ইসলামের বিধান প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

Jun 20, 2019 03:18 pm

 

ধর্মের কোনো সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা দিতে পারেননি সমাজবিজ্ঞানীরা। তবে তাদের মতে, ধর্মের পরিচয় দেয়া যায় প্রধানত দুইভাবে। বলা যায়, ধর্ম হলো সামাজিক, মনস্তাত্বিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপটের দাবি অনুযায়ী, প্রত্যেক যুগের বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একগুচ্ছ আইন। অথবা বলা যায়, ধর্ম হলো সব যুগের মানবজাতির জন্য একগুচ্ছ স্থায়ী ও স্থিতিশীল নৈতিক রীতি ও কর্তব্য। 

আমরা পরীক্ষা করে দেখতে চাই, কুরআন মজিদ, যা ইসলামের ঐশী গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত এবং এই আসমানি ধর্মের শ্রেষ্ঠ ও প্রধান ভাষ্য, তা ধর্মের কোন পরিচয়টি দেয়। দ্বিতীয়টি যদি সত্যিই কুরআনি দৃষ্টিকোণ হয়, তাহলে তার প্রত্যেক যুগের চাহিদা পূরণের দাবি কিভাবে যথার্থ হয়?

কুরআন কি চায় যে, মানবসমাজ যেন পর্যায়ক্রমে একটি নির্ধারিত স্থির অবস্থায় চলে যাক এবং মানব সভ্যতার উন্নতির সব দরজা বন্ধ হয়ে যাক? কুরআন কি চায় যে, মানুষের সব উন্নয়নমূলক ও অগ্রগতিমূলক কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে থেমে যাক? আর মানুষ ও তার সমাজ যে মহাবিশ্বের একটি অংশ, সেই মহাবিশ্বের প্রবহমান প্রকৃতি ও সদা পরিবর্তনশীল ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ তা কিভাবে মোকাবেলা করবে?
বস্তুত কুরআন মজিদ এই আসমানি ধর্মের পরিচয় দেয় অদৃশ্য জগত থেকে আগত ধর্ম বলে। তা এই ধর্মের বার্তাগুলোকে সৃষ্টির পুরো ব্যবস্থা ও সদা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত করে। একই সাথে তা ধর্মের উপাদানগুলোর স্থিতিশীলতা, অপরিবর্তনশীলতা ও স্থায়িত্বের কথাও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

ইসলাম একজন ব্যক্তি বা একটি সমাজের গুণাবলি, সুখ বা অকল্যাণ যে পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করে, তা একজন পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন। এ বিষয়গুলো বস্তুবাদী আলোচনার চশমায় প্রত্যক্ষ করা হলে যেমনটি দেখা যাবে, কুরআনের দৃষ্টিতে পরীক্ষা করা হলে চিত্রটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কুরআন মজিদ ইসলামী আইন ও ইসলামী নীতিকে বিবেচনা করে এমন একগুচ্ছ নীতি হিসেবে যা সৃষ্টিজগতের নিয়ম বিশেষ করে সদা পরিবর্তনশীল ও বিকাশমান প্রকৃতির মানবসমাজকে পরিচালিত করে। স্বয়ং এই সদা পরিবর্তনশীলতা ও বিকাশমানতাই প্রকৃতি জগতের একটি অংশ ও অঙ্গ। এসব আইন সত্যকে বাস্তায়িত করে। এগুলো কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশির শিকার হয় না, যেমনটি হয়ে থাকে স্বৈরতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোর আইনের ক্ষেত্রে। তেমনি ইসলামী আইন গণতান্ত্রিক দেশগুলোর আইনের মতোও নয়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছার অধীন হয়। ইসলামী আইনগুলো প্রণীত হয়েছে বিশ্বজগতের সৃষ্টিগত সব নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং এই আইন সম্পূর্ণরূপে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আামিনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

