ভারত সীমান্তে ছত্রী সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন!

উইলিয়াম ঝেং | Sep 11, 2020 09:17 am
ভারত সীমান্তে ছত্রী সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন!

ভারত সীমান্তে ছত্রী সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন! - ছবি : সংগৃহীত

 

ভারত ও চীন উভয় দেশ সীমান্ত এলাকায় সামরিক শক্তি বাড়াতে থাকায় গোলযোগপূর্ণ হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে চীন তার এলিট বিশেষ বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে প্রস্তুত করছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সিসিটিভির বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বত মিলিটারি এরিয়া কমান্ডের একটি বিশেষ অপারেশন ব্রিগেড ও একটি সেনা এভিয়েশন ব্রিগেড সম্প্রতি যৌথভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উচ্ততায় অপরিচিত একটি এলাকায় প্রথম প্যারাসুট প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে।
প্রশিক্ষণের তারিখ ও স্থানের কথা প্রকাশ না করে সিসিটিভি জানায়, এখন পর্যন্ত স্পেশাল অপারেশন্স ব্রিগেডের তিন শতাধিক অফিসার ও সৈন্য সফলভাবে তিব্বত মালভূমিতে প্রথমবারের মতো লাফ দেয়ার কাজটি সম্পন্ন করেছে। এতে বলা হয়, উঁচু এলাকায় সশস্ত্র প্যারাসুটিং করার সুন্দর ভিত্তি স্থাপন করার জন্য এক হাজারের বেশি সৈন্যকে প্রস্তুত করা হবে।

সিসিটিভি জানায়, অফিসার ও সৈন্যদের তিন মাত্রিক আক্রমণ সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা ছিল এই প্রশিক্ষণে।
প্রতিবেদনটিতে সীমান্তে চীন ও ভারতের মুখোমুখি অবস্থানে থাকার কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে চায়না মিলিটারি অনলাইন, এটি পিপলস লিবারেশন আর্মির অফিসিয়াল নিউজ পোর্টাল, ইঙ্গিত দিয়েছে যে সীমান্ত উত্তেজনার সাথে এই মহড়ার সম্পর্ক রয়েছে।

পিএলএর সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ডের অফিসিয়াল সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অজ্ঞাতপরিচয় একটি এয়ারফিল্ডে (ধারণা করা যেতে পারে, এটি তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে) একটি জিয়ান ওয়াই-২০ এয়ারলিফটার দেখানো হয়।এতে তিনটি জিয়ান এইচ-৬-ও দেখা যায়।
সিসিটিভি গত আগস্ট মাসে জানিয়েছিল যে শত শত ছত্রী সেনা তাদের ভারী সরঞ্জাম নিয়ে জিয়ান ওয়াই-২০ থেকে মালভূমিতে ঝাঁপ দিয়েছে।
সাংহাইভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইট দি পেপারের মতে, প্রায় ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) ওপর থেকে এয়ারড্রপ প্রশিক্ষণ হয়।

রয়টার্স ৩ সেপ্টেম্বর জানায়, ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের (এসএফএফ) এক তিব্বতি সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। ওই সময় আরেক সদস্য আহত হয়। প্যাংগং লেকের কাছে মাইন বিস্ফোরণে তারা হতাহত হন।এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত তাদের বিশেষ বাহিনীকে ওই এলাকায় মোতায়েন রেখেছে।
প্রধানত তিব্বতি উদ্বাস্তুদের নিয়ে ভারতের এসএফএফ গঠিত। এসব উদ্বাস্তু ১৯৫৯ সালে ব্যর্থ বিদ্রোহের পর ভারতে পালিয়ে এসেছিল। ভারত ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের পর গঠিত তার এই গোপন বাহিনী সম্পর্কে তেমন কিছু প্রকাশ করেনি। অনেকের মতে, এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি নয়। তবে তারা পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করতে বিশেষভাবে দক্ষ।

ভারত যেখানে পাহাড়ি যুদ্ধে সক্ষমতার ওপর জোর দেয়া তার বিশেষ বাহিনীর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে চীনারা তাদের সৈন্যদের অল-রাউন্ড দক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছে। হংকংভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ সং ঝনপিং বলেন, চীন চায় তাদের সৈন্যরা যেন আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে আক্রমণ চালাতে পারে।
সং বলেন, চীন বিভিন্ন ইউনিট থেকে তাদের সৈন্যদের এনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তারা সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরেক চীনা বিশেষজ্ঞ বলেন, নিয়মিত বিশেষ বাহিনীর প্রশিক্ষণের চেয়ে উচ্চ এলাকায় এয়ারড্রপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীনের সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ডের প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের কেন্দ্রস্থল হুবে প্রদেশের ওহানে। জুন থেকে তাদেরকে সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিচয় গোপন করার শর্তে এক বিশ্লেষক বলেন, মধ্য চীনের আবহাওয়া থেকে তিব্বত মালভূমির অবস্থা সম্পর্ক ভিন্ন। নতুন পরিবেশে যুদ্ধ করার জন্য ওই পরিবেশের সাথে তাদের আগে খাপ খাওয়ানো প্রয়োজন।

সূত্র : এসসিএমপি


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us