’ বক্তব্য ও ভাবসাব দিয়ে রাজনীতিতে তার আবির্ভাব। তাকে পছন্দ করছেন এমন মানুষ প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে।

কিন্তু তলে তলে আমেরিকান সমাজের বৃহত্তম অংশ তাকে সমর্থন করেছেন। আমেরিকায় একটি অভিজাত সুন্দর গণতন্ত্র চর্চা হয়েছে। কিন্তু দেশটির মানুষের মনের গহিনে কী লুকিয়ে রয়েছে, সেটাই ট্রাম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেল। জনগণের মধ্যে হিংসাবিদ্বেষ ভণ্ডামি বর্ণবাদ কত বেশি গেড়ে আছে, সেটা আবারো প্রমাণ হলো। গৃহযুদ্ধ বা তার আগে আমেরিকায় চরম বিশৃঙ্খলার যুগ ছিল, তখন মানুষের মধ্যে যে বর্ণবাদ ছিল সেটাই আবার ফুঁড়ে বের হলো। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির জনসমর্থন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগের মধ্যেই ট্রাম্পের জনসমর্থন বেড়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগটি সবাই জানেন। এ বিষয় যখন তদন্ত শুরু হলো; ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেটা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। সেটাও সবাই জানেন। এর মধ্যে তিনি ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেয়ার আগের দিন এক জরিপে দেখা গেল, তার জনসমর্থন বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। নৈতিক স্খলন প্রেসিডেন্টের প্রতি জনসাধারণের সমর্থন আদায়ের পথে বাধা না হয়ে তা বাড়ার কারণ হলো।

আমেরিকা কি আবার পুরনো বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির কবলে পড়ে যাচ্ছে? আর তাদের গণতন্ত্র কি ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক দেশের দিকে যাত্রা শুরু করল। এমন অনেক দেশই পৃথিবীতে রয়েছে, যাদের গণতন্ত্র চর্চা জনগণের কোনো কল্যাণে আসছে না। সাধারণ মানুষ সেখানে দর্শক মাত্র। আমেরিকার গণতন্ত্র জনগণের সমর্থনে এখনো সর্বোচ্চ মাত্রায় কার্যকর। জনগণের মনের পরিবর্তনের হাওয়াই ট্রাম্পকে ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু গণতন্ত্র যখন ভঙ্গুর হয়ে যাবে, জনসমর্থন সেভাবে আর কার্যকর থাকবে না। এমন অনেক দেশই রয়েছে যারা নামে গণতান্ত্রিক; কিন্তু সেখানে মানুষের ভোটের অধিকার নেই। অর্থাৎ তাদের জনগণের মতামতের কোনো মূল্যই নেই।

দীর্ঘ দিন গণতন্ত্র চর্চা করছে এমন অনেক দেশে গণতন্ত্র জনগণের কল্যাণে খুব একটা সুফল বয়ে আনতে পারেনি। অনেক দেশে গণতন্ত্রের পরিণতি ঠেকেছে এক দিনের ভোটদানের মধ্যে। আবার অনেক দেশে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেই দেয়া হচ্ছে না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবশ্য অবস্থার এতটা অবনতি হয়নি। সেখানে ভোটের দিনটি এখনো জনগণের হাতে রয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে সেখানে ভোট দিতে পারছে। তবে জনগণের ভোটকে প্রতারিত করা হচ্ছে। দেশটিতে সংখ্যালঘুরা লাঞ্ছিত অসহায় অবস্থার মধ্যে পতিত হচ্ছে। অন্য দিকে বাংলাদেশে ঘটছে বিপরীত। এ দেশে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার এবং জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রথমে তাদের ভোটদানে বাধা দেয়া হয়েছে অথবা তাদের ভোটদান কোনো কাজে অসেনি। জনগণের পছন্দের প্রার্থী বেশি জনসমর্থন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি। পরে দেখা গেল, জনগণ নিরুৎসাহিত হয়ে আর ভোটকেন্দ্রেই আসছে না। সম্প্রতি ঢাকা সিটি নির্বাচনে এমন দৃশ্য দেখা গেল। নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই কমিশনকে মানুষ এখন আর বিশ্বাস করে না।

ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দারুণ বিকাশ বিগত দশকগুলোতে মানুষ লক্ষ করেছে। সেখানে প্রতিযোগী দলগুলো রাজনীতি চর্চা করেছে স্বাচ্ছন্দ্যে। সবার রাজনীতি করার সুযোগ সমান ছিল। উদার রাজনীতি চর্চা সেখানে গণতন্ত্রের শত্রুদের রাজনীতির মাঠে প্রভাবশালী করে তোলে। এ সুযোগে কট্টর সাম্প্রদায়িক শক্তি ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সংখ্যাগুরু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নামে তারা সেখানে চাপিয়ে দিয়েছে সংখ্যালঘুদের ওপর লাঞ্ছনা অপমান বঞ্চনা।

আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন কানাগলিতে গিয়ে ঠেকেছে। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের যে চর্চা, সেটাকে বন্দী করে ফেলা হয়েছে। বক্তৃতা-বিবৃতি রাবার স্ট্যাম্পের মধ্যে বিরোধী দল সীমিত হয়ে গেছে। এর আগের ইতিহাস হলো সরকার ক্রমান্বয়ে বিরোধীদের জন্য রাজনীতি করার ‘স্পেস’ কমিয়ে দেয়। শেষে বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাসাবাড়িতে ঢুকতে বাধ্য হয়। সেখানেও পুলিশ হানা দিলো ‘জঙ্গি’ তৎপরতার নামে। তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এক অনিশ্চিত যাত্রা দৃশ্যমান। এ থেকে জাতিকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টাও নেই।

আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিও কি একই দিকে যাত্রা শুরু করেছে? এর লক্ষণ কি ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একা কি এ জন্য দায়ী, না দেশটির বৃহৎ দল রিপাবলিকানরা এ পথে হাঁটতে শুরু করেছেন নিজেদের অজান্তে? একটি প্রকাশ্য অন্যায় অনিয়মকে তারা দলীয়ভাবে সমর্থন করে এর সূচনা করেছেন। সূচনাপর্বে একে যদি ভণ্ডুল করতে আমেরিকানরা ব্যর্থ হয়, তাহলে এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের গণতন্ত্রের রূপ ধারণ করতে পারে। গণতন্ত্র এতটা দুর্বল হতে হয়তো কিছু সময় লেগে যাবে।

এতে আর কোনো সন্দেহ নেই, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় গণতন্ত্রে প্রভাব ফেলেছে। তবে সেখানে দ্রুতই একটি দল প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকে একেবারে গ্রাস করতে পারবে, এমনটি নিশ্চিত নয়। ট্রাম্পকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা হয়েছে। এই রাজনৈতিক বৈরিতা শেষপর্যায়ে দেশটিকে কতদূর নিয়ে যায়, সেটা কৌতূহলের বিষয়। আদৌ দেশটির গণতন্ত্রের মজবুত ভিত টিকে থাকবে, না ক্রমেই টলমল হতে থাকবে, সেটা এখন দেখার বিষয়। আপাতত ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের আত্মসমর্পণের যে হাল দেখা যাচ্ছে তাতে বোঝা যায়, এই গণতন্ত্রের একটি একটি করে মৌলিক ভিত্তি অচিরেই ধসে পড়তে শুরু করবে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয়বারের মতো ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দিতে কংগ্রেস ভবনে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে আমেরিকার রাজনীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির প্রতি এমন আচরণ ট্রাম্প করলেন, সেটা অন্যদের জন্য মেনে নেয়া অনেক কঠিন। পেলোসি ট্রাম্পের প্রতি করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প অবজ্ঞাভরে তার সাথে করমর্দনের আগ্রহকে অগ্রাহ্য করেন। মূলত স্পিকার পেলোসির আমন্ত্রণেই ট্রাম্প সেখানে ভাষণ দিতে এসেছেন। এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের ‘সিম্বল হাউজ’, যার প্রধান অভিভাবক স্পিকার পেলোসি। এভাবে ঘরে এসে মেজবানকে অপমান করার ঘটনাটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর প্রতিশোধও তাৎক্ষণিক খুব কঠোরভাবে নিয়েছেন পেলোসি। ভাষণ শেষে পেলোসি পুরো পৃথিবীর সামনে তাচ্ছিল্যের সাথে ট্রাম্পের সে ভাষণের কপিটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।

এভাবে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে সবার চোখের সামনে বড়গলায় তার রাজত্ব চালিয়ে যান; সে দেশের আইনের শাসনের অধঃপতন শুরু হওয়া নিশ্চিত। আমেরিকা ভেতর থেকে ক্ষয়ে যাওয়ার লক্ষণ এটি। একজন মিথ্যুক লোভী মানুষের একের পর এক অন্যায় করার পরও দম্ভের সাথে ক্ষমতায় টিকে যাওয়া বাকি বিশ্বের জন্য দুঃখজনক বার্তা বহন করে। ট্রাম্প থেমে থাকবেন না। অভিশংসনের হাত থেকে বাঁচার পর তিনি প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছেন।

[email protected]