ক্লিওপেট্টা : সর্বকালের সম্মোহনী নারী!

Sep 03, 2019 09:06 am
ক্লিওপেট্টা

 

ক্লিওপেট্টা- প্রাচীন মিসর এবং ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নাম। ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী। আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, পরমাসুন্দরীও ছিলেন না তিনি। কিন্তু তীক্ষ্ন বুদ্ধিমত্তা, অন্যকে বশ করার ক্ষমতা, সহজাত রসবোধ এবং প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সর্বকালের সেরা মহিলাদের কাতারে স্থান করে নিয়েছেন। তাকে মনে করা হয় সম্মোহনী সৌন্দর্য আর সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে এবং সীমিত শক্তিকে অসাধারণ কৌশলে অসীমে নিয়ে যাওয়ার রূপকার হিসেবে। প্রেম আর মৃত্যু এই নারীর জীবনে একাকার হয়ে গেছে।

তিনি যেমন ভালোবাসার বন্ধনহীন হাওয়া বইয়ে দিতে পারতেন, তেমনি মারাত্মক হিংস্রও হতে পারতেন। যে কাউকে কাছে টানতে পারতেন, আবার পথের কাঁটা মনে করলে নির্মমভাবে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না। মাত্র ৩৯ বছর তিনি বেঁচেছিলেন। এই স্বল্প সময়েই তিনি একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি করেছেন। সে যুগের কোনো পুরুষের পক্ষেও যে ধরনের কাজ করা ছিল প্রায় অসম্ভব, তিনি সেইসব কাজেরও আঞ্জাম দিয়েছেন। রোমান রাজনীতির অত্যন্ত সঙ্কটজনক অধ্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি যে যুগের নারীদের মতো সাদামাটা জীবন মেনে নেননি। বরং নিজেই ইতিহাস তৈরি করেছেন। আর তাই এতো দিন পরও তাকে স্মরণ করা হয়। তবে অন্যসব কিংবদন্তি-চরিত্রের তুলনায় ক্লিওপেট্টা ভিন্ন মাত্রার সৃষ্টি করেছেন। সবাই ইতিহাসের নানা পরিক্রমায় নানাভাবে আবির্ভূত হন। কিন্তু ক্লিওপেট্টা তার জীবিতকালেই শত্র“পক্ষের যে নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হয়েছিলেন, এতো বছর পরও তা কমেনি। প্রতিযুগেই তার চরিত্রকে নানাভাবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। কখনো তিনি শত্র“, কখনো স্বাধীনতাকামী, কখনো যৌন আবেদনময়ী নারী, কখনো খলনায়িকা - নানাজনে নানাযুগে এভাবেই তাকে চিত্রিত করে চলেছে। এই কাজটি প্রয়োজন মতো কখনো রাজনীতিবিদ, কখনো সাহিত্যিক, কখনো চিত্রকর, কখনো বর্ণবাদীগোষ্ঠী, কখনো স্বাধীনতাকামীরা করেছে।

মিসরের রানী হলেও তার দেহে খাঁটি মিসরীয় রক্ত ছিল না। অবশ্য তবুও তিনি মিসর এবং মিসরীয়দের ভালোবাসতেন। তাদের উন্নতির জন্য অনেক কাজ করেছেন। চাষাবাসের সুবিধার জন্য নীল নদ থেকে খাল কেটে আলেক্সান্দ্রিয়ার ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। মিসরের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন। প্রাণবন্ত এই রাজকুমারী সহজেই সবার সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মিসরীয়সহ তিনি মোট ৯টি ভাষা জানতেন। গণিতবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার সুনাম ছিল। রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজেকে সূর্যদেবতা ‘রা’-এর বংশধর হিসেবে প্রচার করতেন এবং দেবী আইসিসের শিরোস্ত্রাণ পরতেন। সাহিত্য ও দর্শনে তার প্রবল অনুরাগ ছিল। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল রোমের আওতার বাইরে থেকে প্রথম টলেমি প্রতিষ্ঠিত পুরো এলাকার রাজক্ষমতা লাভ করা। তাই তাকে বলা যায়, রোম সাম্রাজ্য বিস্তারের একটি বাঁধা হিসেবে।

৩৯ বছরের জীবনে তিনি ২২ বছর রানী এবং ১১ বছর অ্যান্টনির সাথী ছিলেন। তাকে যৌন বিকৃতিগ্রস্ত মহিলা হিসেবে কোনোভাবেই চিহ্নিত করা যায় না। কারণ সিজার ও অ্যান্টনি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষকে দেখা যায় না তার প্রেমিক হিসেবে। তা ছাড়া তিনি তাদের দুজনকেও একসঙ্গে কাছে টানেননি। তিনি মিসরকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, যেকোনো মূল্যে।

অনেকে মনে করেন, তার উচ্চাভিলাষ কিছুটা কম হলে তিনি আরো অনেক বেশি ক্ষমতা পেতেন এবং তা বেশিদিন উপভোগ করতে পারতেন। নারী হয়েও পুরুষের একচ্ছত্র প্রাধান্য স্বীকার করেননি। সাম্রাজ্যবাদকেও মেনে নেননি। তিনি রাজকন্যা হিসেবে জন্মেছিলেন, মারা যান রানী হিসেবে। তবে প্রেমিকা নাকি ক্ষমতালিপ্সু - কোনটায় তিনি বড় ছিলেন তিনি তা নিয়ে বির্তক থাকতেই পারে।