পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনাবাহিনী : কে কোন দিক থেকে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | May 21, 2020 12:28 pm
পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনাবাহিনী : কে কোন দিক থেকে এগিয়ে

পাকিস্তান ও ভারতীয় সেনাবাহিনী : কে কোন দিক থেকে এগিয়ে - সংগৃহীত

 

সেনাবাহিনীর চেয়ে বড় নয়, বরং ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনবাহিনী থেকে আলাদা হওয়ার পর থেকেই একে অন্যের দিকে সতর্কভাবে প্রস্তুত হয়ে আছে। জন্মের পর থেকে দুই বাহিনী চারবার মুখোমুখি হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী হলো স্থলভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনাকারী ভারতের প্রধান বাহিনী। তারা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সক্রিয় বাহিনী। তাদের বাহিনীতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্বে রয়েছে ১২ লাখ সদস্য, আর রিজার্ভ হিসেবে আছে ৯ লাখ ৯০ হাজার। ফলে তাদের মোট শক্তি হলো ২১ লাখ। এই সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো পাকিতান ও চীনের সাথে থাকা সীমান্ত পাহারা দেয়া, বিশেষ করে কাশ্মির ও উত্তর-পূর্বসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

সেনাবাহিনীটি ১৪টি সেনা কোর নিয়ে গঠিত। এগুলো আবার ৪০টি ইনফেনট্রি, আর্মোরেড, মাউন্টেইন ও র্যা পিড (ম্যাকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি) ডিভিশনে বিভক্ত। প্রতিটি কোরে আনুমানিক একটি আলাদা আর্টিলারি ব্রিগেড রয়েছে, ৫টি আলাদা আর্মোরড ব্রিগেড, সাতটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড ও ৫টি ব্রিগেড আকারের বিমান প্রতিরক্ষা ফরমেশন রয়েছে।
ইনফ্যান্ট্রি ও মাউন্টেন ডিভিশনগুলো প্রধানত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় নিয়োজিত। এসব এলাকায় বিদ্রোহ দমনের কাজই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ইনফ্যান্ট্রি, র্যা পিড ও আর্মোরড ফরমেশনগুলো পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে।

সেনাবাহিনী রাশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অস্ত্র পেয়ে থাকে। ইসরাইলি ও আমেরিকান অস্ত্র সরবরাহ এখন বাড়ছে। দেশীয়ভাবেও অস্ত্র তৈরী হচ্ছে।
দেশটির ৯৭টি আর্মোরড রেজিমেন্টে (আমেরিকান ব্যাটালিয়নের সমমানের) রয়েছে চার হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক। এগুলোর মধ্যে ২,৪০০টি পুরনো টি-৭২ ট্যাঙ্ক, ১,৬০০টি টি-৯০ ট্যাঙ্ক ও আনুমানিক ৩৬০টি অর্জুন এমকে ১ ও এমকে ২ ট্যাঙ্ক।
২০১৮ সালে ভারত তার সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিতে চার ট্রিলিয়ন রুপি (৫৮ বিলিয়ন ডলার) বা তার মোট জিডিপির ২.১ ভাগ ব্যয় করে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর রয়েছে ১,২৭,২০০ সদস্য, ৮১৪টি যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বিমান বাহিনী বেশ বড় হলেও জঙ্গিবিমান বহর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর রয়েছে একটি বিমানবাহীর রণতরী, ১৬টি সাবমেরিন, ১৪টি ডেস্ট্রোয়ার, ১৩টি ফ্রিগেট, ১০৬টি টহল ও উপকূলীয় যুদ্ধ যান, ৭৫টি যুদ্ধ-সক্ষম বিমান।
মেরিনে ও নৌ এভিয়েশন স্টাফসহ এর মোট সদস্য সংখ্যা ৬৭,৭০০।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অনেক ছোট। তাদের ৫,৬০,০০০ সৈন্যের সাথে আছে ২,৪৯৬টি ট্যাঙ্ক, ১,৬০৫টি আর্মোরড পারর্সোনাল ক্যারিয়ার, ৪,৪৭২টি আর্টিলারি গান। এর মধ্যে ৩৭৫টি স্ব-চালিত হাউটজারও আছে।
পাকিস্তান খুবই কঠিন প্রতিবেশীর সাথে বসবাস করলেও অপর দুই প্রতিবেশী চীন ও ইরানের সাথে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব ভারতীয় সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করা এবং পাকিস্তানি তালেবানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করা। ভারতের মতো পাকিস্তানও জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গত বছর পাকিস্তান তার সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে ১.২৬ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (১১ বিলিয়ন ডলার) বা তার জিডিপির ৩.৬ ভাগ ব্যয় করেছিল।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৯টি আর্মি কোরের অধীনে ২৬টি কমব্যাট ডিভিশনে বিভক্ত। বেশির ভাগ ডিভিশনই ইনফ্যান্ট্রি, দুটি আর্মোরড ও দুটি মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি ভিডিশন রয়েছে। প্রতিটি কোর গড়ে একটি আর্মোরড, একট ইনফ্যান্ট্রি ও একটি আর্টিলারি ব্রিগেড রয়েছে।

পাকিস্তানের রয়েছে ৪২৫টি জঙ্গি বিমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনা উৎসের এফ-৭পিজি ও আমেরিকার এফ-১৬।
সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম প্রধানত পাকিস্তানি ও চীনা। এছাড়া তুরস্ক ও আমেরিকার সরঞ্জামও ব্যবহৃত হয। দেশটির আছে প্রায় সাত শ’ ফ্রন্টলাইন ট্যাঙ্ক (খালিদ ও টি-৮০ইউডিসহ)। এছাড়া আরো আছে এক হাজার চীনা টাইপ ৫৯ ট্যাঙ্ক। পাকিস্তানের আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি যুদ্ধযানের অভাব রয়েছে। তারা মূলত দুই হাজার আধুনিক এম১১৩ ট্র্যাক্টড আর্মোরড পারসোনাল ক্যারিয়ারের ওপর নির্ভরশীল।

পাকিস্তানের রয়েছে দুই হাজার আর্টিলারি পিস। এগুলো প্রধানত চীনা ও আমেরিকান।
পাকিস্তানি অস্ত্র একটি দিক থেকে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। সেটি হলো অ্যাটাক্ট হেলিকপ্টার। দেশটির ৫১টি পুরনো এএইচ-১৫ কোবরা অ্যাটাক্ট হেলিকপ্টার রয়েছে, আরো ১৫টি এএইচ-১জেড ভাইপার অর্ডার দেয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের উপকূলীয় রেখা তুলনামূলকভাবে ছোট। তাদের আছে ৯টি ফ্রিগেট, ৮টি সাবমেরিন, ১৭টি টহল ও উপকূলীয় যান, আটটি যুদ্ধ-সক্ষম বিমান।

জিভিএস

 


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: [email protected]

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us