বৃহত্তম ক্যাথলিক দেশে প্রথম মুসলিম বিচারপতি

অন্য এক দিগন্ত | Jan 08, 2021 07:17 pm
আলি মাজলুম

আলি মাজলুম - ছবি : সংগৃহীত

 

নানা কারণে লেবানন ছাড়া লোকজন। নানা দেশে ছড়িয়ে আছে তারা। দেশটির লাখ লাখ উদ্বাস্তুর একজন হলেন আলি মজলুম। তবে তার কাহিনিটা অন্যদের থেকে বেশ অন্য রকম। ১৯৫০ সালে আলি মাজলুমের পিতা মুহাম্মদ ব্রাজিলে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই সময় তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তার ছেলে একদিন বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাথলিক দেশের ফেডেলার বিচারক হয়ে উঠবে। আলিই হলেন প্রথম কোনো মুসলিম যিনি ব্রাজিলে এই পদমর্যাদা পেয়েছেন।

ওই সময়ে আরো হাজার হাজার লেবানিজ উদ্বাস্তুর মতো আলির পিতাও ব্রাজিলে কাজের সন্ধানে এসেছিলেন। মুহাম্মদ ওই সময় ব্রাজিলের ফুটপাথে দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী বিক্রয় করতেন, পরে একটি আসবাবের দোকানে কাজ করতেন তিনি। মুহাম্মদের ছেলে আলি মাজলুম জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬০ সালে। জন্মের পর থেকে পারিবারিক অর্থাভাব দেখে বেড়ে ওঠা আলির কিন্তু ছিল বিরাট উচ্চাকাঙ্ক্ষা। জীবনে কিছু একটা করে দেখানোর জেদ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন মাজলুম। কিন্তু আর্কিটেকচারে আগ্রহ হারিয়ে আইনের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। ১৯৮৭ সালে আইম বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন আলি।

তিনি এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি আর্কিটেকচার স্কুলে গিয়েছিলাম, তবে আমি আইনের ভালোবাসায় পড়ে যাই।’ গ্র্যাজুয়েশনের পর আলি একজন পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৯২ সালে ব্রাজিলে প্রথম কোনো মুসলিম হিসেবে আলি ফেডেরাল বিচারকের দায়িত্ব পান। আলির কথায়, ‘এখন পর্যন্ত আমিই দেশটির একমাত্র ফেডেরাল বিচারক,এবং মহান আল্লাহ্র ইচ্ছায় আমিই একদিন সুপ্রিম ফেডেরাল কোর্টের বিচারক হব।’

আপাতত ওই লক্ষ্যপূরণেই কাজ করছেন তিনি। তার কথায়,‘আমি পদোন্নতির চেষ্টা করছি, আশা করছি আগামী বছর তা হবে।’
অবসর গ্রহণের পর তিনি তার দুই আইনজীবী পুত্র আমির এবং ওয়ালিদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ব্রাজিলের ফেডেরাল বিচারক হওয়ার পাশাপাশি আইন ও ইসলাম বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। বলেন,‘আমি পাঁচটি আইন সংক্রান্ত বই লিখেছি এবং একটি লিখেছি ইসলামের ওপর। তাতে রয়েছে মুসলিমদের আচরণ, ইসলামি জীবন এবং বিপদের সময়ে কীভাবে কাজ করবেন তার ওপর কিছু তথ্য।’ ১৯৯৭ সালে আলি মজলুম তার প্রথম বইটি লেখেন। ওই বইটিই এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে যে, বর্তমানে ব্রাজিলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ক্যানসারে আক্রান্ত ২০০ রোগীর ৫ কোটি টাকা বিল মওকুফ করে নায়ক মুসলিম চিকিৎসক
মহামারির মাঝে নিজেদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ২০০ জনের মতো ক্যানসার রোগী। কীভাবে হাপাতালের লম্বা-চওড়া বিল পরিশোধ করবেন,তা ভেবে রাতের ঘুম হারিয়েছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎই একদিন তারা জানতে পারলেন তাদের বিল মওকুফ করে দিয়েছেন একজন মুসলিম মার্কিন চিকিৎসক। এক বা দুই লক্ষ টাকা নয়, একেবারে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার বা পাঁচ কোটি টাকা!

ড. ওমর আতিক আমেরিকার আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন করোনার কারণে তার রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে অক্ষম। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ওই বিপুল বিল মওকুফ করবেন। তবে মহানুভবতার এই বিরল নিদর্শন তৈরি করার পর চড়া মাশুলও গুনতে হয়েছে তাকে। প্রায় ৩০ বছর ধরে চালানো ক্লিনিকটি অর্থাভাবে গত বছর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি গতবছরের ক্রিসমাসের। রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য একটি পাওনা আদায়কারী সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। এসময় তিনি জানতে পারেন, তার রোগীদের আর্থিক দুর্দশার কথা। এরপর তিনি ২০০ রোগীকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখে জানান যে তাদের বকেয়া মওকুফ হয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ড. আতিক ১৯৯১ সালে আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের পাইন ব্লাফ শহরে একটি ক্যানসার ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন।

সেই ক্লিনিকে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপির মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়। ড. ওমর আতিক বর্তমানে লিটল রকের ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসাস ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেসে একজন অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি এবিসি নিউজের গুড মর্নিং নামক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হল মহামারির মধ্যে বহু মানুষ ঘর হারিয়েছে, অনেকের আপনজন মারা গিয়েছেন এবং ব্যবসা বাণিজ্যও বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই বকেয়া মওকুফের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর ছিল না।’ এ ধরনের মানবিক কাজ করার পর থেকেই আমেরিকায় প্রচারের আলোয় এসেছেন আতিক। বহু মানুষের দোয়া সঙ্গে নিয়ে পুনরায় নিজের বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যানসার ক্লিনিকটি খোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

সূত্র : পুবের কলম


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us