উৎপত্তি নিয়ে রহস্যের ধূম্রজাল

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন | Mar 30, 2020 10:02 am
উৎপত্তি নিয়ে রহস্যের ধূম্রজাল

উৎপত্তি নিয়ে রহস্যের ধূম্রজাল - সংগৃহীত

 

দুনিয়াজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের মহাতঙ্ক। গোটা বিশ্বের মিডিয়ায় এখন শিরোনামের ভাষা একরকম: ভাইরাস, সংক্রমণ, মৃত্যু, কোয়ারেন্টিন, লকডাউন। এ ভয়ঙ্কর ভাইরাসের সঙ্গে একসাথে লড়াই করছে আমেরিকা থেকে জাপান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ডেনমার্কের সর্বস্তরের মানুষ। ইতোমধ্যে ১৯৯টি দেশের ছয় লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ২৫ হাজার। ইতালি ও স্পেন কার্যত মৃত্যুপুরী। ইতালিতে করোনায় কেড়ে নিয়েছে আট হাজার ১৬৫ মানুষের প্রাণ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭১২ জনের। স্পেনে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি। এরই মধ্যে বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আক্রান্ত ৪৮ জন। সব ধরনের ভিড় ও জনসমাগম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বলতে গেলে, পুরো দেশকে লকডাউন করা হয়েছে। এতে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কোথা থেকে এলো এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। নানা অজানা ও রহস্যপূর্ণ তথ্য গবেষণায় উঠে আসছে । রহস্যের ধূম্্রজাল ভেদ করে আসল তথ্য বের করা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দায়িত্ব। অন্যথায় একই ভাইরাস অথবা এর চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর অনুজীব অথবা প্যারাসাইটের ছোবলে মানবসভ্যতার অস্থিত্ব হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। এ ভাইরাস কি প্রকৃতিগতভাবে ছড়িয়েছে, না কি কোনো ল্যাব থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়ানো হয়েছে? মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের স্বার্থে এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। চীন এবং ইরান সন্দেহের তীর ছুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় জনগণ লিখছেন, চীনকে শায়েস্তা করতে যুক্তরাষ্ট্র জীবাণু অস্ত্র হিসেবে চীনে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে গেছে।

বিবিসি জানায়, একজন চীনা কূটনীতিক তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন, উহানে গত বছর অক্টোবর মাসে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল এই ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র টুইটারে মার্চের ১১ তারিখে একটি মার্কিন কংগ্রেস কমিটির সামনে সে দেশের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (ঈউঈ) প্রধান রবার্ট রেডফিল্ডের একটি শুনানির ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেছেন। ওই ফুটেজে রেডফিল্ড যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ইনফ্লুয়েঞ্জা-জনিত মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বলছেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে করোনাভাইরাসের কারণেই ওই মৃত্যু।

চীনা ওই কূটনীতিক টুইটারে লিখেছেন, ‘সিডিসি ধরা পড়ে গেছে। কখন প্রথম রোগীটি যুক্তরাষ্ট্রে মারা গিয়েছিল? কত মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল? কোন কোন হাসপাতালে? হতে পারে, যেসব মার্কিন সেনা উহানে ওই ভাইরাস এনেছিল তারাই... স্বচ্ছ হোন। মানুষকে সত্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাই।’

লাইভ সায়েন্স আর বিবিসি সূত্রে জানা যায়, ইরানের সরকারি প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে দেশটির সাধারণ মানুষ পর্যন্ত দাবি করছেন, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রেরই তৈরি করা। ইরানের ইসলামী রেভুল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা একটি জীবাণু অস্ত্র। ৫ মার্চ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে চীনে এবং পরে ইরানের বিরুদ্ধে ‘জীবাণু অস্ত্রের সন্ত্রাসী হামলা’ চালিয়েছে। এর পরদিন ৬ মার্চ ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হেশমাতোল্লাহ ফাতালহাতপিশে বলেন, ‘ট্রাম্প এবং পম্পেও করোনা নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন...। এটা কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটা ইরান ও চীনের বিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্রের হামলা।’

