ভারতের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

কপল কাজল | Aug 15, 2020 06:52 am
ভারতের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

ভারতের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির মুখে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল - ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ৪৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শতাধিক ধরনের আইটেম আমদানি বন্ধ করে দেবে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরাইলের মতো প্রধান প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারীর কাছ থেকে ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। ভারত যদি দেশে উৎপাদনের এসব টার্গেট পূরণ করতে পারে, আগামী বছরগুলো থেকে এসব দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র আমদানি করতে হবে না।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাষ্যানুযায়ী, ভারত ২০১৪-১৯ সময়কালে সৌদি আরবের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। ওই সময় ভারত ১৬.৭ বিলিয়ন ডলারের, তথা বিশ্বের মোট পরিমাণের ৯.৭ ভাগ অস্ত্র আমদানি করত। ভারতের মোট আমদানির ৫৫ ভাগ সরবরাহ করত রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পূরণ করত যথাক্রমে ১৪ ভাগ ও ১২ ভাগ।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৯ আগস্ট টুইটে বলেন, তার মন্ত্রণালয় ১০১টি আইটেমের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এসব আইটেমের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার একটি বড় পর্যায় হবে।
রাজনাথ বলেন, নিষেধাজ্ঞা ২০২০ থেকে ২০২৪ সময়কালে নিষেধাজ্ঞাটি ব্যাপকভাবে পালিত হবে। আরেক টুইটে তিনি বলেন, সরকার দেশের বার্ষিক উৎপাদন ২৫ বিলিয়ন ডলারে ও রফতানি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এ কে সিওয়াচ নিক্কিই এশিয়ান রিভিউকে বলেন, রাশিয়া ও ইসরাইল থেকে আমরা যেসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনি তা হ্রাস পাবে। আর্টিলারি, হেলিকপ্টার ইত্যাদির মতো অনেক কিছু এখানে অনেক সস্তায় উৎপাদন করা যাবে।
তালিকায় থাকা ১০১টি আইটেমের মধ্যে আছে আর্টিলারি গান, অ্যাসাল্ট রাইফেল, করভেটস, সোনার সিস্টেম, পরিবহন বিমান, হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার, রাডার। এই ১০১টি আইটেমের মধ্যে ৬৯টি ডিসেম্বর থেকেই আমদানি হবে না।

সিওয়াচ বলেন, ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমানের মতো সরঞ্জাম তৈরী করতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার কে৯ থান্ডার সেল্প-প্রপেলড হাউটজার ও যুক্তরাষ্ট্রের এম৭৭৭ টাউড আর্টিলারি অস্ত্র ভারতের যথাক্রমে লারসেন অ্যান্ড টারব্রো ও মহিন্দ্র গ্রুপ নির্মাণ করবে।
ভারত সম্প্রতি কে৯ থান্ডারের ১০০টি ইউনিট তৈরি করেছে। ভারতের তৈরী এসব অস্ত্রের নাম হয়েছে কে৯ বজ্র।

সিওয়াচ বলেন, আমাদের এসব অস্ত্র বিদেশ থেকে আনার দরকার নেই। এই পদক্ষেপ বিলম্বে নেয়া হলেও ভালো পদক্ষেপ।
ভারত ঐতিহ্যগতভাবেই অস্ত্র আমদানির দেশ। তবে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশীয়ভাবে অস্ত্র তৈরির ওপর ব্যাপক জোর দেয়া হয়েছে। আত্মনির্ভরতা অর্জনের এই পদক্ষেপের ফলে ইসরাইল থেকে ছোট অস্ত্র ও হালকা মেশিন গান, ইতালি থেকে সুপার-রেডিড ৭৬ এমএম নেভাল গান, রাশিয়া থেকে একে-৭৪ অ্যাসাল্ট আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। রাশিয়ার কাছ থেকে আর্টিলারি আমদানি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। কারণ ভারত ১২২ এমএম গ্রাড রকেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছ ২০২২ সাল থেকে।

বিমান খাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াম-আল্টিটুড লং-অ্যান্ডুরেন্স (এমএএলই) সশস্ত্র ডিডেটর-বি ড্রোন আমদানি বাতিল হতে পারে। রাশিয়ার ক্যঅমভ ক-২২৬টি হেলিকপ্টারও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে।
হালকা যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার আমদানিও বন্ধ হবে। ভারতে আরো আগে থেকেই এসব অস্ত্র নির্মাণ শুরু হয়েছে।
স্বল্প পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র আমদানি বন্ধ করার পরিকল্পনায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে। আমেরিকান নাসামস-২ নেটওয়ার্কড বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত নৌবাহিনীর ক্রুইজ ক্ষেপণাস্ত্র আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে তারা এগুলো আমদানি করত। এই আমদানি রাশিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেয়া কিলো-ক্লাস সাবমেরিনের ওপর প্রভাব পড়বে।

দিল্লি ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো মনোজ যোশি নিক্কিকে বলেন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ফ্রান্স থেকে ছোট জেট আমদানি করত ভারত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এগুলো আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে ভারত এত দ্রুত সময়ে দেশে এগুলো নির্মাণ করতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে তিনি সন্দেহ করেন।
মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির প্রাথমিক লক্ষ ছিল উৎপাদনের মাধ্যমে চাকরি সৃষ্টি। তবে ১০১টি আইটেমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ওই লক্ষ্য অর্জনে খুব বেশি সাফল্য আনবে না।
মনোহর পরিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের সিনিয়র ফেলো আজেলেলে বলেন, ভারত এই তালিকার বেশির ভাগ পণ্য আগে থেকেই তৈরী করত। ফলে চাকরি সৃষ্টি কতটুকু করবে, সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এই গ্রুপ ক্যাপ্টেন বলেন, তবে এতে প্রতিরক্ষা খাতের আরঅ্যান্ড ডি বাড়বে। আর তা ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

নিক্কিই এশিয়ান রিভিউ


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us