Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama

ভালোবাসার উষ্ণতা ফুল বাজারে

Feb 13, 2020 10:49 pm
ফাগুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বেড়ে গেছে ফুলের বিক্রি

 

বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা/কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে... গানটির সাথে পরিচিত নন এমন লোক মেলা ভার। ফাগুন এলেই স্থানে স্থানে বেজে উঠে গানটি। ছড়িয়ে দেয় ফাগুনের বাড়তি আমেজ।

ফাগুনের প্রথম দিনে বাসন্তি সাজে সেজে তরুণীরা ঘুরে বেড়ায়। খোপায় গোলাপ গুঁজে না দিলে যেন বাসন্তি সাজ পূর্ণতা পায় না। আবার অনেকে হাতে, গলায়, পুরো মাথা সাজিয়ে তুলেন ফুলের মালায়।

এবার পহেলা ফাগুনের সাথে যুক্ত হয়েছে ভালোবাসা দিবস।

পহেলা ফাগুন আর ভালোবাসা দিবস মিলে একাকার প্রেমিক মন। কেউ সাজবেন বাসন্তি সাজে আবার কেউ বা একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে কড়া নাড়বেন প্রেমিক মনে।

ফাগুন আর ভালোবাসা দিবসের যুগল বন্ধনে এবার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ফুলের বাজারে। বছরের অন্যান্য সময় প্রতিটি গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও সেই ফুলের দাম বৃহস্পতিবার মান ও জাত ভেদে হাঁকা হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

অন্যান্য ফুলের অবস্থাও যে একেবারে কম তা নয়। জারবারা, ডালিয়া, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ অন্যান্য ফুলের দামও চড়া।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি ফুলের বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারের অবস্থান ভেদেও রয়েছে ফুলের দামের তারতম্য। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীতে যে গোলাপের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা, সেই একই ফুলের দাম আগারগাঁও, শাহবাগ ও কাঁটাবনে মিলছে প্রায় অর্ধেক দামে।

রাজধানীর শাহবাগ ফুলের মার্কেটে ফুল কিনছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার। কথা হলে তিনি জানান, আগামীকাল শুক্রবার ফুলের দাম বাড়বে। সে জন্য সে আগে থেকেই ফুল কিনে রাখছেন। তাছাড়া কাল ঘুরাফেরা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।

শাহিদা জানান, প্রতিবছর ভালোবাসা দিবসে ফুলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যায়। এবার ভালোবাসা দিবসের সাথে ফাগুন যুক্ত হয়েছে। তাই ফুলের চাহিদা থাকবে বেশি। বিক্রেতারা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ফুলের অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অপর একজন ক্রেতা হাসিব বলেন, ফুলের একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। ফুলের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সাভার থেকে আসা ফুল ব্যবসায়ী রফিকুল হায়দার বলেন, ফুলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বছরের অন্যান্য সময় ফুলের দাম কম পেলেও এখন ভালো পাচ্ছেন। ১০০ গোলাপ তিনি পাইকারী ৬০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। জারবারা বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা দরে। এবারের মৌসুমে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন রফিকুল।

দেখা যায়, একদিন আগে থেকেই খুচরা ফুল ব্যবসায়ীরা গোলাপ, ক্লাডিওলাস, জারবারাসহ অন্যান্য চাহিদাসম্পন্ন ফুল মজুদ করে রেখেছেন। বেশি মূল্যে বিক্রির আশায় আপাতত কম দামে ছাড়ছেন না।

কথা হলে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আব্দুর রহীম জানান, এবারের মৌসুমে ভালোবাসা দিবসের সাথে ফাগুন যুক্ত হওয়ায় ফুল বিক্রিতে অন্যান্য সময়ের টার্গেট ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি বলেন, আগে জারবারা আমদানি হতো। এখন চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হচ্ছে। দামও কম। গোলাপের ক্ষেত্রেও একই। যা চাহিদা রয়েছে তার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হচ্ছে। আগে লম্বা স্টিকের গোলাপ আমদানি হতো, এখন তা হয় না বললেই চলে।

সব ঠিক থাকলে এবারের মৌসুলে ফুল বিক্রি ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।