প্রত্যেক যুগের চাহিদা ইসলাম যেভাবে পূরণ করে

সমাজ সম্পর্কে আলোচনা করতে এই বিষয়টির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয় যে, সমাজ হলো মানব জীবনের চাহিদা এবং মানুষ যেহেতু একাকি তার সব চাহিদা পূরণ করতে পারে না, এজন্য মানবজাতি সমাজবদ্ধভাবে থাকাকে বেছে নিয়েছে নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই। তেমনি আইন সম্পর্কে অলোচনায় আমরা প্রায়ই একটি কথা শুনে থাকি। তা হলো একটি সমাজ তার সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে কেবল তখনই, যখন তা এমন একগুচ্ছ আইন ও বিধি প্রণযন করে যা তাদের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যাতে সমাজের প্রত্যেক সদস্য তার যুক্তিসঙ্গত অধিকার লাভ করতে ও সামষ্টিক অবস্থানের সুবিধা ভোগ করতে পারে।

এই দুই ধারণার আলোকে বলা যায়, সামাজিক আইনের প্রধান ভিত্তি মানব জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ, যা ছাড়া একজন মানুষের পক্ষে এক মুহূর্তের জন্যও টিকে থাকা সম্ভব নয়। মৌলিক চাহিদা পূরণেরই সরাসরি ফল দাঁড়ায় সমাজ গঠিত হওয়া এবং আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন।

সুতরাং যে সমাজে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে না ও যেখানে সদস্যদের মধ্যে কার্যকলাপের পারস্পরিক সম্পর্ক নেই, এমন একটি জনগোষ্ঠী সমাজ নামে আখ্যায়িত হওয়ার যোগ্য নয়। একইভাবে যেসব আইন ও বিধির বিদ্যমানতা ও বাস্তবায়ন জনগণের সামাজিক চাহিদা পূরণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, সেগুলো আইন নামে আখ্যায়িত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। কেননা, আইনের অর্থই হলো এমন একগুচ্ছ নিয়ম যা মৌলিক-সামাজিক স্বার্থ রক্ষা করে।

সমাজের চাহিদাগুলো মোটামুটি মেটায় এবং সমাজের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, এমন আইন থাকা অত্যন্ত অসভ্য ও পশ্চাৎপদ সমাজগুলোর জন্যও প্রয়োজন। অবশ্য প্রাচীনকালের সমাজগুলোতে আইন ও বিধানগুলো ছিল রীতি ও প্রথার ফল, যেগুলো আস্তে আস্তে আত্মপ্রকাশ করেছিল অতীতের অনিয়মিত সামষ্টিক আচরণের মধ্য দিয়ে। কখনো কখনো এ ধরনের সমাজে জনগণের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া হয় এক বা একাধিক অতি ক্ষমতাবান ব্যক্তির ইচ্ছার মাধ্যমে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাজ জীবনের মূলধারার সুনির্ধারিত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এমনকি আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন জনগোষ্ঠী দেখতে পাই যারা সমাজজীবনের বন্ধন বজায় রেখেই তাদের সংস্কৃতি ও রীতি-প্রথা সংরক্ষণ করে।

উন্নত সমাজ যদি ধর্মভিত্তিক হয়, তাহলে সেখানে বিরাজ করে ধর্মীয় আইন। আর ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হলে জনগণের সম্মতির মাধ্যমে প্রণীত এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষিত আইন বাস্তবায়িত হয়। এমন কোনো সমাজ নেই, থাকতে পারে না, যেখানে সদস্যরা নির্দিষ্ট আইন, বিধান ও কর্তব্য পালনে বাধ্য নয়।

এ সব চাহিদা নির্ধারণ হবে কিভাবে?

এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, আইন ও বিধি প্রণয়নের প্রধান কারণ মানব জীবনের সামাজিক চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, কী এ চাহিদা? এগুলো কিভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত? মানুষ যদি এগুলো নির্ধারণ করে, তাহলে অবশ্যই এ প্রশ্নগুলো উঠবে। তেমনি আমাদের এ প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হবে যে, মানুষ তার চাহিদা ও সুখ অর্জনের উপায় নির্ধারণে মাঝে মধ্যে ভুল করে কি না। আমরা কি তার অনুমান ও বিবেচনাকে অভিহিত মূল্যেই মেনে নেবো?

