পাপিয়া-সাহেদরা কিভাবে সুযোগ পায়!

আবু রূশ্দ | Jul 11, 2020 10:00 pm
পাপিয়া-সাহেদ

পাপিয়া-সাহেদ - ছবি : সংগৃহীত

 

প্রায় ২০ বছর আগের কথা। তখন একটি জাতীয় দৈনিকে বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করি। দেশের শীর্ষ ব্যক্তি ‘মহামান্য প্রেসিডেন্ট’ ডেকে পাঠিয়েছেন। ক্লিয়ারেন্স লাগবে তার কাছে যেতে। বিষয়টি ছিল এক মজার অভিজ্ঞতা। তবে আরো মজার ব্যাপার হলো আমি হয়তো কয়েকজন ‘বিদঘুটে’ সাংবাদিকের একজন যে কি না দৈনিক পত্রিকার প্রধান চারটি বিভাগেই কাজ করেছে! যখন আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতা শুরু করি তখন আমাকে নিয়োগ দেয়া হয় বার্তা বিভাগে, অর্থাৎ ডেস্কে। মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রমোশন পেয়ে সিনিয়র সাব-এডিটর হই আর একটি বিশেষ পাতা চালানোর দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। ওই সময় কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিকে নিয়মিত কলাম লিখতাম। ১৯৯৪ সালে শ্রদ্ধেয় বড় ভাই আহমেদ মুসা, মারুফ কামাল খান সোহেল ও আবু সাঈদ জুবেরী আমাকে প্রকাশিতব্য দৈনিক ‘দেশ জনতায়’ যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। পত্রিকাটি বেশ ভালোভাবেই বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

আমাকে মুসা ভাই সরাসরি তার অধীনে সম্পাদকীয় বিভাগে সহকারী সম্পাদক পদে নিয়ে নেন। দৈনিকে ওই পদ গ্রেড ওয়ানের। তখনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার ছয় মাস পার হয়নি। বলতে গেলে লাফ দিয়েই যোগ দিলাম আধুনিক জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ একঝাঁক সাংবাদিকের সাথে দৈনিক দেশ জনতায়। জুবেরী ভাই বার্তা সম্পাদক। তিনি হচ্ছেন সরাসরি হাছন রাজার বংশের। মরহুম অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের সন্তান। বড় মনের মানুষ। তবে অনেকটা আপনভোলা টাইপের। মুসা ভাই সবসময় এ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন ‘খুশি মনে’! মারুফ কামাল খান সোহেল ভাই ছিলেন নগর সম্পাদক। পত্রিকায় কলাম লেখা এক জিনিস, আর সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করা আরেক জটিল ব্যাপার। মুসা ভাই আমার সাথে দিয়ে দিলেন তরুণ কবি আবদুল বাতেন, ফজলু, চারুকলা থেকে পাস করা মানিক ও কুদ্দুস ভাইকে। আরো থাকল দু’জন। এদের কাজ হলো সম্পাদকীয় বিভাগ ছাড়াও ফিচারে কাজ করা। টেলিভিশনে চমৎকার একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশ জনতার আগমনী বার্তা জানান দেয়া হতো প্রতিদিন। অফিসে সাজ সাজ রব।

