করোনায় আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি কমে যায়!

ড. রেজাউল করিম | Aug 15, 2020 07:21 pm
করোনায় আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি কমে যায়!

করোনায় আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি কমে যায়! - ছবি : সংগৃহীত

 

জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেনসহ নানা দেশের গবেষণা বলছে, যেসব মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের রক্তের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা কয়েক সপ্তাহ পর কমে যাচ্ছে। ব্যাপারটি নিয়ে অনেকেই ভীষণ চিন্তিত। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা কী বলছে?

বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষদের রক্তে ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করার জন্য যে অ্যান্টিবডি দরকার তা তৈরি হয়। যারা করোনাভাইরাস দিয়ে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তারা ওই অ্যান্টিবডি বেশি মাত্রায় তৈরি করেন তাদের তুলনায়, যারা তত বেশি অসুস্থ হননি; কিন্তু খুব অসুস্থ এবং কম অসুস্থ- দুই গ্রুপের লোকের মধ্যেই একই হারে কমতে থাকে এই নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি। কিছুসংখ্যক লোক যারা কম অসুস্থ ছিলেন তাদের রক্তে ৪০ দিনের মধ্যেই অ্যান্টিবডি আর নির্ণয় করা যাচ্ছে না।

এটি কতটা চিন্তার বিষয়?
অ্যান্টিবডি যদি দীর্ঘ সময় স্থায়ী থাকত, এটি হতো ভালো একটি দিক; কিন্তু অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া মানে কি সব শেষ? ভাইরাস নির্মূল করার জন্য আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খুব একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রধানত ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য cell-mediated এবং antibody-mediated immune systems- দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। T cell ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করে দেয়। অ্যান্টিবডি ভাইরাস এর সাথে লেগে যায়, পরে অন্য immune cells অ্যান্টিবডি-bound ভাইরাসকে ধ্বংস করে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে T cell-mediated immunity নিয়ে বিজ্ঞানীরা কী বলছেন? এ ব্যাপারে সুইডেনের একটি গবেষণার কথা বলতে হয়। ওই গবেষণায় ২০০ জন লোকের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, যারা করোনাভাইরাসের দ্বারা সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বা যাদের কোভিড-১৯ লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই লোকদের মধ্যে যাদের রক্তে অ্যান্টিবডি নির্ণয় করা যায়নি এমনকি তাদের শরীরের মধ্যেও T cell-mediated immunity তৈরি হয়েছে। রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় এমন লোকদের চেয়ে প্রায় দুই গুণ বেশি লোকদের মধ্যে T cell-mediated immunity তৈরি হয়েছে। T cell-mediated immunity মেপে দেখা অ্যান্টিবডি নির্ণয় করার চেয়ে জটিল, তাই বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে শুধু অ্যান্টিবডি আছে না নেই, তা মেপে দেখা হয়। তাই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে অ্যান্টিবডিই যে সব তা নয়।

উপরন্তু, আমাদের ইমিউন সিস্টেম যখন ভাইরাসকে নির্মূল করে দেয়, তখন আমাদের দেহে মেমোরি সেলও তৈরি হয়। মেমোরি সেল দুই রকমের হতে পারে, T cell memory ও B cell memory। মেমরি সেলের কাজ হলো পরবর্তী সময়ে যদি একই ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করে তাহলে মেমোরি সেলগুলো খুব তাড়াতাড়ি রি-অ্যাক্টিভেটেড হয়ে যাবে। যেমন-memory T cells ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য খুব তাড়াতাড়ি বহু T cell তৈরি করবে। অন্য দিকে memory B cells খুব তাড়াতাড়ি ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করার জন্য যে অ্যান্টিবডি দরকার তা তৈরি করবে। মেমোরি সেলগুলো কত তাড়াতাড়ি T cells ও অ্যান্টিবডি তৈরি করবে এবং তা পরবর্তী করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে পুরোপুরি রোগমুক্ত রাখতে পারবে, নাকি করোনার রোগ থেকে সেরে ওঠা মানুষরা তত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন না, তা আমাদের জানা নেই। অদূর ভবিষ্যতের গবেষণাই তা বলে দেবে। অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া মানে কি সব শেষ, আমরা এ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

লেখক : ইমিউনোলজিস্ট, WHO-Utrecht Center of Excellence for Affordable Biotherapeutics, নেদারল্যান্ডস


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us