কুরআনে বর্ণিত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি

Oct 14, 2019 01:03 pm
কুরআনে বর্ণিত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি

 

পৃথিবীতে মানুষের বসবাস ঠিক কত বছর আগে শুরু হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও মানব জাতির সূচনা যে হজরত আদম ও হাওয়া আ:-এর মাধ্যমে হয়েছে তাতে ইসলামপন্থীদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। পরে তাদের বংশধরদের দ্বারাই এই ধরণী আবাদ হয়। এ হিসেবে আদম ও হাওয়া আ: হলেন মানুষ্য সম্প্রদায়ের পিতা ও মাতা। পৃথিবীতে অবতরণের পর দীর্ঘ কান্নাকাটি ও আল্লাহর দরবারে আকুতি-মিনতির পরিসমাপ্তি ঘটে মহান রাব্বুল আলামিন কর্তৃক তাদের তওবা কবূলের মাধ্যমে। উভয়ের সাক্ষাৎ ঘটে ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে। শতাব্দীব্যাপী তারা সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। জীবদ্দশাতেই তাদের বংশধরগণ বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা ও আবহা এই জনপদে ছড়িয়ে পড়েন।

হজরত আদম আ: ছিলেন প্রথম মানব ও প্রথম পয়গম্বর, তিনি তাঁর বংশধরদের আহ্বান জানাতেন আল্লাহর একত্ববাদ ও স্বীয় নবুওয়তের সত্যায়নের দিকে। লোকেরা এই আহ্বানে সাড়া দানের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ও তার নবুওয়তের স্বীকারোক্তি দিয়ে এই ধর্মবিশ্বাস দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে হজরত নূহ আ: পর্যন্ত।

নূহ আ:কে বলা হয় ‘আদমে ছালি’ বা দ্বিতীয় আদম। যেহেতু তার সন্তান-সন্ততির মাধ্যমেই পৃথিবী পুনরায় আবাদ হয়। তিনি স্বীয় সম্প্রদায়ের মাঝে ৯৫০ বছর দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করেন। ছোট-বড়, ধনী-গরিব, পুরুষ-মহিলা, নির্বিশেষে সবার নিকট পৌঁছে দেন দ্বীনের দাওয়াত। তার আপ্রাণ প্রচেষ্টা ও প্রাণান্তকর মেহনতের দ্বারা আহূত দ্বীনের এই আহ্বান তাদের অবাধ্যতাকেই কেবল বৃদ্ধি করে। দীর্ঘকালব্যাপী দাওয়াতের পর মাত্র ৮০ থেকে ৮২ জন মানুষ আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করে নেয়। ঐশীগ্রন্থ আল-কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন তার দাওয়াত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন বিশদভাবে।

পবিত্র কুরআনের ভাষায়- নূহ আ: বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমি দিবস ও রজনিতে আমার সম্প্রদায়কে দ্বীনের প্রতি আহ্বান করেছি। আমার আহ্বান কেবল (দ্বীন থেকে) তাদের পলায়নই বৃদ্ধি করেছে। যখনই আমি তাদের আহ্বান করেছি যেন আপনি তাদের ক্ষমা করে দেন, তারা কানে আঙুল ঢুকিয়ে নিজেদের বস্ত্রাবৃত করে জিদ করত; চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে থেকেছে। আমি তাদের প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি, অতঃপর উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করেছি, গোপনে উপদেশ দিয়েছি। আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর তিনি ক্ষমাশীল। সূরা : নূহ ৫-১০

এভাবে তিনি তার সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করলেন তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে। কিন্তু কওমে নূহ প্রেরিত নবীর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে, মুমিনদের কষ্ট দিয়েছে; একপর্যায়ে অহমিকায় নিজেদের জন্য নিজেরাই কামনা করে বসেছে প্রতিশ্রুত শাস্তি। ফলে তাদের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহ বন্যার আজাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা বলল, হে নূহ! তুমি তো আমাদের সাথে বিতণ্ডা করেছ এবং বিতণ্ডা করেছ অতিমাত্রায়। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তাহলে আমাদের যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে আসো।’ সূরা হুদ-৩২

