কী হচ্ছে কাশ্মিরে?

জি. মুনীর | Apr 11, 2021 05:37 pm
কী হচ্ছে কাশ্মিরে?

কী হচ্ছে কাশ্মিরে? - ছবি সংগৃহীত

 

কাশ্মিরে সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কগুলো দখলদারদের পক্ষ নিয়ে সেখানকার আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অধিকারহারা মানুষ তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রধানত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর নির্ভর করে আসছে। তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের মতামত প্রকাশ করছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নানা অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছে। রয়টারের তথ্যমতে, ১০ লাখের বেশি ভারতীয় সেনা এখন ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে অবস্থান করছে। এদের বিরুদ্ধে কাশ্মিরিদের ওপর নানা ধরনের অমানবিক নির্যাতন হত্যা, গুম ও জাতিগত নিধনের নানা অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভারত সরকার চাইছে কাশ্মিরের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিতে। ভারত সরে গেছে কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রতিশ্রুত গণভোট অনুষ্ঠান থেকে। এদের বিরুদ্ধে বিগত সাত দশক ধরে কাশ্মিরের জনগণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার। আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, কাশ্মিরের মানুষ ভারতীয় পরাধীনতার শিকল চিহ্ন করে স্বাধীন কাশ্মির প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু তাদের কণ্ঠরোধে আজ ভারতীয় অগণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফরম, যা খুবই দুঃখজনক।

দশকের পর দশক ধরে ভারত বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাশ্মিরে ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

১৯৪৭ সাল থেকে ভারত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে কাশ্মিরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়সত্তা বিকৃত করার অপচেষ্টায়। ভারত চায় কাশ্মিরিদের কণ্ঠ বাইরের দুনিয়ার কাছে, এমনকি ভারতবাসীর কাছে ঢেকে রাখতে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার ও ভারত সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বিষয়ে কেউ জানতে না পারে। এ জন্য কাশ্মিরিদের কণ্ঠরোধ করাকে ভারতের প্রতিটি সরকার জরুরি করণীয় মনে করে আসছে বরাবর। একই সাথে ভারত সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে আসছে কাশ্মিরি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ ঢেকে রাখতে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ গণমাধ্যমের উদ্ভবের ফলে কাশ্মিরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফরমগুলোকে পায় তাদের মতামত এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নির্যাতন-নিপীড়নের নানা তথ্য প্রকাশের অতি মোক্ষম এক সুযোগ হিসেবে। এর মাধ্যমে কাশ্মিরিরা সুযোগ পায় তাদের মতামত ও আবেদন-নিবেদন বিশ্ব সমাজে তুলে ধরার। কাশ্মিরিদের বিভিন্ন সলিডারিটি পেজ, পোস্ট ও সংলাপের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত অবস্থা বিশ্ব সমাজ অনলাইনে জানার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু নতুন এ সুযোগ খুব বেশি দিন চলতে দেয়নি ভারত।

ভারত সরকারের চাপে সামাজিক প্ল্যাটফরমগুলো ধীরে ধীরে কাশ্মির সম্পর্কিত পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিতে শুরু করে। এসব পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো চালাত কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সক্রিয়বাদীরা। ২০১৬ সালে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের সময় কাশ্মিরের তৎকালীন আন্দোলন সম্পর্কিত প্রতিফলন রয়েছে, এমন ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়। সাংবাদিকেরা জানান, পুলিশের নির্মমতার ভিডিওচিত্রও ব্লক করে দেয়া হয়। শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা দেখতে পেলেন, তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ৫ আগস্টে কাশ্মিরের সংবিধান-স্বীকৃত বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর ভারত সরকার কাশ্মিরে কঠোর লকডাউন কার্যকর করে। সে সময় সামাজিক গণমাধ্যমে কাশ্মির সম্পর্কিত কনটেন্ট আবারো সেন্সর করা জোরেশোরে শুরু হয়ে যায়। তখন কার্যত কাশ্মিরকে পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় : বাতিল করা হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ। ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার কাশ্মিরিদের পোস্ট সরিয়ে ফেলতে শুরু করে; ব্লক করা হয় ভিডিও, বন্ধ করা হলো অ্যাকাউন্ট। কাশ্মির পরিস্থিতি তুলে ধরার যাবতীয় যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ভারত সরকার কাশ্মিরের লকডাউন তুলে নেয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশ্মির-সম্পর্কিত কনটেন্ট সেন্সর অব্যাহত রাখে। সেন্সরশিপের সর্বশেষ পর্বে টুইটার বন্ধ রেখেছে কাশ্মিরের : Kashmir Civitas, Stand With Kashmir, the Kashmir Podcast। সেই সাথে বন্ধ রাখে তরুণ কাশ্মিরি শিক্ষাবিদ ইফাত গাজিয়া এবং কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক ফারহান মুজাহিদ চকের টুইটার অ্যাকাউন্ট।

