করোনার ভ্যাকসিন : কোন দেশ সবচেয়ে এগিয়ে?

অন্য এক দিগন্ত ডেস্ক | Jun 24, 2020 02:46 pm
করোনার ভ্যাকসিন

করোনার ভ্যাকসিন - প্রতীকী ছবি

 

করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়তে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন। আগামী মাস থেকে তিনটি ভ্যাকসিনের শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে। এগুলি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের Moderna Inc, চিনের Sinovac Biotech ও ব্রিটেনের Oxford-AstraZeneca।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া সাম্প্রতিকতম হিসেবে ১৩টি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আরও ১২০টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল হচ্ছে চীনে, ৬টি। এদিকে এর মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন,, মারা গিয়েছেন ৪৬৮৪৮৪ জন।

যদি সব কিছু ঠিকঠাক চলে নভেম্বরের শেষে আপৎকালীন ব্যবহারের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যেতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিয়ামক অনমতি পাওয়ার পর গণ উৎপাদন ও তা সরবরাহ হতে হতে সামনের বছর পড়ে যাবে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সলিডারিটি ট্রায়াল, ব্রিটেনের রিকভারি ট্রায়াল ও আমেরিকার অপারেশন ওয়ার্প স্পিড অগ্রগণ্য।

ভ্যাকসিন তৈরির পর্যায়গুলি কী কী?

প্রথমত একটি ভ্যাকসিন পশুর উপর পরীক্ষা করা হয়, তার পর শুরু হয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এর পর তিনটি পর্যায়ে এই ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রটোকল মেনে পরীক্ষা করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে মার্কেটিং পরবর্তী পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রি-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা- এই প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা ভ্যাকলিন ইঁদুর বা বাঁদরের উপর পরীক্ষা করে দেখেন যে তাতে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কিনা।

প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল- প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন ২০-৮০ জন মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করে তার সুরক্ষা ও ডোজ পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা হয় যে তা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উজ্জীবিত করছে কিনা।

দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল- এই পর্যায়ে কয়েক শ জনের একটি বড় গ্রুপের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়। গ্রুপটিকে বয়স অনুারে ভাগ করে নেওয়া হয়, এর মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই থাকেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে সুরক্ষা, ইমিউনোজেনোসিটি, প্রস্তাবিত ডোজ, ইমিউনাইজেশনের শিডিউল ও ডেলিভারির প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়।

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল- যেহেতু আগের পর্যায়ের কম সংখ্যক মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছিল ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত নাও হতে পারে। সে কারণ এই পর্যায়ে কয়েক হাজার জনের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা বয়। এখানে বিজ্ঞানীরা যেসব স্বেচ্ছাসেবীর প্ল্যাসিবো দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে সংক্রমিতদের তুলনা করেও দেখে থাকেন। এই ট্রায়ালে বোঝা যাবে ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে কিনা।

অনুমোদন- তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের পর ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী নিজ দেশের নিয়ামক কর্তপক্ষের কাছে লাইসেন্সের আবেদন করবেন। নিয়ামক এর পর যেখানে ভ্যাকসিন তৈরি হবে সেই কারখানা পরীক্ষা করে দেখবেন এবং অনুমতি দেবেন। অতিমারীর সময়ে ভ্যাকসিন আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত পাওয়ার আগেই ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

কোন কোন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে?
১২০ টির বেশি ভ্যাকসিন দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্যে দিয়ে গেলেও, তাদের মধ্যে কেবলমাত্র দুটি যৌথভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের মধ্যে রয়েছে।

১. অক্সফোর্ড-অ্যাসট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন (দ্বিতীয়-তৃতীয় পর্যায়)

ব্রিটিশ-সুইডিশ সংস্থা AstraZeneca এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে তৈরি করছে AZD1222 ভ্যাকসিন, যা শিম্পাজির অ্যাডেনোভাইরাস ChAdOx1 থেকে তৈরি, তার দ্বিতীয় তথা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে ব্রিটেন ও ব্রাজিলে। AstraZeneca ইতিমধ্যেই এর ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে এবং পরিকল্পনা করেছে সেপ্টেম্বরে ২০ লক্ষ বিলিয়ন করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রস্তুতের।

হিউম্যান ট্রায়াল যথাযথ হলে এরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডোজ ও ব্রিটেনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডোজ বানানোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

২. মডার্না ভ্যাকসিন (দ্বিতীয় পর্যায়)

মার্কিন সংস্থা মডার্না একটি ভ্যাকসিন তৈরি করছে যা আমেরিকার অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের আওতায়। mRNA-1273 ভ্যাকসিন আগামী মাসে ৩০ হাজার মানুষের উপর পরীক্ষা করা হবে এবং সংস্থার আশা ২০২১-এর গোড়ায় ভ্যাকসিনের ডোজ প্রস্তুত হয়ে যাবে।

৩. Pfizer-BNTECH ভ্যাকসিন (দ্বিতীয় পর্যায়)

জার্মান কোম্পানি BNTECH এর সঙ্গে যৌথভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুত করছে ফার্মা জায়েন্ট Pfizer। জার্মানি ও কিছুটা আমেরিকায় এর পরীক্ষা চলছে। Pfizer মনে করছে এ বছরের অক্টোবরে তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।

৪.ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডন ভ্যাকসিন (দ্বিতীয় পর্যায়)

ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছেন এবং ৩০০ জন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির উপর দুটি ডোজ প্রয়োগ করে তাদের ইমিউনাইজ করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিন তৈরিতে সরকার ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। অক্টোবরে আরো ৬০০০ জনের উপর ট্রায়াল হবে এবং যদি তা সফল হয়, তাহলে সামনের বছরের গোড়ায় ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করা যাবে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

৫. সিনোভ্যাক বায়োটেক ভ্যাকসিন (দ্বিতীয় পর্যায়)

বেজিংয়ের এই সংসথা করোনাভ্যাক নামের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সংগঠিত করছে চিন ও ব্রাজিলে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে সাফল্য দেখা গেছে। সিনোভ্যাককে ১৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্য করছে অ্যাডভ্যানটেক ক্যাপিটাল ও ভিভো ক্যাপিটাল।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us