প্রথম সংখ্যা বেরোনোর দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। তাতে প্রধান অতিথি থাকবেন তদানীন্তন তথ্যমন্ত্রী। ওই সংখ্যাটাও হবে বেশ ঢাউস সাইজের বিশেষ সংখ্যা। আমার কাজ মুসা ভাইকে সম্পাদকীয় কাজে সহায়তা করা, প্রায় প্রতিদিনই সম্পাদকীয় লেখা। মাঝে মধ্যে তখন প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কবি আবদুল বাতেন দু-একটা সম্পাদকীয় লেখে। আমাদের গ্রুপে সবাই অবিবাহিত। তাই বেশ হইচই করে সময় পার হয়। প্রায়ই আবদুল বাতেন হাওয়া হয়ে যায়! মুসা ভাই চার দিকে খোঁজ লাগান। আমি, মানিক ভাই দৌড়াদৌড়ি করি। কিন্তু বাতেনকে পাওয়া যায় না। ফাতিমা তামান্না নামে এক ‘খাপসুরত’ আরোতকে নিয়ে কোথায় যেন গায়েব হয় বাতেন! একদিন অফিসে এসে দেখিÑ আমার টেবিলে একটি চিঠি, বাতেন লিখেছে। পড়ে মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। দৌড়ে গেলাম মুসা ভাইয়ের কাছে। ‘ফাতিমা তামান্না যদি কবি সাহেবের সাথে ঠিকমতো প্রেম না করে তবে সে আত্মহত্যার জন্য বেরিয়ে পড়েছে! অফিসের কাজ শিকেয় উঠল। বহু খোঁজখবর করে পাওয়া গেল, বাতেন তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের দিকে গেছে। ফাতিমা তামান্নার সাথে যোগাযোগ করা হলো। সে মহা ক্ষ্যাপা। বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাকে দিয়ে বাতেনকে খবর দেয়া হলো। বিষণœ বাতেন এসে হাজির হলো। আমরা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।

এ দিকে বিশেষ সংখ্যার জন্য দেশবরেণ্য সব বুদ্ধিজীবীর লেখা সংগ্রহের কাজ চলছে। জমা হচ্ছে আমার টেবিলে। আমি ওসবের খুব একটা কিছু বুঝি না, সম্পাদনার ব্যাপার স্যাপার। কম্পিউটার সেকশনে টাইপ করে নিয়ে যাই মুসা ভাইয়ের কাছে। তিনি আমাকে বসিয়ে রেখে কাটছাঁট করেন ও আমাকে শেখানোর চেষ্টা করেন। দুপুরে খাওয়ার পর মুসা ভাইয়ের রুমে আবার আড্ডা বসে। প্রথম সংখ্যা নিয়ে গুরুগম্ভীর তাত্ত্বি¡ক আলোচনা হয়। জুনিয়র মোস্ট হিসেবে সেসব শুনে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির সম্যক চেষ্টা করি মাত্র। জুবেরী ভাই মেকআপ সম্পর্কিত ম্যাজিক জানতেন বলে মুসা ভাই ও সোহেল ভাইয়ের কাছে শুনতাম। অতএব আমার অত চিন্তার কারণ ছিল না। তবে প্রায়ই লক্ষ করতাম, আমরা রাত পর্যন্ত অফিস করলেও জুবেরী ভাই বিকেলের দিকে কোথায় যেন চলে যেতেন। এ নিয়ে মুসা ভাইয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ত।

 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই আমরা সবাই অফিসে। ঢাউস সংখ্যা বের হবে বলে কম্পিউটার সেকশন থেকে সব কম্পোজ করে মুসা ভাইয়ের টেবিলে স্তূপ করে রাখা। দিন দুয়েক আগে থেকেই মেকআপের কাজ শুরু হবে বলে শুনেছিলাম। সে সময় মেকআপ ছিল বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। আগে ছবি পজিটিভ করে নিয়ে আসতে হতো। মাপজোখ করে স্কেল দিয়ে রুল টেনে প্রতিটা পাতার ডিজাইন ঠিক করতে হতো। লেখার মাপ না মিললে কাঁচি দিয়ে কেটে কোনো একটি অংশ বা কয়েকটি লাইন বাদ দিতে হতো। অনেক সময় লেগে যেত এসব করতে। মুসা ভাই প্রথম দিনের সম্পাদকীয় লিখে দিয়েছেন।

