করোনায় ভয়াবহ অবস্থায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী!

মো: বজলুর রশীদ | Apr 03, 2020 06:30 am
ইসরাইলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলি সেনাবাহিনী - সংগৃহীত

 

জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকা ও চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ‘মোসাদ’ বাইরের উৎস থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার এক লাখ কিট সংগ্রহ করেছে। সংবাদটি এমনভাবে ছাপা হয়েছে যে, কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এগুলো ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাহলে এসব কি ‘চুরি’ করা? এমনও হতে পারে, যেসব দেশের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই কিন্তু গোপনে ভালো সম্পর্ক আছে, সেসব দেশ এসব কিট বিক্রি করেছে। সমালোচকরা কিছু উপসাগরীয় দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কথা উল্লেখ করেছেন এ বিষয়ে। মোসাদ এসব কিছু সাজিয়েছে; তবে প্রকৃত সত্য জানতে আরো সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। জেরুসালেম পোস্ট আরো জানিয়েছে- অচিরেই মোসাদ আরো চার লাখ কিট সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। এজেন্সি প্রধান ইয়োসি কোহেন এই তথ্য প্রকাশ করেন। জানা যায়, প্রয়োজনে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মও নিয়ন্ত্রণ করবেন। সেখানেও পিপিইর সঙ্কট। এটিও বাইরে থেকে সংগ্রহ করার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট নির্দেশ দিয়েছেন। বোঝা যায়, করোনাভাইরাস ইসরাইলের ওপর বিষাক্ত ছোবল মেরেছে। মানবিক সংগঠনগুলো এখন ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।

নেতানিয়াহু বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে ইসরাইলে ১০ লাখ লোক ভাইরাসে আক্রান্ত হবে, এটা মোকাবেলার জন্য দৈনিক পাঁচ হাজার টেস্ট করতে হবে।, সমালোচকরা বলছেন, কারা মারা যাবে, কাদের টেস্ট করা হবে, বিষয়টি পরিষ্কার নয়। তারা বলছেন মৃতপ্রায় গাজাবাসী ও ফিলিস্তিনিদের যদি পরীক্ষা করা না হয় এবং জেলখানায় আক্রান্ত ফিলিস্তিনি বন্দীদের পৃথক করে রাখা না হয়, তাহলে অল্প দিনের মধ্যেই ওই বিপুল লোক মারা পড়বে। বর্ণবাদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনই বলে বেড়াচ্ছেন, ফিলিস্তিনিরা ভাইরাসের বাহক, তাদের পৃথক করে রাখাই ভালো।
ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলখানায় অনেক ফিলিস্তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এই খবরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারকে আরেক দুর্যোগের কালো ছায়া গ্রাস করেছে। কারাগারে রয়েছেন সাধারণ ফিলিস্তিনি এবং রাজনৈতিক ফিলিস্তিনি বন্দী যারা অবৈধ ভূমিদ খলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। জেলখানায় এসব পরিবারের সবচেয়ে সক্ষম ও কর্মক্ষম ব্যক্তিকে নানা অপরাধের অভিযোগে বন্দী রাখা হয়েছে।

এসব ফিলিস্তিনি বন্দী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এক জেলখানা থেকে আরেক জেলখানায় স্থানান্তরের সময়, জেলাখানা থেকে আদালত এবং আবার জেলখানায় নেয়ার সময় করোনার সংক্রমণ হবে। বন্দীদের স্থানান্তরের সময় তাদের একটি সেলে রাখা হয়, সেখানে সর্বোচ্চ চারজন থাকতে পারে; অথচ সেখানে গাদাগাদি করে ২০ জন পর্যন্ত রাখা হয়। তখন সেখানে বসার পরিবর্তে সর্বক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ডজন ডজন মেটাল হাতকড়ি কারারক্ষীদের হাতে থাকে। এসব জীবাণুনাশক লোশন দিয়ে ধৌত করার কোনো ব্যবস্থাই থাকে না। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, কারাগারে বন্দীর সংখ্যা চার হাজার ৮০০ দেখানো হলেও প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজারের ঊর্র্ধ্বে। যে গাড়ি কয়েদিদের ব্যবহারের জন্য আছে, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। গাড়ির সিটগুলো মেটালের তৈরি। বন্দীদের ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়, তাদের হাত ও পা শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে। তা ছাড়া ঘুমের সময়, খাওয়ার সময়ও তাদের মাঝে কোনো দূরত্ব থাকে না, একটি ‘ঠাসাঠাসির জীবন’ তাদের অতিবাহিত করতে হয়।

রোগীদের সাধারণ চিকিৎসার জন্য ব্যথানাশক ট্যাবলেট, অ্যান্টিবায়োটিক, মলম ও চোখের ড্রপ এসব দেয়া হয় মাত্র। ফিলিস্তিনিরা সন্দেহ করছেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসার ওষুধ পরীক্ষার জন্য বন্দী ফিলিস্তিনিদের ‘গিনিপিগ’ হিসেবে ব্যবহার করলে বহির্বিশ্বের করার কিছুই থাকবে না। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দীরা যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয় তার ব্যবস্থা নিতে ইসরাইল আইনত বাধ্য। জাতিসঙ্ঘের চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ৫৬ নম্বর আর্টিকেলে এমন সিদ্ধান্ত রযেছে। জাতিসঙ্ঘ এমন অনেক কথা বলে, ইসরাইল পছন্দ না করলে যা সরাসরি প্রত্যাখান করে থাকে। জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব অমান্য করার তালিকার শীর্ষে ইসরাইল। করোনায় যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন করা না হলে জেলখানাগুলোর সব বন্দী অচিরেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।

১৯৬৭ সালে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের পর সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে বন্দী করে জেলে ঢুকানো হয়েছে। ঠিক এখন কতজন বন্দী রয়েছে তার তথ্য ইসরাইল না জানালে জানার বিশেষ কোনো উপায় নেই। এ জন্য দশক ধরে প্রতিটি শান্তিআলোচনায় বন্দীদের বিষয়টি উঠে আসে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কখনো ফিলিস্তিনি বন্দীদের সাথে মানবিক আচরণ কিংবা আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনেরও তোয়াক্কা করেনি। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বিত সেলেম বলেছে, ইসরাইল নিরাপত্তার নামে ফিলিস্তিনিদের ডিটেনশনে রেখেছে।

ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে মোট সেনা সংখ্য ছয় লাখ ১৫ হাজার। পত্রিকা ‘মারিব’ জানিয়েছে, প্রায় ছয় হাজার সেনা কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ সেনাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পৃথিবীর কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ আসুক না কেন, ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন করার নিয়ম আবশ্যিকভাবে পালন করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সবাইকে কোয়ারেন্টিন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীতে প্রায় ৫০০ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। করোনা ভয়ে হাজার হাজার সেনাসদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ওয়াল্লাহ নিউজ ওয়েবসাইট জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রশাসন চিন্তিত যে, ওই দলে বড় সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আসলে কতজন সেনাসদস্য কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন সেটি ধূম্রজালে পরিণত হয়েছে।


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us