স্বাস্থ্যবিধি মেনেও কেন করোনায় আক্রান্ত!

অন্য এক দিগন্ত ডেস্ক | Apr 10, 2021 06:38 pm
স্বাস্থ্যবিধি মেনেও কেন করোনায় আক্রান্ত!

স্বাস্থ্যবিধি মেনেও কেন করোনায় আক্রান্ত! - ছবি সংগৃহীত

 

বিনোদন জগতে কবরী, আবুল হায়াত, মৌসুমীসহ তার পরিবারের চারজন, শহীদুজ্জামান সেলিম ও তার স্ত্রী এবং সংগীত শিল্পী হাবিবসহ অনেকেই এখন করোনায় আক্রান্ত৷ স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সতর্ক থেকেও তারা কেন করোনায় সংক্রমিত?

করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও শারীরিক অবস্থা ঠিক হয়নি চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াতের৷ তার মতে, করোনা কেবল নিঃশ্বাস রেখে গেছে৷

আক্রান্ত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর করোনা নেগেটিভ হয়ে গত ২৮ মার্চ বাসায় ফেরেন তিনি৷

সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ শুরু হওয়ার পর একের পর এক ভাঙছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড৷ শিক্ষক-সাংবাদিক-সেলিব্রেটিদের মতো সমাজের ‘সচেতন’ অংশের মানুষেরও আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে৷ হাসপাতালে সিট ও আইসিইউ পাওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে গেছে৷

এমনকি এক সময়ের দেশ কাঁপানো নায়িকা থেকে পরে সংসদ সদস্য কবরীর জন্য আইসিইউ'র ব্যবস্থা করতেও হিমশিম খেতে হয়েছে৷

এই ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়াদের একজন দেশের বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা কাজী হায়াৎ৷

তিনি আক্রান্ত হয়েছেন পুরো পরিবার নিয়ে৷ বাসায় থাকা স্ত্রী, কন্যা, কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তি, গাড়ি চালক-সবাই৷ বিদেশে থাকায় তার ছেলে, চিত্রনায়ক কাজী মারুফ আক্রান্ত হননি। বাবা-মায়ের আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসেন৷

কাজী হায়াৎ করোনামুক্ত হওয়ার পর দুই সপ্তাহ হতে চলেছে৷ তবে এখনো তার শরীর খুবই দুর্বল৷ কষ্ট হয় নিশ্বাস নিতেও৷ অনেক ভেবেও বুঝতেও পারছেন না ঠিক কোথা থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন৷

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো খুব কেয়ারফুল ছিলাম৷ আমার সতর্কতার মাত্রা দেখে সবাই এটা নিয়ে কথা বলতো৷’

নিজের সতর্ক থাকার দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বছর তরকারিও সাবান দিয়ে ধুইতাম৷ সাবান পানি, লবণ পানিতে চুবিয়ে রেখে তারপর তরকারি ঘরে তুলতাম৷ এত সতর্কতার পরেও কীভাবে আক্রান্ত হলাম, কিছুই বুঝতে পারলাম না৷’

কাজী হায়াৎ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘এখন বুঝি, করোনা খুব শক্তিশালী৷ এই বয়সে আমাকে রেখে গেলেও আমার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমার জন্য রেখে যায় নাই৷ রেখে গেছে কেবল শ্বাসটা৷ জানি না কতদিনে আবার সুস্থ হবে, আবার ঠিক হবে’

‘সাধারণ মানুষের জন্য একটিই বক্তব্য, বিশেষজ্ঞরা যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বলছে, সবাই আপনারা সেটাই মেনে চলবেন৷ আমি পৃথিবীর সকল মানুষের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তারা যেন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলে’

তবে চিত্রনায়ক রিয়াজের আক্রান্ত হওয়ার গল্পটি ভিন্ন৷ তার ছিল না কোনো উপসর্গ৷ বিদেশ যাত্রার প্রয়োজনে তিনি করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে যান৷ সেখানেই তার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে৷ তবে এরপর ধীরে ধীরে জেঁকে বসে দুর্বলতা ও শরীর ব্যাথা৷

