কোন দেশে কী নিয়ে আন্দোলন

Oct 29, 2019 04:24 pm
কোন দেশে কী নিয়ে আন্দোলন

 

কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে সরকারবিরোধী গণআন্দোলন। গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে অনেক দেশের অসংখ্য মানুষ। তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শান্তিপূর্ণভাবে। অবশ্য আন্দোলন কখনো হয়ে উঠছে মারমুখী। এতে সংঘর্ষ হচ্ছে পুলিশের সাথে। সরকারের বাহিনীর হামলায় হতাহত হচ্ছেন অনেকে। এসব আন্দোলনের কারণ যেমন প্রায় অভিন্ন তেমনি এর ধরনও অনেক ক্ষেত্রে একই।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে ইরাক, লেবানন, স্পেনের কাতালোনিয়া, চিলি, বলিভিয়া, চীনের হংকংসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে। ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতায়, চলতি সপ্তাহের শুরুর দুই দিনেই ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চিলিতে আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা। স্বাধিকার ও নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে স্বাধীনতাকামী কাতালোনিয়ার লাখ লাখ মানুষ। আর হংকংয়ে বিতর্কিত বন্দী প্রত্যর্পণের বিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের পরও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে প্রায় চার মাস ধরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন হংকংয়ের বাসিন্দারা।

কাতালোনিয়া, স্পেন
স্পেন সরকারের হাতে আটক স্বাধীনতাকামী নেতাদের মুক্তির দাবিতে কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় আন্দোলন করেছেন অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ। গত শনিবারের শান্তিপূর্ণ এ পদযাত্রায় অংশ নিয়ে মানুষ কাতালান নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি কাতালোনিয়া অঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। এবার প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এ আন্দোলনে এর আগে এত লোকের সমাগম হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনকারী কয়েকটি গ্রুপ শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দেয়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। স্বাধীনতাকামী জনতার স্রোত বার্সেলোনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্তৃতি লাভ করে।

একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানের এখনই সময়। কারণ সব সময় আমরা একই বিন্দুতে আটকে আছি। রাষ্ট্রের দমনপীড়নে বিরক্ত হয়ে আজ আমরা এখানে এসেছি।’ আরেকজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বার্সেলোনায় যা ঘটছে, তা আমাদের প্রতিফলন নয়, আমরা আন্দোলনকারীরা সহিংস নই। আমরা আমাদের দেশ চাই, স্বাধীনতা চাই।’

এ দিকে গত শনিবার সকালে কাতালান অঞ্চলের ৮১৪ জন মেয়র কাতালান প্রেসিডেন্ট কুইম তোরার সাথে দেখা করার জন্য আঞ্চলিক সরকারের সদর দফতরে জড়ো হন। এ সময় তারা ‘স্বাধীনতা’র পক্ষে স্লোগান দেন। প্রেসিডেন্ট তোরা বলেন, ‘আমাদেরকে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং স্পেন রাষ্ট্রকে কথা বলতে বাধ্য করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কাতালান সরকার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করেছিল। গত ১৪ অক্টোবর সে গণভোটে নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ ৯ নেতাকে ৯-১৩ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট। এ রায় ঘোষণার পর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন কাতালানরা। তখন থেকেই আন্দোলন চলছে কাতালোনিয়ায়। গত শনিবার সেখানে পুলিশ সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভের সময় স্বাধীনতাকামীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে বুধবার বার্সেলোনাজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ওইদিন রাতে শহরের বিভিন্ন সড়কে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। স্পেনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের একটি দল সেøাগান দিয়ে বলছে, ‘আমরাও দেখাব আরেক হংকং।’

স্পেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে সরকার এ পরিস্থিতিতে ‘দ্রুত ও যথোপযুক্ত’ ব্যবস্থা নেবে। মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে সোস্যালিস্ট পার্টির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সমগ্র পরিস্থিতিই যে সরকারের বিবেচনায় আছে, কাতালান জনগণ এবং স্পেনের সমাজের সবারই তা জানা উচিত।’
আগামী সাধারণ নির্বাচনে ফের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সানচেজের ওপর কাতালোনিয়া নিয়ে শক্ত অবস্থান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়ার বিষয়ে ডানপন্থী দলগুলোর ব্যাপক চাপ আছে। উদারপন্থী দল সিউদাদানোসের নেতা আলবার্ট রিভেইরা বলেন, ‘সানচেজকে অবশ্যই কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রের শাসন চালু করতে হবে।’

লেবানন, মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি, তামাক ও হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওপর নতুন করারোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিক্ষোভে যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যা, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগও। সম্প্রতি সেখানে বিক্ষোভকারীরা ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আন্দোলনের মুখে নড়বড়ে হয়ে গেছে দেশটির জোট সরকার। এক দিকে জীবনধারণের খরচ বৃদ্ধি, বেকারত্বের সমস্যা, কম মজুরি; অন্য দিকে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা থেকে রাজনীতিবিদ- দেয়ালে ক্রমেই পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছেন।

দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ চেয়ে দেশজুড়ে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। গত ১৭ অক্টোবর শুরু হয়েছে লেবাননজুড়ে বিক্ষোভ। তামাকজাত দ্রব্য, পেট্রোপণ্য থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপের ওপরও নতুন কর আরোপ করার সরকারি সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন দেশের মানুষ। তারা পুরো রাজনৈতিক শ্রেণীর অপসারণ দাবি করছেন। অবস্থা বেগতিক দেখে নতুন কর প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা দেয়া হলেও বড্ড দেরি হয়ে যায়। দেশজুড়ে এখন একটাই স্লোগান- ‘সরকারের পতন চাই।’

লেবাননে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে তারা যখন জেরবার হচ্ছেন তখন নেতানেত্রীরা তাদের পদ-পদবি কাজে লাগিয়ে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা কায়দায় নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ৫০ বছর বয়সী রাবাব বলছেন, ‘এখানে আমি বহু কিছুই ঘটতে দেখেছি। কিন্তু এমন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার লেবাননে কখনো দেখিনি।’

গত সপ্তাহের সোমবারে সরকার একটি সংস্কার প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। বিক্ষোভ সামাল দেয়ার উপায় হিসেবে এই প্যাকেজের আওতায় রাজনীতিবিদদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পদত্যাগ করার যে আহ্বান জানাচ্ছেন, তার মধ্যে ‘ভিন্ন রাজনীতি’ আছে। লেবাননে সরকার থাকলেও পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ কিন্তু ইরান সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গ্রুপ হিজবুল্লাহর। তারা ইসরাইলের সাথে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে যেমন সফল, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে সক্রিয়। যতদূর জানা যাচ্ছে, ইসরাইল এই আন্দোলনের নেতৃত্বের খ্রিষ্টান একটি অংশকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে হিজবুল্লাহকে আঘাত করতে চাইছে। আগামী কয়েক দিনে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি অনুসরণ করা ছাড়া এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়।

কিছু দিন আগে দুর্নীতির অভিযোগে মিসরীয় সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে কঠোরভাবে সেই বিক্ষোভ দমন করেছে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আল-সিসির স্বৈরাচারী সরকার।

ইরাক
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছেন জনগণ। ইরাক সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মেধার ভিত্তিতে সরকারি কাজে নিয়োগ না দিয়ে জাতিগত ও অন্যান্য বিবেচনায় নিয়োগ দিচ্ছেন। অভিযোগ, জনগণের টাকা নষ্ট করে নেতা ও তাদের অনুসারীরা নানাভাবে লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে সরকারি কোষাগারের অর্থ কোনো কাজে আসছে না। সরকারের এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ সহিংসতায় গত শুক্র ও শনিবার অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসে সূচিত এবং প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সাথে নিরাপত্তাবাহিনী ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে দুই শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। সহিংসতা অব্যাহত থাকায় শনিবার রাতে দেশটির অভিজাত কাউন্টার টেররিজম সার্ভিসের (সিটিএস) সদস্যদের বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়ার রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিক্ষোভকারীরা দাবি আদায়ে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

চিলি, লাতিন আমেরিকা
লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। ভেনিজুয়েলার পর এবার চিলিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ, নিত্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং দেশটির দুর্বল মুদ্রার কারণ দেখিয়ে চিলি সরকার বাস ও মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এর প্রতিবাদে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। গত শুক্রবার রাজধানী সান্তিয়াগোতে বিক্ষোভে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ধনী দেশ হলেও চিলিতে ধনী-গরিবের বৈষম্য তীব্র। আন্দোলনের মুখে চিলির মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ ইকুয়েডরে প্রবল বিক্ষোভ হয়। সরকারি খরচ কমানোর অংশ হিসেবে সরকার হঠাৎ করেই জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং ভর্তুকির দাবিতে আন্দোলনে নেমে রাজপথ বন্ধ করে দেয়। এমনকি, সংসদে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ মানুষ। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

বিক্ষোভ হচ্ছে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ বলিভিয়ায়। নির্বাচনে ‘জালিয়াতি’র অভিযোগ এনে রাজপথে বিক্ষোভ করছে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ। এই বিক্ষোভের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকেই জয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। তবে বিরোধী প্রার্থী মেসা নির্বাচনের ফল গণনাকে ‘বড় ধরনের জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বলিভিয়ায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোরালেস। এ নিয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন তিনি।

হংকং, চীন
রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা হংকংয়ে। বন্দী প্রত্যর্পণ নিয়ে সরকারি একটি বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে এই গ্রীষ্মে হংকংয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিলটিতে বলা ছিল, কোনো অপরাধী ব্যক্তিকে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চীনের মূল ভূখণ্ডে হস্তান্তর করা যাবে। হংকং কমিউনিস্ট চীনের অংশ হলেও এই অঞ্চল বিশেষ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। কিন্তু হংকংয়ের মানুষের মধ্যে এই বোধ তীব্র হচ্ছে যে, বেইজিং তাদের ওপরে আরো বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। চিলি ও লেবাননের মতোই হংকংয়ের বিক্ষোভেও কাজ হয়েছে। বিতর্কিত বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। তবুও বিক্ষোভ চলমান। গত রোববারও হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ওই অঞ্চলের পর্যটন জেলা টিসিম সা টিসুই থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়।