উপসম্পাদকীয়ও দেখে ঠিক করে দিয়েছেন। আগের দিনই সেসব খেটেখুটে পাতা পেস্ট করে রেখেছি। সম্পাদকীয় বিভাগের কাজ বলতে গেলে শেষ। এ দিকে জুবেরী ভাইয়ের খবর নেই! বিকেলে মন্ত্রী সাহেব এলেন। টিভি ক্যামেরা এলো। কয়েকজন বড় মাপের বুদ্ধিজীবীও আলোচনায় অংশ নিলেন। সন্ধ্যার দিকে চা নাশতা খেয়ে মন্ত্রী মহোদয় বিদায় হলেন। তখনো জুবেরী ভাই নেই! বিশেষ সংখ্যার জন্য যে ১২ পাতার আলাদা ফিচারবিষয়ক সঙ্কলন বের হবে তার একটি পাতারও মেকআপ হয়নি। এর ওপর অন্যান্য নিয়মিত পাতার মেকআপ তো রয়েছেই। সব দায়িত্ব জুবেরী ভাইয়ের। তিনি গায়েব! মুসা ভাই উন্মাদের মতো দৌড়াদৌড়ি করছেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে আমাকে ডেকে বললেন, হয়তো জুবেরী ভাই কোনো বিশেষ কাজে আটকা পড়েছেন। তাকে বাসার ফোনেও পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন সে সময় কেবল বাংলাদেশে এনেছে সিটিসেল। একেকটি মটোরোলা সেটের দাম এক লাখ টাকারও বেশি।

আউট গোয়িং বিল প্রতি ইউনিট ১৩ টাকা, ইনকামিং ৯ টাকা! অতএব, আমাদের কারো কাছেই ওই মহার্ঘ্য বস্তুটি ছিল না। এখন কী করা যায়? মুসা ভাই ও সোহেল ভাই আমাকে ডেকে বললেনÑ রূশ্দ, আপনিই মেকআপ করুন বিশেষ সংখ্যার! বলে কী? মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। এ দিকে মালিকপক্ষও জুবেরী ভাইকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে। তাদের প্রথম সংখ্যা কী রকম হবে তা নিয়ে হতাশায় ডুবে গেছে। কী আর করা? বাতেন, মানিক ও কুদ্দুস ভাইকে নিয়ে নেমে পড়লাম ১২ পাতা মেকআপ করতে। এর আবার বেশির ভাগ রঙিন। ওই সময় রঙিন পাতা বের করা চার গুণ ঝামেলার কাজ ছিল। যা হোক, আল্লাহর নাম নিয়ে আমরা বহু কষ্টে রাত প্রায় ১১টার দিকে মেকআপ শেষ করলাম। কম্পিউটার সেকশনের এমদাদ ও নাসির ভাই অনেক সহায়তা করলেন। সোহেল ভাই মেকআপ করলেন প্রথম, শেষ ও অন্যান্য নিয়মিত পাতার। তার সাথে থাকলেন বার্তা বিভাগের শিফট-ইনচার্জসহ কয়েকজন। যেভাবেই হোক বিশেষ সংখ্যাসহ প্রথম দিনের পত্রিকা বেরিয়ে গেল। সবাই হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। শুরু হলো আমার ফিচার পাতা চালানোর কাজ। বড় একটা রুম দিয়ে দেয়া হলো আমার জন্য। মুসা ভাইয়ের সহযোগিতা ও উৎসাহে ওই পত্রিকায় কাজ করার শেষ দিন পর্যন্ত সম্পাদকীয় পাতা ছাড়াও ফিচার বিভাগের দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়েছে। খালি সাহিত্য পাতার কাজই সাংবাদিকতা জীবনে করতে হয়নি! তবে ওই পত্রিকাতে থাকতেই মুসা ভাইয়ের নির্দেশে মাঝে মধ্যে কিছু বিশেষ রিপোর্ট করতে হয়েছে। সবই প্রতিরক্ষাবিষয়ক। এভাবেই বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমার হাত দিয়ে প্রতিরক্ষা সাংবাদিকতার জন্ম হয়। রিপোর্টগুলো সে সময় বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।

