Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama

গুদামজাতকারীদের জন্য যে শাস্তি অপেক্ষা করছে

Dec 12, 2019 01:27 pm
গুদামজাতকারীদের জন্য যে শাস্তি অপেক্ষা করছে

 

আল্লাহ আমাদের রিজিকদাতা। তিনি আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠানোর আগে রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আমাদের রিজিক বাড়ানো কিংবা কমানোর ক্ষমতা শুধু আল্লাহ তায়ালার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালার দেয়া নিয়ামত খাদ্যসামগ্রী গুদামজাত করে মানুষকে কষ্ট দেয়া মুনাফেকদের কাজ। অতি মুনাফার লোভে বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দেয়ার ফলে গুনাহগার হতে হবে। প্রয়োজনের অধিক গুদামজাতকরণের ফলে মানুষের রিজিক সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।

আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ব্যবসা তখন দৈনন্দিন ইবাদতের অংশে পরিণত হয়ে যায়। কোনো একজন ব্যবসায়ীর সরবরাহকৃত পণ্য নায্যমূল্যে খরিদ করে, পরিধান করে কিংবা খেয়ে যদি কোনো ব্যক্তি আমল-ইবাদত করে, ওই ব্যক্তির আমলের ফজিলতের একটি অংশ বাজারে পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী পাবেন। কারণ, ওই ব্যবসায়ীর বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার পেছনে আল্লাহর সৃষ্টির মানুষের খেদমত করার উদ্দেশ্য ছিল।

বাজারে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা একটি উত্তম ইবাদত। অন্য দিকে খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা গুনাহের কাজ। রাসূল সা:-এর মতে, যারা মানুষের রিজিক সঙ্কুচিত করার মতো ঘৃণ্য কাজ করে তারা অভিশপ্ত। হজরত মা’মার রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, সে গুরুতর অপরাধী। খাদ্যদব্য গুদামজাতকারী গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (মুসলিম শরিফ)। হজরত উমর রা: বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘আমদানিকারক মুনাফা অর্জন করবে। পক্ষান্তরে গুদামজাতকারী অভিশপ্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, দারেমি)।

একজন মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিন ব্যক্তির ভাই ও বন্ধু। এক ভাই অপর ভাইকে ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দিলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব-গজব নেমে আসবে। হজরত উমর ইবনে খাত্তাব রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর অভাব-অভিযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খাদ্যবস্তু গুদামজাত করবে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দারিদ্র্য ও কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, শোয়াবুল ঈমান)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, কোনো বান্দা হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ দান-খয়রাত করলে তা কবুল হবে না এবং নিজ কাজে ব্যয় করলে তাতে বরকত হবে না। আর এরূপ অর্থ তার ওয়ারিশদের জন্য রেখে গেলে তা তার জন্য দোজখের মূলধন হবে।’ (আহমদ, শরহে সুন্নাহ)।

যেসব ব্যবসায়ী মানুষকে কষ্ট দেয় না, তারা মুমিনের দলভুক্ত। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এরা এমন লোক (মুমিন ব্যবসায়ী) যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর শরণ থেকে বিরত রাখে না, সালাত কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিগুলো উল্টে যাবে। পরিণামে তাদের সৎকাজের জন্য আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।’ (সূরা নূর : ৩৭-৩৮)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদের সাথে থাকবে।’ (তিরমিজি)।

সুতরাং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার উদ্দেশ্যে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ব্যবসায় বরকত বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করবেন।

লেখক : প্রবন্ধকার