অনেকে মনে করেন সাপ, বাদুড় ও বনরুই থেকে মানবশরীরে ঢুকে পড়েছে করোনা ভাইরাস। চীনে এসব প্রাণী খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। করোনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাজনীতির চর্চাও থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ভাষায় এটা নাকি ‘উহান ভাইরাস’ ।
চীনের ল্যাবরেটরিতে এই ভাইরাস জৈব অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিলÑ এমন অনুমান করেছেন অনেকে। বলা হয়, এতে চীনের তিনটি লাভ। এক, হংকংয়ে বিক্ষোভ দমন করা। দুই, সারা দুনিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস করে চীনা পণ্য দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া। তিন, সারা বিশ্বে চীনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা। ড. ড্যানি শোহাম নামের, ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন টাইমসকে জানিয়েছেন যে, উহানে চীনের একটি গোপন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ নামে পরিচিত। সেখানে প্রাণঘাতী নানা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং নতুন নতুন জীবাণু অস্ত্র তৈরি করা হয়। তিনি নাকি উহান প্রদেশের ওই গবেষণাগারে এক সময় কাজ করতেন। মেডিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী শোহাম ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীতে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বব্যাপী জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। চীন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চীনের মুখপাত্র জি রং বলেন, ‘নোভেল করোনাভাইরাসের উৎস বিজ্ঞানের বিষয়, এটা বৈজ্ঞানিক পেশাদার এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার বিষয়। চীন এই ভাইরাস সৃষ্টি করেনি। তারা এই ভাইরাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েও দেয়নি।’ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে চীনের গোপন জীবাণু প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে চীন কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক জৈব অস্ত্র তার কাছে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ কোটি ডলারের মামলা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস আদালতে। আইনজীবী ল্যারি ক্লেইমান ২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরিমানার দাবি তুলেছেন এই মামলায়। ক্লেইমানের অভিযোগ, ‘জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর কাজ করছিল চীন। উহানের ল্যাবে দীর্ঘদিন ধরেই করোনাভাইরাসের ওপর গবেষণা চালাচ্ছিল চীন। কোনোভাবে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াতেই এই বিপত্তি ঘটেছে। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের কাছে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে যাচ্ছে তারা।’ আদালত এই মামলা আমলে নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ও বিশ্বখ্যাত ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনজন গবেষকের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, এই ভাইরাস চীনের উহানের স্থানীয় পশুর মার্কেট থেকে ছড়িয়ে পড়েছে, এখন পর্যন্ত এটাই প্রমাণিত। পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন একদল বিজ্ঞানী মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘জীবজন্তুর শরীর থেকেই এই করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে।’ বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাসের যে জিন রহস্য (জীবন রহস্য), তা পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে, এটি গবেষণাগারে তৈরি করা কোনো ভাইরাস নয়। আর এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার অনির্ভরশীল সূত্র থেকে তথ্য নেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

করোনার ক্ষেত্রে জীবাণু অস্ত্রের ধারণা একেবারেই বাতিল করে দেয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগ পুরনো। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগের হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০-৮১ সাল পর্যন্ত কিউবায় ডেঙ্গুজ্বরে কয়েক লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এ সময় কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো ডেঙ্গুজ্বরকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু আক্রমণ’ বলে অভিযোগ করেছিলেন। ১৯৮১ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোকামাকড়ের মাধ্যমে জীবাণু অস্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালগিপ্টি মশার মাধ্যমে আফ্রিকায় ‘ইয়েলো ফিভার’ ছড়ানো হয়েছে।

৪০ বছর ও ১২ বছর আগে প্রকাশিত দুটি গ্রন্থে করোনা ভাইরাসের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এটা কি কাকতালীয়, না অন্য কিছু? এমনও হতে পারে লেখকদের সাথে জীববিজ্ঞানী বা জীবাণু অস্ত্র প্রস্তুতকারীদের যোগসূত্র আছে। মার্কিন লেখিকা সিলভিয়া ব্রাউন প্রায় এক যুগ আগে একটি বই লিখেছিলেন। বইয়ের নাম ঊহফ ড়ভ উধুং: চৎবফরপঃরড়হং ধহফ চৎড়ঢ়যবপরবং অনড়ঁঃ ঃযব ঊহফ ড়ভ ঃযব ডড়ৎষফ. বইটিতে তিনি একটি ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ওই বইয়ে তিনি লিখেছেন, ২০২০ সালের দিকে সারা বিশ্বে একটি ভাইরাস মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ১২ বছর আগের এই ভবিষ্যৎবাণী সঠিক হলো। বইটি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। বইটির লেখিকার মতে, ‘২০২০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে মারাত্মক নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়বে, ফুসফুস এবং ব্রঙ্কিয়াল টিউবগুলোতে সংক্রমণ করবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, লক্ষ করার বিষয় হলোÑ এটি হঠাৎ করে আসার সাথে সাথে আবার হঠাৎ চলে যাবে। ১০ বছর পরে আবার আক্রমণ করবে এবং তারপর সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাবে।’