ইতোমধ্যে নূহ আ:কে জানিয়ে দেয়া হয়, তোমার সম্প্রদায়ের অবশিষ্টরা আর ঈমান আনবে না। তখন নূহ আ: দোয়া করলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি জমিনে কাফেরদের কোনো গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিয়েন না। যদি আপনি তাদের দেন তবে তারা আপনার বান্দাদিগকে পথভ্রষ্ট করবে আর কেবল দুষ্কৃতিকারী কাফেরদের ভূমিষ্ঠ করতে থাকবে।’ সূরা নূহ ২৬-২৭

আল্লাহ নূহ আ:কে নৌকা তৈরির নির্দেশ দিলেন। তিনি নৌকা তৈরি করতে থাকলেন আর অবিশ্বাসী কাফেরেরা তাকে বলতে লাগল, ‘হে নূহ, তুমি তো নবী হওয়ার পর কাঠমিস্ত্রি হয়ে গেলে’। আজাবের নিদর্শন প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সব ঈমানদার ও প্রাণিকূল থেকে প্রত্যেক প্রাণীর এক জোড়া করে নৌকায় তুলে নিলেন। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে ভূগর্ভস্থ পানি বের হতে লাগল আর আকাশ বর্ষণ করতে লাগল মুষলধারে বৃষ্টি। বন্যায় ডুবে সব অবিশ্বাসী কাফেরের সলিল সমাধি ঘটে। মহান আহকামুল হাকিমিন কাফেরদের অপবিত্রতা থেকে এই জমিন পবিত্র করলেন। এই সম্প্রদায়কেই সর্বপ্রথম তাদের কুফুরি ও হঠকারিতার কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়।

এমনটিই আল্লাহর রীতি। তিনি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য পাঠিয়েছেন লক্ষাধিক নবী। প্রেরিত হয়েছেন ৩১৩ জন রসূল। অবতীর্ণ করেছেন ১১০টি ছহিফা ও চারটি বড় বড় কিতাব। নবী-রসূলগণ লোকদিগকে আহ্বান করেছেন একত্ববাদের দিকে, খোদা প্রদত্ত আলোকিত ওহীর ঐশী বাণীর দিকে, বলেছেন, ‘হে লোক সকল, তোমরা বলো- আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তোমরা সফলকাম হবে’। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে তারা সফলকাম হয়েছেন ইহকাল ও পরকালে; আর যারা হঠকারিতায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের কঠিন আজাব দিয়ে।

ইয়েমেনের সীমান্ত লাগোয়া রিয়াদের দক্ষিণ দিকে ঈসা আ:-এর জন্মের দুই হাজার বছর আগে হুদ আ: প্রেরিত হয়েছেন আদ জাতির নিকট। তিনি দীর্ঘকাল স্বগোত্রীয়দের দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু স্বহস্তে নির্মিত প্রতিমা পূজা, নবীর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, শক্তি ও উন্নত প্রকৌশল শিল্পের বড়াই তাদের আল্লাহর কুদরত থেকে অন্ধ ও বধির বানিয়ে দেয়। ফলে নবীর উপদেশমূলক বাণী তাদের মোহরাঞ্চিত হৃদয়ে কোনো রেখাপাত করে না, এমনকি ক্ষমতাবান মহান রব্বুল আলামিনের শক্তিকে তাদের শৌর্য-বীর্য ক্ষমতা ও দাপটের সামনে ম্রীয়মাণ মনে করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে দুর্ভিক্ষ ও পরে লাগাতার আট দিন সাত রাতব্যাপী ঝাঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বায়ু প্রেরণ করে তাদের সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হয়, যার বিস্তারিত বিবরণ বিধৃত হয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরা হুদ ও আরাফে।

ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে ছালেহ আ:-এর জাতি সামুদকে। যাদের বাসস্থান ছিল হেজাজ ভূমি তথা বর্তমান সৌদির সিরিয়া সীমান্ত বরাবর অংশ এবং সিরিয়ার মধ্যস্থল হিজর ও ওয়াদিল কুরা নামক স্থানে। নিশ্চিহ্নহ্ন করে দেয়া হয়েছে সবুজ বরণ ঝোপঝাড়ের অধিবাসী আসহাবে আইবাকে। কুরআনের ভাষায় যাদের অভিহিত করা হয়েছে কোথাও আসহাবে আটবগ আবার কোথাও আসহাবে মাদইয়ান বলে। বর্তমান মানচিত্র সৌদির লোহিত সাগরের পূর্ব উপকূলে এদের বাসস্থান চিহ্নিহ্নত করছে। মার্জিত ভাষা ও সুমধুর বাণীর অধিকারী ‘খতিবুল আম্বিয়া’ খ্যাত শোয়াইব আ: ছিলেন তাদের স্বজাতীয় ভাই ও পয়গম্বর। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মাদইয়ানে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই শোয়াইবকে’। সূরা হুদ-৮৪

ডাকাতি, লুণ্ঠন, লুটতরাজ ও মাপে কম দেয়ার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ছিল এই জাতি। ফলে ভূকম্পন ও অগ্নিবৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয় এদের।
ফিলিস্তিনে অবস্থিত ওর্দুনের পূর্বাঞ্চলে সাদুম ও আমুরিয়া এই দু’টি জনপদে আবাস ছিল কওমে লুতের। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনে তাদের বিবরণ এসেছে সূরা হুদ, শুয়ারা, হিজর ও আলকাবুতসহ অন্য সূরাগুলোর মধ্যে। পৃথিবীতে অসভ্য এই জাতিগোষ্ঠীই সর্বপ্রথম সমকামিতার সূচনা করে। পশুত্ব ও নির্লজ্জতা তাদের মধ্যে এতটাই ব্যাপকতা লাভ করে যে, অপরাধ বোধটুকু পর্যন্ত তারা হারিয়ে ফেলেছিল। গর্বের সাথে ভরা মজলিসে এই অপকর্ম চালিয়ে যাওয়াটা তাদের নিকট বিন্দুমাত্র দোষনীয় বলে মনে হতো না। চুরি, ডাকাতি, ধোঁকা, প্রতারণা, তাদের কাছে কোনো অপরাধ বলেই বিবেচিত হতো না। ঐতিহাসিক মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেন এমন কোনো অপকর্ম নেই যাতে তারা সিদ্ধহস্ত ছিল না।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা হিফজুর রহমান সিওহারবি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কাছাচুল কুরআনে আল্লামা আ: ওয়াহহার নাজ্জারে’র বরাতে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি হিব্রু ভাষার এক পুস্তক থেকে কওমে লুতের বিচিত্র এক অপকর্ম সম্বন্ধে অবগত লাভ করলাম। উল্লেখ আছে, একবার হজরত ইবরাহিম আ: সারা বাদীর জৈনক ছেলে আল্ইয়ারজকে লুত আ:-এর নিকট পাঠালেন। আলইয়ারজ যখন সাদুম বসতির সন্নিকটে উপস্থিত হলো তখন এক সাধুসি তাকে দেখেই বুঝতে পারল সে বহিরাগত, তখন সে একটি পাথর হাতে নিয়ে তার মাথায় নিক্ষেপ করে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে বলল, আমি যে তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করেছি, যার কারণে তোমার মাথা লাল বর্ণ ধারণ করেছে, সুতরাং তুমি আমাকে পারিশ্রমিক দাও। এই বলে সে আলইয়ারজকে টেনে হিঁচড়ে সাদুমের বিচারকের কাছে নিয়ে গেল। বিচারক সাদমির জবানবন্দী শুনে বললেন, সে তো ঠিক বলেছে, তোমার এখন পারিশ্রমিক দেয়া উচিত। আলইয়ারজ এই রায় শুনে তৎক্ষণাৎ একটি পাথর নিক্ষেপ করে বিচারকের মাথা ফাটিয়ে দিয়ে বলল, এজন্য তো আমি তোমার নিকট পারিশ্রমিক পাওনা হলাম। সুতরাং তুমি তা সাদুমিকে দিয়ে দাও। এরপর কালবিলম্ব না করে আলইয়ারজ দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করল। (আল্লাহই ভালো জানেন) এত একটি উদাহরণ মাত্র। এ ধরনের বহু অপরাধে লিপ্ত ছিল এই জাতি।

