যেভাবে নির্মিত হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম মসজিদ

Nov 17, 2019 03:16 pm
পৃথিবীর প্রথম মসজিদ

 

মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণের ধারা শুরু হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদের সা. ইসলাম প্রচারের সময় থেকে। আরবের পবিত্র মদিনার দক্ষিণদিকে অবস্থিত কুবা বা মসজিদে কিবলাতাইন হলো পৃথিবীর প্রথম মসজিদ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সা. মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ তৈরি হয়।

তখনো ফিলিস্তিনের জেরুসালেমে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসার দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন মুসল্লিরা। তারপর এই পবিত্র কুবা মসজিদে জোহরের নামায চলাকালেই কিবলা পরিবর্তনের ওহি এসেছিল।

উল্লেখ্য, কুবা মূলত একটি স্থানীয় প্রাচীন কূপের নাম। সেই থেকেই এলাকাটির এমন নামকরণ হয়। মহানবী সা.হিজরত করে মদিনা গিয়ে কুবা এলাকায় আবু আইয়ুব আনসারী রা.-এর বসতবাড়িতে অবস্থান করেন। পরে মসজিদে নববির খুব কাছে স্থানীভাবে বসবাস শুরু করলেও প্রতি শনিবার মসজিদুল কিবলাতাইনে নামায আদায় করতেন নবী সা.।

দুই রাকাত নামায আদায়ের পর আসমানি ফরমান আসে। যাতে আল্লাহর তরফে মহানবী সা.কে নির্দেশ দেয়া হয় কিবলা পরিবর্তন করার জন্য। ওই অবস্থাতেই জোহরের ফরজ নামাযের ভিতর কিবলা বদল করে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে বাকি দুই রাকাত আদায় করেন নবীজী সা.। তাঁকে অনুসরণ করে সাহাবাগণ ও মুসল্লিরা দিক পরিবর্তন করে নেন।

মদিনায় মসজিদে নববির পর কুবা হরো দ্বিতীয় বৃহত্তম ও মর্যাদাশীল মসজিদ। এই মসজিদে একসাথে ২০ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

পবিত্র মদিনা নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত এই কিবলাতাইন বা কুবা মসজিদ। পবিত্র মসজিদ নববী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ কি. মি.। দ্বিতীয় হিজরিতে সাওয়াদ বিন গানাম গোত্রের লোকরা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। কাদামাটি ও পাথর দিয়ে প্রথম নির্মাণকাজ হাত লাগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন খোদ মহানবী সা.। মাটি, পাথর, পাথর খেজুর পাতা ও খেজুর ডাল দিয়ে তৈরি হয় এই মসজিদ।

পরবর্তীকালে ধারাবাহিকভাবে এর সংস্কার করেন খালিফা থেকে উসমানীয় সুলতান সহ আরবের বাদশাহ ফাহাদের মতো অনেকেই। সংস্কার ও সম্প্রসারণ হতে হতে ১৩,৫০০ বর্গমিটার আয়তনের এই মসজিদে এখন ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামায আদায় করতে পারেন। এতে ১৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট দুটি গম্বুজ রয়েছে। কিবলা পরিবর্তনের স্বাক্ষী হিসাবে এখনও এই মসজিদে দুটি মেহরাব এবং আযান দেওয়ার জন্য দুটি মিনার রয়েছে। মদিনা দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবাদাতগাহ এটি। পবিত্র কুরআনের সুরা আত-আওবা ১০৮ আয়াতে এই মসজিদের প্রশংসা করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।
সূত্র : পূবের কলম