দৈনিক দেশ জনতা ছিল আধুনিক মন-মানসিকতার একটি চমৎকার পত্রিকা। একসময় এতে উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাপ্তাহিক চিত্রালীর একসময়কার সম্পাদক মরহুম আহমদ জামান চৌধুরী। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যত বিখ্যাত চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে তার অনেকগুলোর কাহিনীকার ছিলেন তিনি। গানও লিখেছেন প্রচুর। ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ এই জনপ্রিয় গানটির তিনি ছিলেন সুরকার। তিনি যোগ দেয়ায় কাজ শেখা আরো বেড়ে গেল। এত সিনিয়র মানুষ, কিন্তু আমাদের সবাইকে খুব স্নেহ করতেন। ওই দৈনিকে থাকতেই বিয়ে করি ১৯৯৫ সালে। এ দেশে বর কনে দেখতে যায়। আমি আমার শাশুড়িকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, কনে যেন আমাকে দেখতে আসে। ওমা! দেখি সে এসে হাজির। সাথে বিয়ের প্রস্তাবক আমাদের আরেক সাংবাদিক মনোয়ারা আপা। আহমদ জামান চৌধুরী বিয়েতে নিজে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে একটি চমৎকার গিফট দিয়েছিলেন, যা এখনো আমার কাছে সযতনে রক্ষিত আছে।

বিয়ের পর থাকতাম আরামবাগে, মতিঝিলে অফিসে যাওয়া-আসায় যাতে সুবিধা হয়, সেই বিবেচনায়। কবি আবদুুল বাতেনের এতে সুবিধা হলো আরো বেশি! সে তামান্নাকে নিয়ে বা একলা প্রায়ই বাসায় এসে আমার স্ত্রীর কাছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিগূঢ় আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু করে দিলো। তামান্না সে সময় ছাত্রী। সে তখনই বিয়ে করবে না। বাতেন নাছোড়বান্দা। যত দিন দেশ জনতায় ছিলাম তত দিন দু’জন বিয়ে করেনি! এর ক’বছর পর যখন দৈনিক ইনকিলাবে আমি রিপোর্টিং বিভাগে কাজ করছি, বাতেন সাহিত্য বিভাগে; তখন হুট করে তারা বিয়ে করে ফেলল। মজার ব্যাপারÑ ঘটনাটি জানলাম পরের দিন। তামান্না পরে ২০০৭ সালে আমার কলিগ ছিল দৈনিক আমার দেশে। বাতেন এখন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় সরকারি সাংবাদিক হিসেবে নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করছে। ‘সুখী পরিবার’ যাকে বলে।

দৈনিক দেশ জনতা ছেড়ে আসি ১৯৯৬ সালে। এরপর যেখানে কাজ করেছি সেখানে সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত ছিলাম। সম্পাদক ছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আখতার উল আলম। ওখানেও সম্পাদকীয় বিভাগে সহকারী সম্পাদকদের মধ্যে আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ। তাই কাজ একটু বেশিই করতে হতো। আখতার উল আলম ছিলেন বেশ রাশভারী, কিন্তু জ্ঞানের ভাণ্ডার। দুপুরে অফিসে এসে তিনি সম্পাদকীয় বিভাগের সবাইকে তার রুমে ডাকতেন। ইতিহাসের অনেক চমকপ্রদ ঘটনা নিয়ে আলাপ করতেন। আমরা হা হয়ে শুনতাম। বলতে গেলে তার কাছ থেকেই সম্পাদকীয় কিভাবে গুছিয়ে লিখতে হয় তা শিখেছি। একদিন এমন আড্ডার পর তিনি সবাইকে কাজ ভাগ করে দিলেন। সালাম দিয়ে চলে আসব, সে সময় তিনি আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন। বাকিরা চলে গেলে মোটা একটি খাম ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ওটা পুরোটা ভালো করে পড়বে। আগামীকাল বাসা থেকে রিপোর্ট লিখে নিয়ে আসবে। পরশু ওটা লিড রিপোর্ট হবে। কাচুমাচু করে বললাম, আমি তো রিপোর্টার নই।