‘ভাইরাসটা তাড়াতাড়ি নিজেকে চেঞ্জ করছে এবং ম্যাসিভলি এফেক্ট করছে৷ এটার অনেক পেইন৷ আমরা যারা সারভাইভ করে যাচ্ছি বা সারভাইভ করতে পারছি কি-না, জানি না, সারাক্ষণই শঙ্কার মধ্যে থাকছি’

কোনো অসতর্কতা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকতে থাকতে মানুষ অসতর্ক হয়ে যায়৷ এটা একটা হিউম্যান সাইকোলজি৷ আর যখন আশেপাশের মানুষ কেউ সতর্ক না, তখন একা সতর্ক হওয়াও কঠিন।’

বাংলাদেশে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েই অনেকে আগের মতো চলাফেরা করতে শুরু করে৷ এ প্রসঙ্গে রিয়াজ বলেন, ‘আমরা একটা সময়ে ধরে নিয়েছিলাম, কোভিড কমে যাচ্ছে, টিকা চলে এসেছে৷ আমরা এর থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি৷ তখন আমরা হয়ত একটু অসতর্ক হয়ে পড়েছিলাম৷ সেটার ফলশ্রুতিতেই রেকর্ড সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে, রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে৷’ এখন রিয়াজের উপলব্ধি, ‘বাংলাদেশের মতো দেশে সতর্ক হওয়াটা কঠিন৷ কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্য মনে হয় মানা উচিত ছিল৷ এখন মনে হচ্ছে, আরো বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’

সম্প্রতি নরসিংদীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক সাংবাদিক মারা গেছেন৷

স্থানীয় সাংবাদিক বেনজীর আহমেদ বেনু বলেন, তোফাজ্জল হোসেন প্রথম দফায় টিকা নিয়েছিলেন৷ টিকা নেয়ার পর হঠাৎ করেই একদিন অসুস্থ হয়ে মারা যান৷

কীভাবে আক্রান্ত হতে পারেন-এমন প্রশ্নে জবাবে বেনজীর বলেন, তোফাজ্জল হোসেন আক্রান্ত হওয়ার আগে করোনায় মৃত কয়েকজনের জানাজায় গিয়েছিলেন৷

হঠাৎ করে আক্রান্তদের হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে কথা হয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেনের সাথে৷ এখন সমাজের সচেতন বলে যাদেরকে ধরা হয়, তারাও কেন আক্রান্ত হচ্ছে?

জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের সাধারণ সতর্কতা কিন্তু যথেষ্ট নয়৷ ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি দরকার, পারিবারিক সতর্কতা, প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কতা এবং সার্বিকভাবে আশপাশের পরিবেশের সতর্কতা। কোনো একটা জিনিস ব্যত্যয় ঘটলেই কিন্তু মানুষ আক্রান্ত হয়ে যান৷’

‘এমনকি অনেক চিকিৎসকও আক্রান্ত হচ্ছেন৷ আইইডিসিআরেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন৷ হয়ত ব্যক্তি নিজেও শিথিলতা দেখিয়েছেন৷’

নতুন ভ্যারিয়েন্ট কী পার্থক্য তৈরি করছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধরুন, ভাইরাসের লোড বলে একটা বিষয় আছে৷ আক্রান্ত হতে হলে আপনি যেখানে স্পর্শ করেছেন, সেখানে নির্দিষ্ট মাত্রায় ভাইরাস থাকতে হবে৷ সেখানে যদি মাত্রা থেকে কম থাকে, তাহলে আক্রান্ত হবে না৷ আক্রান্ত হতে ভাইরাসের মাত্রাটা হয়ত কমে এসেছে৷ ‘আগে হয়ত দেখা যেতে যে কোনো পরিবারের কেউ কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন, এখন সবাই হচ্ছেন৷ হয়ত আগে ভাইরাসের যে মাত্রায় আক্রান্ত হতো না, এখন সেই মাত্রায়ও আক্রান্ত হচ্ছে৷’

সূত্র : ডয়চে ভেলে

 


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us