আল্লাহর নবী লুত আ: বহু বছর তাদের দাওয়াত দিয়েও এই অপকর্ম থেকে ফেরাতে পারেননি। এরপর যখন ধ্বংসের সময় সন্নিকট হলো, তখন আল্লাহর আজাব যথাযথভাবেই তাদের পাকড়াও করেছে। উঁচুতে তুলে উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে জনপদ। আর আকাশ তাদের ওপর বর্ষণ করেছে প্রস্তর খণ্ড। আজো গজবের সাক্ষী হয়ে আছে ফিলিস্তিনের ডেথ সি বা মৃত সাগর।

নির্মম বাস্তবতা তো এটাই। পূর্ববতী যেসব অপরাধ-অপকর্মের এমন একটিও নেই যা আজ মানব সমাজে অবিদ্যমান। আইন করে বৈধতা দেয়া হচ্ছে সমকামিতা। চুরি ডাকাতি লুণ্ঠন লুটতরাজ সবকিছুতেই ছাপ লেগেছে ডিজিটালাইজেশনের একক ব্যক্তি সম্পদ চুরি এখন এনালগ, যৌথ মূলধন, জনতার ঘাম ঝরানো করের অর্থের প্রতিই লোলপ দৃষ্টি লুটেরাদের। এসব লুটেরার হাত থেকে রক্ষা পায়নি ব্যাংকের সাগর চুরি ও ভল্টে গচ্ছিত রাখা সোনা। শকূনের শক্ত কঠিন থাবার নিচে পড়ে বহু লাখোপতি হয়েছে রাস্তার ফকির, আবার রাস্তার ফকির রাতারাতি হয়ে গেছে বিলিয়ন ডলারের গাড়ি-বাড়ির মালিক। নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, জুলুম, নির্যাতনের কথা যদি ছেড়েও দেই তথাপি মানবহত্যা যাকে আল্লাহর কালাম পুরো মানবজাতি হত্যার সাথে তুলনা করেছে। আল্লাহর বাণী- এ কারণেই বনী ইসরাঈলের প্রতি বিধান দিয়েছি, যেকোনো প্রাণের বিনিময় বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করল সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে কারো প্রাণ রক্ষা করল সে যেন সবার প্রাণ রক্ষা করল। সূরা মায়িদা-৩২
সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত ও সর্বশেষ, তারপর না আসবে আর কোনো উম্মত না নতুন কোনো শরিয়ত নিয়ে প্রেরিত হবেন আর কোনো নবী। সুতরাং এই উম্মতকেই নিতে হবে নবীর দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে।

এই উম্মতেরই দায়িত্ব বিপথগামী অন্যায়-অত্যাচার অনাচারে লিপ্ত আল্লাহর এই বান্দাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। আমাদেরই কর্তব্য নেশাগ্রস্ত, অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত যুব সমাজকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় আল্লাহর অবধারিত আজাব-গজব যদি এদের আক্রমণ করে তবে আমরাও রেহাই পাব না আল্লাহর ক্রোধ থেকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার ক্রোধের আগুন থেকে রক্ষা করুন এবং ইহকাল ও পরকালে চিরস্থায়ী শান্তি দান করুন। আমিন