এটা চিফ রিপোর্টার এলাহী নেওয়াজ খান সাজু ভাইকে দিলে হতো না? তিনি জানালেন, বিষয়টি অতি সেনসিটিভ। কোনো একটি সরকারি সংস্থা থেকে সম্ভবত পাঠানো হয়েছে। প্রেরকের নাম-ঠিকানা নেই। ডাকে এসেছে। বাসায় এসে খামের ভেতরের নথিপত্র পড়ে আক্কেলগুড়ুম। স্পষ্টতই স্পর্শকাতর বিষয়। এসব নিয়ে নাড়াচাড়া করা বিপজ্জনকও বটে। কিন্তু সম্পাদকের নির্দেশে রাতেই বাসায় রিপোর্ট লিখে ফেললাম। দেশ জনতার নাসির ভাই তখন আরামবাগে একটি অফিসে কাজ করেন। তাকে দিয়ে কম্পোজ করালাম, পরদিন সকালে যাতে হাতের লেখা না থাকে। যথাসময়ে ওই রিপোর্ট শীর্ষ প্রতিবেদন হিসেবে ছাপা হলো। রিপোর্ট করার যে সাধারণ নীতিমালা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত জানতে চাওয়া তা আর করা হয়নি বিষয়টির স্পর্শকাতর অবস্থান বিবেচনা করে। যা হোক, যে দিন রিপোর্টটি বের হলো, সে দিনই তদানীন্তন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি জনসভা ছিল কোথাও। তিনি আমার ওই রিপোর্টটি হাতে নিয়ে জনতাকে পড়ে শোনালেন। আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। দুই দিন পর একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ডেকে পাঠালেন। যেহেতু সেনাবাহিনীতে অফিসার ছিলাম, তাই তারা ডাকলে না গিয়ে উপায় ছিল না। তিনি আমার পূর্বপরিচিত ও সজ্জন মানুষ। খাস কামরায় বসতে বলে সরাসরি জানতে চাইলেন, রিপোর্টটি আমি করেছি কি না। স্বীকার করলাম। তিনি আমাকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, তুমি স্বীকার করেছ বলে আর কিছু বলছি না। যদি না করতে তা হলে কে রিপোর্টটি করেছে তা বের করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। সরকার খুব ক্ষেপে গেছে এ-জাতীয় তথ্যপ্রমাণ বাইরে যাওয়ায়। তা তুমি ওই সব নথি পেলে কোত্থেকে? এবার আমি জানিয়ে দিলাম, স্যার, সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী সোর্স কখনোই বলব না। আমাকে যা করার করুন। তিনি কিছুই করলেন না। চা আর স্যান্ডউইচ খাওয়ালেন এবং উপদেশ দিলেন যে, আগামী কয়েক দিন যেন আমি সাবধানে থাকি।

কিসের সাবধানে থাকা? এরপর একের পর এক ফলোআপ নথিপত্র আসা শুরু হলো আমার কাছে। সম্পাদক নির্দেশ দিতে থাকলেন রিপোর্ট করার জন্য। দৈনিকটির কাটতি অনেক বেড়ে গেল। বেগম জিয়াসহ অনেক রাজনৈতিক রথী, মহারথীর সাথে ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়ে গেল। এর মাঝে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় বিএনপিকে বাংলাদেশ নাথিং পার্টি লেখায় সিনিয়র এক নেতা ডেকে পাঠালেন। তিনি খুব দুঃখ করে বললেন, আপনি তো ‘আমাদেরপন্থী’ সাংবাদিক। অমনভাবে বিএনপিকে নিয়ে না লিখলে কি হতো না? আমার জবাব ছিল, হয়তো কোনো একটি রাজনৈতিক আদর্শে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু ওর সাথে সাংবাদিকতার কী সম্পর্ক? তিনি কিছুই বলেননি। আরেকবার আওয়ামী লীগ সম্পর্কে একটি বড় মন্তব্য প্রতিবেদন লেখার পর যতদূর মনে পড়ে, তোফায়েল আহমেদ সাহেব সম্পাদককে ফোন করে অভিযোগ করেছিলেন। সম্পাদকও তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করতে। ওইটুকুই। তোফায়েল সাহেব বা কোনো আওয়ামী লীগ নেতা আর কিছু বলেননি।