১৯৮১ সালে মার্কিন লেখক ডিন রে কুন্তজ তার ঞযব ঊুবং ঙভ উধৎশহবংং-এ উহান-৪০০ নামক একটি মহামারী ভাইরাসের কথা লিখেছেন যদিও তা কোভিড-১৯ নয়। তার রচিত উপন্যাস এবং ছোটগ্রন্থের সংখ্যা ১০৪। যা বিক্রি হয়েছে ৪০৫০ মিলিয়ন কপি। ৩৮টি ভাষায় তার লেখা অনূদিত হয়েছে।
এটি আসলে করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যদ্বাণী এবং তা প্রথমে রাশিয়া, পরে চীন থেকেই সৃষ্ট বলে উক্ত গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সেই উহান-৪০০ এর সাথে করোনার অনেক সাদৃশ্য। কেউ কেউ দ্বিমত প্রকাশ করে বলেছেন, সেটা কাল্পনিক আর করোনা বাস্তব। লেখক উপন্যাসে মহামারী উহান-৪০০’এ শতভাগ মৃত্যুর হার বলেছেন আর গবেষকরা এখনো করোনাভাইরাস সম্পর্কে বলছেন যে, বর্তমান মৃত্যুর হার প্রায় ০২ শতাংশ।

তবে রহস্যজনক মিলগুলো হচ্ছেÑ গ্রন্থের ৩৩৩ পৃষ্ঠায় মারাত্মক উহান-৪০০ বনাম কোভিড-১৯ ভাইরাস, গ্রন্থের ৩১২ পৃষ্ঠায় সময় ২০২০ সাল, উৎপত্তি স্থান চীন থেকে আমেরিকা, ইত্যাদি। আরো উল্লেখ্য, কাল্পনিক ‘উহান-৪০০ কোভিড-১৯’এর তুলনায় প্রায় চার ঘণ্টা একটি ইনকিউবেশন পিরিয়ড থাকে যা দুটি থেকে ১৪ দিনের মধ্যে গোসলে সময়কাল ধারণ করে।
বইটির চরিত্রগুলোর মধ্যে আরো উল্লেখ আছে যে, উহান ‘ব্যয়বহুল সংযোজন’, একটি বায়োউইপোন, যা কেবল মানবকেই আক্রান্ত করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মেরে ফেলে। মানবদেহের বাইরে এক মিনিটেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না, যার অর্থÑ এটি অ্যানথ্রাক্স এবং অন্যান্য জীবাণুযুক্ত অণুজীবগুলোতে যেভাবে কোনো বস্তু বা পুরো জায়গা দূষিত করতে পারে না। উহান-৪০০ একটি শহর বা একটি দেশ মুছে ফেলবে (সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, ১৯৮১ সালে ডিন কুন্তজ উপন্যাসে ‘করোনার পূর্বাভাস!’ মার্চ ১৯, ২০২০)।

এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোনো যৌক্তিক উপসংহারে পৌঁছানো এ মুহূর্তে সম্ভব না হলেও করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে বিশ^বাসীর কৌতূহল থেকে যাবে। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের এ রহস্যের কুজ্ঝটিকা ভেদ করতে হবে। অতীতে প্লেগ, কলেরা, মহামারী ও গুটিবসন্ত এক এক এলাকা ও জনপদে বিস্তৃতি লাভ করেছিল এবং মানুষের মৃত্যু ঘটে। একসাথে গোটা পৃথিবীর মানুষকে বিপর্যস্ত করে দিলো ‘করোনা’। প্রকৃতিগত বা জীবাণু ল্যাব থেকে নির্গত ভাইরাস যাতে মানবজাতিকে বিপর্যস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশ^ নেতাদের ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হবে। ভাইরাসের উৎস বন্ধ করে দিতে হবে। অন্যথায় পৃথিবী আবাসযোগ্যতা হারাবে; সভ্যতার চাকা থেমে যাবে; দেশীয় ব্যবসায় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। খাদ্যাভাবে দিনমজুরসহ নি¤œ আয়ের মানুষ মারা যাবে দলে দলে। একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীবের কাছে বিশে^র ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো যে কত অসহায়, গত তিন মাসের ঘটনাপ্রবাহ তার প্রমাণ। বিশ^চরাচরের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিপতি একমাত্র আল্লাহতায়ালা। আমরা তাঁর সৃষ্ট ক্ষুদ্র বান্দা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে আমরা বাধ্য। আমাদের জ্ঞানসাধনা, চেতনার পরিধি, প্রজ্ঞা ও সজ্ঞার গভীরতা একেবারেই সীমিত ও পরিমিত। করোনা এ বার্তা নিয়ে এসেছে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ওমর গণি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: [email protected]

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us