আমাদের বর্তমান তথাকথিত প্রগতিশীল বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, মানুষের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ই আইন প্রণয়নের যথার্থ ও যথেষ্ট ভিত্তি। কিন্তু যেহেতু একটি সমাজের বা জাতির সব সদস্যের একই নিয়মে চিন্তা করা অসম্ভব, এ জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠের (শতকরা ৫০ এর ঊর্ধ্বে) ঐকমত্য অপরিহার্য হিসেবে নির্ণায়ক বলে বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজনের তাগিদেই সংখ্যালঘিষ্ঠের (শতকরা ৫০ ভাগের কম) মতামতকে উপেক্ষা করা হয়। একই সাথে এই সংখ্যালঘিষ্ঠের কর্মের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মানুষের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় তার জীবনের অবস্থার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। জীবনের সব প্রয়োজনীয় বস্তু যার কাছে সুলভ, এমন একজন ধনী ব্যক্তি লালন করেন বেশ কিছু বিলাসী কামনা, একজন দরিদ্র ব্যক্তির অন্তরে যা কখনোই আসবে না। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা একজন অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ব্যক্তি লালায়িত থাকবে খাবারের প্রতি, তা সুস্বাদু হোক না আর না হোক। তার নিজের না অপরের, তা তার কাছে কোনো বিষয় নয়। কিন্তু একজন প্রাচুর্যবান ব্যক্তির টেবিলে অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার সাজানো থাকলেও সেদিকে হয়তো তিনি ভ্রুক্ষেপও করবেন না। কঠিন সময়ের তুলনায় সচ্ছলতার সময়ে মানুষ বেশি বিলাসীতার চিন্তা লালন করে।

এভাবে চাহিদার ধরণ বদলায় নাগরিক জীবনের অগ্রগতির সাথে সাথে। তাই মানুষের পুরনো চাহিদাগুলো মিটতে থাকলেও সভ্যতার অগ্রযাত্রার সাথে সাথে নতুন নতুন চাহিদা দেখা দেয়। এগুলো জায়গা দখল করে পুরনোগুলোর। অবস্থার এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের জন্য অনেক আইন সেকেলে হয়ে যায় এবং তখন তাদের নতুন আইন প্রয়োজন হয় কিংবা তারা আগের আইনের সংস্কার দাবি করে। এভাবে বিশ্বের জীবন্ত জাতিগুলোর ক্ষেত্রে সবসময় সেকেলে হয়ে যাওয়া আইনের জায়গায় নতুন নতুন আসে।

