হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই : কোনটি কত ক্ষতিকর!

সৈয়দ আবদাল আহমদ | Oct 11, 2020 05:37 pm
হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই

হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই - ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীর প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার সবার দৃষ্টি কেড়েছে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত এবং নিরাময় কৌশল আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজ্ঞানী হার্ভি জে অল্টার, মাইকেল হফটন ও চার্লস এম রাইসকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসটি আবিষ্কার করেন প্রায় ৩০ বছর আগে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হেপাটাইটিস সি স্বাস্থ্যগত একটি অন্যতম বড় বৈশ্বিক সমস্যা। বর্তমানে বিশ্বে সাত কোটি ১০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। প্রতি বছর এ রোগে আক্রান্ত হয় ৭০ লাখ মানুষ। হেপাটাইটিস সি’র কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারে প্রতি বছর চার লাখ মানুষ মারা যায়।

হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভার বা যকৃতের রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাঁচ ধরনের হেপাটাইটিস রয়েছে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই। হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ স্বল্পমেয়াদি লিভার রোগ। এটি বিশ্রাম নিলে এক পর্যায়ে সেরে যায়। তবে প্রাণঘাতী হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসের সংক্রমণ। সারাবিশ্বে লিভার ক্যান্সারের ৮০ শতাংশেই দায়ী হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’। হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ বেশি ছড়ায় খাদ্য ও পানিবাহিত হয়ে অর্থাৎ হাইজিন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে। দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস সি। এটা লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ।

হেপাটাইটিস ‘এ’ ও হেপাটাইটিস ‘বি’ শনাক্ত হওয়ার পরও বিজ্ঞানীরা হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নিয়ে দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিলেন। অবশেষে নোবেলজয়ী ওই তিন বিজ্ঞানীর অক্লান্ত চেষ্টায় শনাক্ত হয় হেপাটাইটিস সি। তাদের গবেষণার ফলে রক্তবাহিত এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিও উদ্ভাবিত হয়েছে। দ্রুতগতিতে আবিষ্কৃত হয় এই ওষুধ। নোবেল কমিটি জানায়, চল্লিশের দশকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, দুই ধরনের সংক্রামক ভাইরাস হেপাটাইটিসের জন্য দায়ী। প্রথমটির নাম ‘হেপাটাইটিস এ’। দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে এটি ছড়ায়।

অপর ধরনটির নাম ‘হেপাটাইটিস বি’। রক্ত ও শারীরিক অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এর সংক্রমণে সিরোসিস ও যকৃতের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সত্তরের দশকে হার্ভি জে অল্টার ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে তার সহকর্মীরা লক্ষ করলেন, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা উদ্ভাবিত হওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রক্তবাহিত হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হেপাটাইটিস ‘এ’ কিংবা ‘বি’-এর পরীক্ষায় এসব রোগীর জটিলতা পুরোপুরি চিহ্নিত হচ্ছে না। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ অন্যের কাছ থেকে রক্তের কোনো না কোনো উপাদান গ্রহণ করেছিলেন (ব্লাড ট্রান্সফিউশন)। অল্টার ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়, ওই রোগীরা আসলে নতুন ধরনের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। অল্টার এ রোগের নাম দেন ‘নন এ, নন-বি হেপাটাইটিস’। এর এক দশক পর মাইকেল হফটন ও তার সহকর্মীরা নতুন ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স করেন। সবশেষে, চার্লস এম রাইস ১৯৮৯ সালের দিকে প্রমাণ করেন, নতুন ভাইরাসটি সম্পূর্ণ আলাদা। এর নাম দেয়া হয় হেপাটাইটিস সি। এই ভাইরাসের সংক্রমণেও সিরোসিস ও যকৃতের ক্যান্সার হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নির্মূলে কর্মসূচি নিয়েছে। তবে ওষুধ আবিষ্কৃত হলেও ভাইরাসটির এখনো কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত। ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশনের হিসেবে, হেপাটাইটিসে প্রতি বছর ২২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আলীর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে শুধু হেপাটাইটিস সিতে অন্তত এক শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত। এ রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর লক্ষণ উপসর্গ খুব কম, তাই আক্রান্ত হলেও সহজে ধরা পড়ে না। রোগী কিছু বুঝতে পারে না। ফলে এক সময় লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সার তৈরি হয়। রোগটির ওষুধ খুব ব্যয়বহুল। যেহেতু এর টিকা এখনো নেই, তাই ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম।


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us