ভারতের কাশ্মির-নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া। ফেসবুক ও টুইটার আজ গোপনে যুথবদ্ধ হয়েছে কাশ্মিরিদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিতে। এরা আসলে কাশ্মিরে ভারতের সামরিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজে মতামত গড়ে তুলতে চায়। এরা সোচ্চার ভারতের দখলকৃত কাশ্মিরের জমি দখলে ব্যস্ত সেটলারদের তৎপরতার বিরুদ্ধে। এসব পোস্ট সেন্সর করে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে।

জানা যায়, কাশ্মিরিদের সংগঠন ‘কাশ্মির সিভিটাস’ হচ্ছে একটি বেসরকারি সিভিল সোসাইটি ও স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভোকেসি ফোরাম। এর এন্ট্রি রেজিস্ট্রার করা হয় কানাডায় এবং এটি সম্ভাবনাময় বিতর্কিত ভূখণ্ড জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতি সহানুভূতিশীল। এটি একটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সংগঠন, যা শান্তিপূর্ণভাবে ভারতের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ করে। এটি প্রচার চালায় কাশ্মিরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের মৌলিক অধিকারের পক্ষে। কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও নীতির ধারক-বাহক গোষ্ঠী বা জাতি এই যৌক্তিক অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে না। অধিকন্তু, এই সংগঠনের ফাউন্ডেশনাল ডিক্রি শুধু কাশ্মিরিদের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের ভিত্তিগত প্রতিজ্ঞা নয়, এ অধিকারের কথা বিধৃত আছে জাতিসঙ্ঘ সনদেও। এ ছাড়া এর ভিত্তি সেইসব নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেগুলোর প্রকাশ রয়েছে কাশ্মির সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘে পাস হওয়া ১৮টি প্রস্তাবে। এর মধ্যে আছে ১৯৪৮ সালে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত কাশ্মির-সম্পর্কিত ৩৯ ও ৪৭ নম্বর প্রস্তাব। উভয় প্রস্তাবে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে কাশ্মিরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অন্তির্নিহিত অধিকার। কাশ্মিরের জনগণই জাতিসঙ্ঘের তদারকিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু গণভোটের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তাদের মর্যাদার বিষয়টি : কাশ্মির ভারতে সাথে থাকবে, না একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে।

কাশ্মিরিদের সংগঠন ‘কাশ্মির সিভিটাস’ সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কাশ্মির বিরোধ কোনো মতেই ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয় নয়। বরং এটি আন্তর্জাতিক একটি বিষয়। এ জন্যই জাতিসঙ্ঘে কাশ্মির সম্পর্কিত অসংখ্য প্রস্তাব পাস হয়েছে। কিন্তু ভারত নানা অজুহাতে এগুলো বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। বিষয়টি একটি আন্তর্জতিক ইস্যু হওয়ার পরও কাশ্মিরি জনগণ হচ্ছে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন তথা স্টেকহোল্ডার- যারা আজকের এই বিতর্কিত ভূখণ্ডের ‘নাগরিক’। এদের পরিúূর্ণ অধিকার রয়েছে এই ভূখণ্ডের দখলদারদের প্রতিরোধ করার। আইনানুগ অধিকার রয়েছে তাদের ভূখণ্ডের ঔপনিবেশিকায়নে ব্যবহৃত দখলদার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

কাশ্মিরি জনগণের এই সংগঠন বরাবর শ্রদ্ধাশীল স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক নীতি, সমতা ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, নারী-পুরুষ, স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশষে সব মানুষের অন্তর্নিহিত মর্যাদা রক্ষার প্রতি। এই সংগঠন কাশ্মিরের সব মানুষের কাজ, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সমান সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্বাসী। এই সংগঠন কাশ্মিরের যুদ্ধবিরতি রেখার উভয় পাশের ও বিভিন্ন ‘ডায়াসপোরা’র কাশ্মিরিদের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন কামনা করে।
প্রশ্ন হচ্ছে- তবে কেন ফেসবুক ও টুইটার এই সংগঠনের পেজ ও পোস্ট বন্ধ করে দিয়ে কার্যত স্বাধীনতাকামী একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর কণ্ঠরোধের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে? এই সংগঠন তাদের সক্রিয় কর্মীদের মাধ্যমে ভারত সরকারের মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অস্বীকার করে বিশ্ববাসীর কাছে সত্যটুকুই তুলে ধরছে।