আগেই বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছা ও সমর্থনই তাদের আইনের বৈধতা দেয় এবং তাতে কর্তৃত্বের মোহর লাগায়, যদিও সেই আইন হয় সমাজের স্বার্থের পরিপন্থী। উদাহরণস্বরূপ, একজন ফরাসি নাগরিক ফ্রান্সের বাসিন্দা হওয়ার কারণে ফরাসি সমাজের একজন সদস্য। আর তাই তার ইচ্ছা ও অভিমতকে সম্মান করা হবে যদি তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফরাসি নাগরিকদের অভিমতের সাথে মিল খায়। ফরাসি আইনগুলো প্রণীত হয়েছে তাকে একবিংশ শতাব্দীর একজন ফরাসি নাগরিক হিসেবে সজ্জিত করার জন্য, সমসাময়িক একজন ইংরেজ বা দশম শতাব্দীর একজন ফরাসি নাগরিক হিসেবে নয়। তথাপি মানবীয় চাহিদার বিভিন্ন ধরনের, কি এমন কোনো স্থায়ী উপাদান নেই যা সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে বদলে যায়? মানব সমাজে কিছু এমন কোনো সাধারণ উপাদান কি নেই যা ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিদ্যমান ছিল? মনুষ্যত্বের যে মৌলিক সত্তার সাথে জীবনের বেশ কিছু প্রাকৃতিক চাহিদা সম্পর্কিত, তাতে কি আস্তে আস্তে হলেও অনিবার্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে? আমাদের দূর অতীতের পূর্বপুরুষদের শারীরিক কাঠামো কি আমাদের থেকে ভিন্ন ছিল? যুদ্ধ ও রক্তপাত কিংবা শান্তি ও সম্প্রীতির সময় আজ আমাদের জীবনে যেমনটি গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জীবনে কি তেমনটি ছিল না? মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদি কি অতীতে বর্তমান যুগের থেকে ভিন্ন প্রভাব ফেলত? বর্তমান যুগে সঙ্গীতের ছন্দ যে ধপ্রণর আনন্দ দেয়, অতীতযুগে কি তা থেকে ভিন্ন ধরনের আনন্দ দিত? মোট কথা অতীতকালের মানবজাতির বাইরের ও ভেতরের কাঠামো কি বর্তমান কালের মানুষদের থেকে ভিন্ন ছিল? বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব প্রশ্নের জবাবই হবে নেতিবাচক।

আমরা এ কথা বলতে পারি না যে, মানবজাতি আস্তে আস্তে বিবর্তিত হয়ে যে অবস্থায় এসেছে, তা অতীত যুগের মানুষ থেকে ভিন্ন। সাদা-কালো, জ্ঞানী-মুর্খ, যুবক-বৃদ্ধ, নিরক্ষীয় এলাকার বাসিন্দা-মেরু অঞ্চলের বাসিন্দা, অতীত যুগের মানুষ বর্তমান যুগের মানুষ সবার মধ্যে মানবত্বের যে সত্তা সমানভাবে বিদ্যমান তাদের অভিন্ন চাহিদার ধরনের পরিবর্তন এসেছে এ কথাও আমরা বলতে পারি না। নিশ্চয়ই এমন কিছু চাহিদা আছে, যেগুলোর জন্য নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইন আছে। এগুলোর কোনো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বে এমন কোনো জাতি নেই যারা যুদ্ধ ঘোষণার পথ বেছে নেবে না, যখন তারা তাদের অস্তিত্ব শত্রুর দ্বারা হুমকির মুখে দেখবে এবং যখন শত্রুকে রক্তপাত ছাড়া প্রতিহত করা যায় না, তখন যুদ্ধে যাবে না। উদাহরণস্বরূপ এমন কোনো জাতি নেই, যারা জনগণকে খাবার খেতে বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। এমন অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে এবং এ থেকে এমন অপরিবর্তনীয় আইনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয়।
ওপরের আলোচনা থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়টি উঠে আসে।

১. সমাজ, সামাজিক আইন ও বিধান গড়ে ওঠার পেছনে প্রধান কারণ জীবনের চাহিদা।
২. বিশ্বের সব জাতিরই, এমনকি অসভ্য জাতিগুলোরও নিজস্ব আইন ও বিধান রয়েছে।
৩. আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবনের চাহিদা নির্ণয়ের উপায় হলো সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অভিপ্রায়।
৪. সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিপ্রায় সবসময় বাস্তবতা ও সত্যের অনুসারী হয় না।
৫. এমন এক শ্রেণীর আইন আছে, সময় অতিক্রমের সাথে সাথে যেগুলোর পরিবর্তন হতে হয়। কেননা, এগুলো বিশেষ পরিস্থিতি ও পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত। আবার এমন এক শ্রেণীর আইন আছে, যেগুলো মানবজাতির মৌলিক সত্তার সাথে সম্পর্কিত এবং এগুলো সব যুগের, বিশ্বের সব এলাকার এবং সব পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে অভিন্ন। এই আইনগুলো অপিরিবর্তনীয়, স্থায়ী ও নির্ধারিত।