বিএনপিকে নাথিং পার্টি বলার পর যে নেতা ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশের এক নম্বর ব্যক্তি হয়ে বসলেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলেন। মনে মনে প্রার্থনাÑ ইয়া আল্লাহ এবার তো আর নাথিং পার্টি বলার খেসারত না দিয়ে যেতে পারব না! মাবুদ রক্ষা করো! তখন আমি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায়। সে সময় ওটি সবচেয়ে বেশি সার্কুলেটেড দৈনিক ছিল। যোগ দিয়েছি রিপোর্টিং বিভাগে। সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভাইকে সম্পাদকীয় বিভাগে নিয়োগ দেয়ার কথা বললেও তিনি রিপোর্টিংয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগের ওই দৈনিকটিতে যে ক’টি বিশেষ রিপোর্ট করেছিলাম তা তার নজর কেড়েছিল, তাই। একদিন সকালে অফিস থেকে ফোন করে জানানো হলো, পরদিন সকাল ১০টায় মহামান্য প্রেসিডেন্ট আমাকে দেখা করতে বলেছেন। আমি জীবনে এন্তার দেশী-বিদেশী ভিআইপির সাথে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু কোনো দিন কোনো ভিআইপি দেখলে নিজেকে আড়াল করে নিতাম। এটিই আমার স্বভাব। মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদ তার বাসায় বহুবার যেতে বলেছেন। স্যারের সাথে বসে খেয়েছি।

কিন্তু যে দিন জাতীয় পার্টির বিট করা শেষ করেছি, তার পর থেকে কোনো দিন আর তার কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করিনি। স্যার ডাকার পরও তার ওখানে যেতে চাইতাম না। যা হোক, বিএনপি জমানার প্রেসিডেন্ট তলব করেছেন কেন, তা ভেবে ওই দিন ও রাত পার করলাম। এর মধ্যে ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, এসএসএফ থেকে ফোন এলো একটির পর একটি। বেশ কিছু গৎবাঁধা প্রশ্ন করা হলো আমার ও আমার পরিবার সম্পর্কে। তারা আমাকে চিনতেন। কিন্তু ব্যাপারটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার। তাই বিধি অনুযায়ী তাদের কাজ সব কিছু জেনে নেয়া ফ্রেশভাবে। এ ছাড়া তারা গোপনে খোঁজও নেবেন যদি সন্দেহ থাকে। এখনো মনে আছে, রংপুরে আমার আব্বার বাসায় গিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এনসিও (করপোরাল বা সার্জেন্ট) আব্বার কাছে জানতে চেয়েছিলেন আমার ইমিডিয়েট ছোট বোনের স্বামী সম্পর্কে। তিনি ছিলেন বিসিএস অফিসার। সমস্যা হলো বেচারা এরশাদ ফ্যামিলির! ওই এনসিও রংপুর থেকেই আমাদের বাসার ফোন দিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেন। আমি বলি, তোমার কি কোনো আওয়ামী লীগার আত্মীয়স্বজন নেই? জাতীয় পার্টি করে এমন চাচা, জ্যেঠা নেই?- জি স্যার, আছে। তা হলে আমার বৃদ্ধ বাবাকে কেন ওই সব জিজ্ঞেস করছ?Ñ স্যার, কী করব? ঢাকার অফিস থেকে জানতে চেয়েছে! বললাম, যা আব্বা বলেছেন তা লিখে দাও। দেখা করতে তো যাবো আমি, আমার বোনের স্বামী নয়। পরে ওই গোয়েন্দা সংস্থার ঢাকা অফিসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে ব্যাপারটি জানাই। তিনি আমার সিনিয়র ছিলেন সেনাবাহিনীতে। সোজা জানিয়ে দিলেনÑ রূশ্দ, তোমাকে আমরা সবাই চিনি। সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান সবাই জানেন। কিন্তু ওটা প্রসিডিউর। তুমি যাবে দেশের এক নম্বর ব্যক্তির সাথে দেখা করতে। আমাদের নিয়মরীতি ফলো করতেই হবে। এতে যদি তোমার ব্যাপারে নেগেটিভ কিছু আসে তা হলে সাক্ষাৎকার পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হতে পারে যতক্ষণ না ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায় প্রথামাফিক। ব্যাপারটির জটিলতা অনুধাবন করলাম। জীবনে বহু মারদাঙ্গা রিপোর্ট ও কলাম লিখলেও দেশের আইনের বিরুদ্ধে যায় এমন একটি ছোটখাটো কাজও করিনি। সিগারেট খেয়ে কোনো দিন রাস্তায় সিগারেটের বাঁট ফেলিনি পর্যন্ত। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হইনি। তাই মনে বল ছিল। সন্ধ্যার মধ্যে আমাকে জানিয়ে দেয়া হলো, অল ক্লিয়ার। কাল সময়মতো রাষ্ট্রপতির দফতরে যেন চলে যাই।

