৭০ হাজার টাকায় পাল্টে যাওয়া দৃশ্যপট

Aug 03, 2019 03:08 pm
লিভা আক্তার

 

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল মানেই গরিব ঘরের মেয়েদের অসামান্য অবদান। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মহিলা ফুটবল দল আজ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে। অথচ এই মেয়েদের কত কষ্ট আর কি মারাত্মক প্রতিবন্ধকতাই না ডিঙ্গিয়ে আসতে হয়েছে এই মহিলা ফুটবলে। তেমনই এক ফুটবলার লিভা আক্তার। এই ফুটবলারের প্রাথমিক ও চূড়ান্তপর্ব মিলে ২৭ গোলের (লিভার দাবি ২৯ গোল) উপর ভর করে এবারের বাফুফে-ইউনিসেফ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লালমনিরহাট জেলা। লিভা পেয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। ভারতীয় সীমান্তে কাছে প্রত্যন্ত প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের টেপুরগাড়ী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী লিভাকে এক সময় তার মা মারধর করেছিলেন ফুটবল খেলার অপরাধে। বাবাও খুব বকাঝকা করতেন। প্রবল আপত্তি ছিল নিকটআত্মীয় স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীদেরও। তাদের নেতিবাচক মন্তব্য। অথচ এখন সবাই লিভার পক্ষে। তারা চাচ্ছেন লিভার মতো অন্যরাও ফুটবলে আসুক। লিভার বাবা-মা তো অপর মেয়ে মৌসুমী আক্তারকে ফুটবলে দিয়েছেন। এবারের চ্যাম্পিয়ন লালমনিরহাট দলের খেলোয়াড় তিনিও।

হঠাৎ সবার লিভার ফুটবলের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণ ২০১৮-এর বঙ্গমাতা ফুটবল। সেই আসর থেকে এই ফুটবলারের পুরস্কার হিসাবে অর্জন ৭০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ফলে ৩০ হাজার করে ৬০ হাজার টাকা পান লিভা। সাথে আরো ১০ হাজার টাকা। তা রানার্সআপের প্রাইজমানির অংশ হিসেবে। লিভা এই টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর আনন্দের বন্যা বয়ে যায় দরিদ্র কৃষক বাবার মতিউর রহমানে পরিবারে। লিভা জানান, ‘আমি ফুটবল খেলে এত টাকা পেয়েছে- এটা তাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। বাবা মায়ের বক্তব্য ছিল, তুমি ফুটবল খেলে এত টাকা পেয়েছে! যাও এখন থেকে তুমি নিয়মিত ফুটবল খেলবে।’ এই ফরোয়ার্ড জানান, ‘অথচ আগে এক দিন ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার পর মা আমাকে খুব মেরেছিলেন কেন ফুটবলে গেছি। মায়ের বক্তব্য, মেয়েদের ফুটবল খেলা ভালো না। এ ছাড়া আশপাশের ছেলেরা ফুটবলে খেলার জন্য আমিসহ অন্যদের ছেলে বলে, ভাইজান বলে টিটকারি মারত। কিন্তু আমি দমে যাইনি। বলেছি ফুটবল আমি খেলবই।’

লিভার দেয়া সেই টাকায় কাঁচা বাড়িতে দেয়াল তুলেছেন মতিউর রহমান। এখন বাড়িটি পাশে দেয়াল আর উপরে টিন। তবে তাদের বাড়িতে কোনো টেলিভিশন নেই। লিভা জানান ‘আমাদের দলের মাত্র একজন মেয়ের বাড়িতে টিভি আছে।’
কোচ আলিম আল সাঈদ খোকনের দেয়া তথ্য পুরো ১৬ জনের স্কোয়াডে একজন ছাড়া বাকি সবাই নিম্ন ঘরের সন্তান। কারো বাবা রিকশা চালায়। কারো বাবা ভ্যানচালক। পেশায় কৃষক এমন অনেকের বাবা। রীতিমতো যুদ্ধ করে প্রতিকূল পরিবেশের বিপক্ষে কাজ করে তাদের আমি ফুটবলে এনেছি। এমনও গরিব ফুটবলার আছে, যাদের দুই বোনের একজোড়া মাত্র স্যান্ডেল। তারা মাঠে কৃষি কাজ করে এক বেলা।’