খালেদা জিযার মুক্তি : যা ভাবছে সরকার

Oct 05, 2019 03:55 pm
খালেদা জিযা

 

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিন ইস্যুতে সরকার তার অবস্থান বদলায়নি। পর্দার অন্তরালে সমঝোতার নানা গুঞ্জন থাকলেও আপাতত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বিকল্প কোনো কিছু চিন্তা করছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থানে রয়েছেন। এরই মধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা এমন আভাস দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপি এমপিরা আমাদের সাথে কথা বলেছেন। আমার মাধ্যমে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১৩ অক্টোবর অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুললে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি নেতারা তার আগেই সরকারের সাথে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে চাচ্ছেন। কিন্তু সরকার খালেদা জিয়ার জামিনের চেয়ে প্যারোলের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুতে সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্যদের নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপের পরও সরকারের সেই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে দিয়ে সরকারের সাথে একটা রফা করতে চাইছে বিএনপি। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিষয়টি যতটা না আইনগত, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে সাবেক তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৭টি। সুপ্রিম কোর্ট ও নি¤œ আদালত মিলে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এ দু’টি মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তি মিলবে।

সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির হাইকমান্ডের সম্মতিতে দলীয় সংসদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং হারুনুর রশীদ এমপিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠানো হয়। তিনি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে জামিনের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া বিএনপির বাকি এমপিরাও খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কথা তুলে ধরে জামিনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, গত বুধবার আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতে গেলে সেখানে একটি অনির্ধারিত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নানা ইস্যুর সাথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তোলা হলে প্রধানমন্ত্রী তার অনমনীয় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে নেতাদের কম কথা বলারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনিভাবেই দেখছে সরকার। আইনিভাবে তার জামিন হলে হবে আর না হলে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এটি এখন চূড়ান্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা বলেন, বিএনপি চায় খালেদা জিয়ার জামিন।

কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই সরকার সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। কারণ জামিন নিয়ে তিনি আবারো রাজনীতির মাঠে সরব হতে পারেন। সে জন্য আমরা আপাতত প্যারোলকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। তিনি প্যারোল নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে গেলে বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। কারণ প্যারোলে মুক্তি পেলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু বাধ্যবাধকতার জন্য তিনি রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া জামিনের মাধ্যমে কিংবা খালাস পেলে মুক্ত হতে পারেন। আর প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ থাকলে সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। তবে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তখন এমন অনেক মামলা থেকে নেতারা মুক্তি পেয়েছেন, কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। তাই তার মুক্তির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে।’