বাইডেন-কমলাকে নিয়ে কেন এত প্রত্যাশা?

রানা আইয়ুব | Nov 12, 2020 08:12 pm
বাইডেন-কমলা

বাইডেন-কমলা - ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নব-নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা ডি. হ্যারিস গত ৭ নভেম্বর ছিলেন ভারতের সামাজিক মাধ্যম, পত্রিকা ও টেলিভিশন কভারেজের প্রধান বিষয়। জ্যামাইকান পিতা ও ভারতীয় মায়ের মেয়ে কমলা ইতিহাস গড়ছিলেন, জাতীয় আইকন হিসেবে গৃহীত হচ্ছিলেন। তিনি জো বাইডেনকে পরিচিত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে একটি ছবি টুইট করে বিশ্বকে আশ্বস্ত করেন যে তার প্রেসিডেন্ট আমল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মাত্রায় যাবে।
সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও পরে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন ভারতের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি বলেছিলেন, আমার স্বপ্ন হলো ২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই দেশ হবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু মোদি সম্ভবত এই লক্ষ্য জটিল করে ফেলেছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গোপন কোনো বিষয় নয়। তবে কাশ্মিরে দমন অভিযানসহ মানবাধিকার ও তার স্বৈরতান্ত্রিক স্টাইলের প্রতি তার প্রকাশ্য দ্বিমত প্রকাশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা কঠিন করে তুলেছে।

ভারত ২০১৯ সালের আগস্টে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারফিউ জারি ও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে, ভিন্ন মতালম্বীদের জন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করার পরও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল নিস্পৃহ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতেও দিল্লি সফরের সময় মুসলিমবিরোধী সহিংসতা বিস্ফোরিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই স্থান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ডিনার করেন। পরের দিন সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করলেন ট্রাম্প ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।মোদি এর চেয়ে আর বেশি খুশি কোনো কিছুতেই হতে পারতেন না।
এর বিপরীতে বাইডেন কাশ্মিরি জনগণের সব অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তার নির্বাচনী ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক পলিসি পেপারে আহ্বান জানান। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা দান, ইন্টারনেট মন্থর করে দেয়া বা বন্ধ করার মতো বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধেও কথা বলেন।পলিসি পেপারে নাগরিকত্ব সংশোধনী অ্যাক্ট ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের বাস্তবায়নেও হতাশ প্রকাশ করেন।এতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ ভারতের সেক্যুলারবাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পরিপন্থী এবং বহুজাতিক ও বহু ধর্মীয় গণতন্ত্রের সাথে মেলে না।

কমলা হ্যারিস নিজে মোদি সরকারের কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাদেরকে কাশ্মিরিদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে তারা দুনিয়ায় একা নয়। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। পরিস্থিতি দাবি করলে সেখানে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসে প্রমিলা জয়পাল (ডি-ওয়াশ.) কাশ্মির প্রশ্নে একটি প্রস্তাব পেশ করে যোগাযোগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান। প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হঠাৎ করে জয়পালসহ সিনিয়র কংগ্রেস সদস্যদের সাথে বৈঠক বাতিল করে দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ওই কংগ্রেস ওম্যান বলেন, এতে আরো ভালোভাবে বোঝা গেল যে ভারত সরকার কোনো ধরনের ভিন্নমত শুনতে আগ্রহী নয়।
জয়পালের প্রতি যারা সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠে সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের অন্যতম হচ্ছেন এই কমলা হ্যারিসই। তিনি টুইট করেছিলেন, ক্যাপিটল হিলের সভায় কাদের অনুমোদন করা হবে তা কংগ্রেসকে বিদেশী কোনো সরকারের বলাটা ভুল।

এসব ঘটনা উৎসাহজনক ইঙ্গিত দেয় যে বাইডেন প্রশাসন সম্ভবত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশণাল ইন্ডিয়ার অফিস বন্ধ করা, ছাত্র ও মানবাধিকার কর্মীদের আটক করা, নাগরিকত্ব আইনের মতো কিছু প্রবর্তন করার মতো অপব্যবহারগুলো এড়িয়ে যাবে না।
হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের বিদায়ের পর ভারতের গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের রক্ষকদের মধ্যে বিরাট প্রত্যাশা জেগেছে।

২০১৫ সালে ভারতে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও গোঁড়ামির বিরদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর সমালোচনার কথঅ উল্লেখ করেছিলেন।
এখন ভারতীয়রা দেখতে চায়, বাইডেনেরও ওবামার মতো নৈতিক শক্তি আছ কিনা ভারতের বিভাজন ও দানবকরণের বিরুদ্ধে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us