জানা যায়, এরা এ ব্যাপারে টুইটারের কাছে বারবার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু টুইটার কর্তৃপক্ষ কখনোই এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরেনি এবং তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কারণও জানায়নি। তবে কিছু বাতিল করা অ্যাকাউন্ট আবার হঠাৎ চালু করতেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে এর উপযুক্ত কারণ দর্শানো। তা না করা ফেসবুক ও টুইটারের ব্যবসায়িক সততার লঙ্ঘন। এটি সহজবোধ্য, টুইটার বা ফেসবুকের এই অঘোষিত সেন্সরশিপ চালু হয়েছে তখন, যখন ভারত সরকার কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দিয়ে কাশ্মিরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি তুলে কাশ্মিরিদের কণ্ঠ সর্বতোভাবে স্তব্ধ করে দেয়ার অভিযানে নামে। আর তখনই ভারত সরকার সামাজিক প্ল্যাটফরমগুলোর ওপর অঘোষিত চাপ সৃষ্টি করে কাশ্মিরিদের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে। এর মাধ্যমে ভারত সরকার প্রয়াস চালায় আন্তর্জাতিক অ্যাজেন্ডা থেকে কাশ্মির ইস্যুটি চিরতরে মুছে দিতে। ২০১৯ সালে কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর থেকে কাশ্মিরে ভারতীয় সেনা মোতায়েন অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়। কারণ, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সাথে সাথে কাশ্মির ভূখণ্ডে অ-কাশ্মিরি ভারতীয়রা ভূমি, চাকরি ও বসত গড়ার অধিকার পায়, যা এর আগে কাশ্মিরিদের জন্য ছিল সুনির্দিষ্ট। বিষয়টি কাশ্মিরিদের প্রবলভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।

এর মাধ্যমে আসলে কাশ্মিরে অ-কাশ্মিরিদের সংখ্যা বাড়িয়ে গোটা কাশ্মিরে জনসংখ্যাচিত্র তথা ডেমোগ্রাফি পাল্টে দেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার, যাতে ভবিষ্যতে যদি কখনো ভারতকে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব মেনে গণভোট অনুষ্ঠান করতেই হয়, তখন যেন ভারতীয় পক্ষ গণভোটে বিজয়ী হতে পারে। সে জন্য ভারত সরকারের লক্ষ্য কাশ্মিরে অ-কাশ্মিরিদের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলা এবং কাশ্মিরিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। সে জন্য কাশ্মিরিদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও বাড়িয়ে তোলা হয়েছে যাতে এরা কাশ্মির ছেড়ে পাকিস্তানে বা অন্য কোথাও চলে যায়। এদিকে কাশ্মিরি সাংবাদিকদের ওপরও জুলুম-নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে এসব খবর পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, কাশ্মিরি সাংবাদিকেরা তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে কাশ্মির পরিস্থিতি তুলে ধরছিলেন। তারা জানিয়েছেন : তাদের ওপর কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করা হচ্ছে; রাজনীতিবিদ, সক্রিয়বাদী ও এমনকি হাজার হাজার নাগরিক সাধারণও গ্রেফতার হয়েছেন এবং এখনো এ প্রক্রিয়া অব্যাহত।

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কাশ্মির পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে, তা সত্য। এর আগেও কাশ্মির আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি পায় ‘বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত ভূখণ্ড’ হিসেবে। এই মুহূর্তে কাশ্মির উপত্যকায় অবস্থান করছে ১০ লাখেরও বেশি ভারতীয় সেনা।

কাশ্মির ও ফিলিস্তিন হচ্ছে জাতিসঙ্ঘের ইতিহাসের দীর্ঘতম দুটি অমীমাংসিত সমস্যা। দুটি ভূখণ্ডের সমস্যাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতার সাথে সংশ্লিষ্ট। জাতিসঙ্ঘ উভয় ক্ষেত্রে এই দুই জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা লাভের ন্যায্য অধিকার স্বীকার করে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে দখলদারদের অবসান ঘটিয়ে ভূখণ্ড দুটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মহল বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অপর দিকে উভয় ভূখণ্ডে দখলদার বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ও অবাধ গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ৯৫ হাজার কাশ্মিরি নিহত হয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। ছয় হাজার অচিহ্নিত ও গণকবর উদঘাটিত হয়েছে কাশ্মিরে। অসংখ্য নারী নির্যাতিত কিংবা ধর্ষিত হয়েছে সেখানে।

এ ধরনের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ফেসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ কার্যত পক্ষ নিয়েছে ভারতীয় নির্যাতক দখলদারদের পক্ষে। ভারত সরকার সেখানে গণতান্ত্রিক শাসনের পরিবর্তে চালাচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন। গণতান্ত্রিক শাসনের প্রত্যাশা হচ্ছে- মানুষের স্বাধীনতা, সমতা, বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিতা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি। কার্যত এর সবগুলোই কাশ্মিরে অনুপস্থিত। অথচ এসব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নই গণতান্ত্রিক অভীপ্সা।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us