কত দ্রুত নির্বাচন হবে পাকিস্তানে?

মাসুম খলিলী | Apr 19, 2022 04:00 pm
ইমরান খান ও শাহবাজ শরিফ

ইমরান খান ও শাহবাজ শরিফ - ছবি : সংগ্রহ

 

পাকিস্তানের জনমত দেখে গভীর ক্ষমতা বলয় স্বল্পতম সময়ে একটি নতুন নির্বাচনের দিকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। বিরোধী যে জোট ইমরান সরকারের পতনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই জোটের প্রধান মওলানা ফজলুর রহমান দ্রুত নতুন নির্বাচন দাবি করে বলেছেন, তার দল শাহবাজ সরকারের মন্ত্রিত্ব নেবে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে পিপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও এমকিউএম এর সহযোগিতা ছাড়া শাহবাজের পক্ষে দুই মাস সরকার চালানো কঠিন হতে পারে। ‘গভীর ক্ষমতা বলয়’ বিষয়টি উপলব্ধি করে পাকিস্তানের বৃহত্তর স্বার্থে ২০২২ সালের মধ্যে নতুন এক নির্বাচন ডাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনা প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্বও আসতে পারে। নির্বাচনের বাইরে কোনো কিছুর চিন্তা করা হলে সেটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের সামনে চরম কোনো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, যা দেশে বিদেশে কারো কাম্য হবার কথা নয় কোনোভাবেই।

শরিফের জোট সরকার এর মধ্যে একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো, বিরোধীদের সাথে কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করা যেমনটি প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইতোমধ্যেই করেছেন, কিন্তু এতে সাফল্য আসেনি। সরকারকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা প্রাপ্তিসহ অবনতিশীল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। সরকারে স্থিতি না এলে সেটি কঠিন হতে পারে। পাকিস্তানি তালেবান, যারা আফগান সীমান্তের উপজাতীয় অঞ্চলে ফিরে আসছে, তারা আবারও একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হতে পারে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সহিংসতায় রূপান্তরিত না হয় তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী শরিফ এবং তার জোটের অংশীদাররা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কারকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; এগুলো ভোটকে আরো স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে মারাত্মক অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে পারে।

ইমরান খান নতুন সরকারের সাথে তার লড়াইকে রাস্তায় নিয়ে যেতে চান। তবে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভাকে একই সাথে গ্রহণ করার ক্ষমতা তার সমর্থকদের থাকার ওপর তাদের সাফল্য নির্ভর করবে। শরিফের মতো ব্যাপকভাবে ভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট সরকারের মূল রাজনৈতিক ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। এই মতানৈক্য নির্বাচনকে করে তুলতে পারে অনিবার্য, যার আলামত এখনই দেখা দিতে শুরু করেছে। এছাড়াও শরীফের নতুন সরকার মুদ্রাস্ফীতির হারকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে ভোটারদের কাছ থেকে ইমরান খানের মতো একই চাপের মুখোমুখি হতে পারে।

এখন ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়েছে। রাজনৈতিক সংঘাত আরো সহিংস হয়ে উঠলে এবং নিরাপত্তা পরিবেশের আরো অবনতি হলে, সামরিক বাহিনীর প্রতি আবারও রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হবার চাপ দেওয়া হতে পারে। নতুন সরকার কীভাবে এই মাইনফিল্ডগুলোতে নেভিগেট করবে তা নির্ধারণ করবে পাকিস্তান এই রাজনৈতিক সঙ্কটের চলমান পৃষ্ঠা উল্টে পরবর্তী নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে যেতে পারবে কিনা।

mrkmmb@gmail.com


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us