পরদিন যথাসময়ে বঙ্গভবনের গেটে উপস্থিত হওয়ার পর নিয়মকানুন অনুসরণ করে আমাকে মহামান্য প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি কেন ডেকেছিলেন, তা এখানে বলছি না। তবে কোনো একটি লুক্রেটিভ পদে যোগ দিতে বলেছিলেন। আমি বিনয়ের সাথে বলেছিলামÑ স্যার, যে দিন আর্মি ছেড়েছি সে দিন পণ করেছি কোনো দিন সরকারি কোনো পদে কাজ করব না। তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। কারণ ওই পদে যাওয়ার জন্য লাইন ধরে তদবির চলছে। ঘণ্টাখানেক তার খাস কামরায় তিনি আমার সাথে আলাপ করলেন। হেসে হেসে বললেন, এখনো কি মনে হয় বিএনপি নাথিং পার্টি। আমি জোর দিয়ে বললামÑ জি স্যার, ওটা ক’দিন পরেই টের পাওয়া যাবে!

সাংবাদিকতা জীবনে বিদেশী প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও অনেক ভিভিআইপির সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে, পরিচয় হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী যা করার তা মেনেই সব জায়গায় গেছি। এমনও হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কভার করতে গেছি, কিন্তু এসএসএফ সাথে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে দেবে না। আবার কোথাও রাখবেও না। মোবাইল চালু হওয়ার প্রথম দিকের কথা এসব। যারা ডিউটিতে তাদের কাউকেই চিনি না। একজন পরিচালক ছিলেন খুবই ঘনিষ্ঠ। হঠাৎ একজন মেজর এসে পরিচয় দিয়ে জানাল, ও আমার কলেজের ছোট ভাই। নিজ দায়িত্বে মোবাইল রাখার ব্যবস্থা করল। তবে ঠিকই জানিয়ে দিলো যেন আমি পরে আর কখনো ওভাবে মোবাইল নিয়ে না যাই। এসবই প্রটোকল, প্রচলিত আইনকানুনের কথা। এগুলো ভালো না লাগলেও মানতে হবে। যারা এসব বাস্তবায়নে থাকেন তাদের দায়িত্ব ‘অনুরাগ, বিরাগের’ বশবর্তী না হয়ে কাজ করে যাওয়া। যাকে তাকে ক্লিয়ারেন্স দেয়া যেমন নয়, তেমনি যে পাওয়ার যোগ্য তাকে অপমান করাও নয়।

