জিদানের ঢুঁ, অবশেষে মাতেরাজ্জির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক | May 04, 2020 03:09 pm
জিদানের ঢুঁ, অবশেষে মাতেরাজ্জির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

জিদানের ঢুঁ, অবশেষে মাতেরাজ্জির বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি - সংগৃহীত

 

২০০৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল। এখনো সেই ছবি অনেকের চোখে ভাসে। ইতালির মাতেরাজ্জির সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর এগিয়ে মাথায় ঢুঁ মারছেন ফ্রান্সের তারকা ফুটলার জিনেদিন জিদান। তারপর লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরোচ্ছেন ফরাসি তারকা। ২০০৬-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিস্মিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। ইতালি চ্যাম্পিয়ন হলেও সেই একজন ডিফেন্ডারের জন্যই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা ধিক্কার জানিয়েছিল ইটাতীয়দের। কিন্তু এতদিন যা বলেননি মাতেরাজ্জি, এবার সেই কথাটাই বলে ফেললেন। জানালেন, কেন সেদিন ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন জিদান। কতখানি অশালীন ছিল মাতেরাজ্জির মন্তব্য।

“মনে বড় আঘাত পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করুন, এই ধরনের কথা আমি কখনো বলতে চাইনি। তারপর কখনো বলিওনি। জিদানকে আটকাতে না পারার জন্য গাটুসোর থেকে ধমক খাচ্ছিলাম। তাই জিদানকে আটকাতে শার্ট ধরে বেশ কয়েকবার টানাটানি করি। ভেবেছিলাম ঠান্ডা মাথায় জিদান খেলে যাবেন। কিন্তু আমার ফাঁদে যে পা দেবেন ভাবিনি। একবার শার্ট ধরে টানায় আমাকে বলে বসল, তুমি কি আমার শার্টটা নিতে চাইছ? আমি মাথা গরম করে বলে বসি, তোমার শার্ট নয়, চাইছি তোমার বোনকে।”

ইতালিয়ান মিডিয়া প্যাশন ইন্টারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি মাতেরাজ্জির। তিনি খেলার মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা ঝামেলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। যাতে জিদান না খেলতে পারেন। তিনি যে সেই ট্যাকটিক্সে সফল তা না বললেও চলে। মাতেরাজ্জি পরে স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, “ঝামেলা হোক চাইছিলাম। প্রত্যেকে চায় প্রতিপক্ষকে হারাতে। শান্ত থাকার কথা সকলেই বলে। কিন্তু করে দেখানোর কাজটা সত্যিই কঠিন। ম্যাচের পরে সকলে জয়ের আনন্দে ভেসে গিয়েছিলাম। সেবার আমাদের দলটার কথা ভাবুন। পির্লো, গাটুসোর মতো ফুটবলার দলে ছিল। পির্লোকে খুব শান্ত মনে হয়। আসলে প্রচন্ড চতুর।”

তবে মাতেরাজ্জিকে এখনো আঘাত করে স্টেডিয়ামে দর্শকদের আচরণ। “বহুবার দেখেছি স্টেডিয়ামে আমাকে ও বালোতেলিকে নিয়ে প্রচুর গালিগালাজ চলে। কখনো আমাকে ডাকা হয়েছে ডাইনির ছেলে। কেন? নাপোলির কাউকে বললে দেখবেন ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যাবে। রেফারিরা শক্ত হতে পারতেন।”

ওই ঘটনা নিয়ে উইকেপিডিয়অয় বলা হয়, ভিডিও চিত্র থেকে মাতেরাজ্জির জিদানকে শব্দগতভাবে প্ররোচিত করার প্রমাণ পাওয়ার পর, ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের তিনটি সংবাদপত্র মাতেরাজ্জি কী বলেছিল তা জানার জন্য ঠোঁটের পাঠক নিযুক্ত করে। দ্য টাইমস, দ্য সান এবং ডেইলি স্টার দাবি করে যে মাতেরাজ্জি জিদানকে বলেছিলেন, "সন্ত্রাসী বেশ্যা পুত্র"। ২০০৮ সালে, দ্য সান এবং ডেইলি স্টার মাতেরাজ্জির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করে, এবং মাতেরাজ্জি তিনটি ব্রিটিশ সংবাদপত্র থেকে ক্ষতিপূরণ লাভ করে।

জিদান শুধুমাত্র আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করেন যে তার মা সম্পর্কে কঠোর অপমানের পুনরাবৃত্তির কারণে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া করেছেন। মাতেরাজ্জি জিদানকে বাজে কথা বলার কথা স্বীকার করেন, কিন্তু যুক্তি দেখান যে জিদানের ব্যবহার খুবই অহংকারী ছিল এবং তার মন্তব্য ছিল তুচ্ছ।[ মাতেরাজ্জি এছাড়াও জোড় দিয়ে বলেন যে তিনি জিদানের মাকে অপমান করেননি (যিনি সেসময় অসুস্থ ছিলেন), তিনি বলেন, "আমি তার মা সম্পর্কে কথা বলিনি। আমার বয়স যখন পনের, তখন আমি আমার মাকে হারিয়েছি, এবং এখনও এ সম্পর্কে কথা বললে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি।"

জিদান পরবর্তীকালে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন, তবে যোগ করেন যে তিনি তার অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন না, কারণ তিনি মনে করেন যে তা মাতেরাজ্জির কর্মকে ক্ষমার যোগ্য করে তুলবে।

দুই মাস পর, মাতেরাজ্জি ঘটনাটি সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন, তিনি বলেন যে যখন তিনি জিদানের জার্সি ধরে টান দেন, তখন জিদান বলেন, "যদি তুমি আমার শার্ট চাও, তাহলে আমি এটি তোমাকে পরে দেব," এবং তিনি জিদানের কথার উত্তরে বলেন যে তাহলে তিনি তার বোনকেই পছন্দ করেন।

তবে মাতেরাজ্জি সাক্ষাত্‍কারে বলেন যে তিনি জানতেন না জিদানের নিজের কোন বোন আছে। ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর, মাতেরাজ্জি নিশ্চিত করেন যে জিদানের প্রতি তার সুনির্দিষ্ট কথাটি ছিল: "আমি সেই বেশ্যাকে পছন্দ করি যে তোমার বোন"।


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: [email protected]

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us