এত কিছু লিখলাম শুধু একটি প্রসঙ্গ উত্থাপনের জন্য। আর কনসার্নড কর্মকর্তাদের প্রতি কয়েকটি প্রশ্ন করার জন্য। আশা করি তারা এসব ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখবেন। সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। এর আগে পাপিয়া নামের এক নারীকে নিয়ে মিডিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু’টি ঘটনাতেই দেখা যায়, হঠাৎ করেই তাদের সাথে রাষ্ট্রের সব নামী-দামি মানুষের ছবি মূলধারার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চাউর হতে থাকে। অবাক দৃষ্টিতে আমাদের দেখতে হয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সাহেদের হাত মেলানোর ছবি কোনো একটি রিসিপশনে। দেখা যায়, সে বঙ্গভবনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেও ‘সম্মানিত অতিথি’। সশস্ত্রবাহিনীর কারো কারো সাথেও তার ব্যক্তিগত ছবি বেরিয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তো বটেই, কেউই জানতেন না সাহেদের মূল বৈশিষ্ট্য নিয়ে। জানলে অন্তত সশস্ত্রবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা তার সাথে ছবি তুলতে রাজি হতেন না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই চিড়িয়াকে সব জায়গায় ক্লিয়ারেন্স কিভাবে দেয়া হলো? রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে হলে বা দাওয়াতপ্রাপ্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান কোনো ‘যদু মধু’র যাওয়ার জন্য নয়। প্রশ্নÑ এর মতো মানুষ কিভাবে ওখানে দাওয়াত পেয়েছে? কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও সাহেদ কোনো ক্লিয়ারেন্সের বদৌলতে দেখা করেছে? এগুলো তো একদিনে হয়নি। হঠাৎ এখন সব একসাথে বের হচ্ছে! আজব বিষয় না? এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থা তার অপকর্ম সম্পর্কে কি কিছুই জানত না? মিডিয়া কি বলদে পরিণত হয়েছিল? টিভির অ্যাংকররা এমন একজন মানুষকে জাতির সামনে ‘বিবেক’ বানিয়ে ছেড়েছেন? কিভাবে ওসব হয় এত দিন সাংবাদিকতা করার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা হলেও তা বুঝি। সব বলতে চাই না। দরকারও নেই।

সাহেদ গং মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছাতে পারে, জাতির জনকের ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে ‘পরিচয়’ তৈরি করতে পারেÑ এত এত সংস্থা, করিৎকর্মা কর্মকর্তা থাকতে। পান থেকে চুন খসলেই তো দেখি কত আইনে কত মামলা, কত গ্রেফতার। আজকাল তো সে জন্য লিখতেও ইচ্ছা করে না। ক’দিন আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে লিখতে গিয়ে কয়েকশ’বার ভাবতে হয়েছে। অথচ লেখার একটা স্টাইল থাকে। সেটা না থাকলে মজাটাই থাকে না। আজ স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলতেও সঙ্কোচ হয়। কোনো বন্ধু যে কি না গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে তার সাথে তো কথাই বলি না। সারভেইল্যান্স সবখানে। ইলেকট্রনিক, হিউম্যান- সব।

কত ঠুুনকো ‘অভিযোগে’ কত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ক্লিয়ারেন্স নেই বহু জায়গায় যাওয়ার। মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত জেনারেলকেও ফিরিয়ে দেয়া হয় মাঝপথে বঙ্গভবনে যাওয়ার সময়। আমার জানা মতে, একজন সাবেক বাহিনী প্রধানসহ বহু সেনাকর্মকর্তা শুধু রাজনৈতিক কারণে ‘অবাঞ্ছিত’। গোয়েন্দা রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই এমনটি করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সংস্থা তা করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থাকেÑ একজন সাবেক বাহিনীপ্রধান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন? তাদের রাজনৈতিক আদর্শ তো দেশে নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু সাহেদ, পাপিয়ারা যে সরকারি দলের আদর্শকেই খেয়ে ফেলছে সেই খেয়াল কি আছে কারো? গোয়েন্দা সংস্থায় আজ ডিজিসহ বড় বড় পদে যারা আছেন, তাদের প্রায় সবাই সেনাবাহিনীর কোর্স হিসেবে আমার জুনিয়র। আশা করি, আপনারা এ-জাতীয় মানুষদের ব্যাপারে দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে সরকারকে তেতো হলেও সত্য তথ্য দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সাহেদ আর সৃষ্টি না হয়। কারণ এই লজ্জা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, পুরো জাতির যার অংশীদার সবাই। 

লেখক : সাবেক সেনাকর্মকর্তা, সাংবাদিক, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us