'হিজাব পরা মেয়েই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে'

অন্য এক দিগন্ত | Feb 13, 2022 07:40 pm
'হিজাব পরা মেয়েই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে'

'হিজাব পরা মেয়েই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে' - ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতের কর্নাটক রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিয়ে চলা বিতর্কের আঁচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা মিম দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মন্তব্য করেছন, হিজাব পরা মেয়েই এক দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। রোববার ভারতীয় পার্লামেন্টের সদস্য আসাদউদ্দিন নেটমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘হিজাব পরা মহিলা কলেজে যাবেন, জেলা কালেক্টর হবেন, জেলাশাসক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ইত্যাদি হবেন।’

সভায় উপস্থিত একঝাঁক মানুষের উদ্দেশে আসাদউদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি আমাদের মেয়েরা হিজাব পরতে চায়, তাদের বাবা-মায়েরা সমর্থন করবেন, তার পর দেখি কে আটকায়।’ তার পর যোগ করেন, ‘তখন আমি হয়তো বেঁচে থাকব না, কিন্তু আমার কথা মনে রাখুন, একদিন হিজাব পরা মেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

এ নিয়ে তার কাছে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া নিতে গেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে আর কিছু বলতে চাননি ওয়েইসি। অন্য দিকে তাকে কটাক্ষ করেছেন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দীনেশ শর্মা। তার দাবি, এ ভাবে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়াতে চাইছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতার দাবি, ‘সমাজবাদী পার্টির ‘বি-টিম’ হল মিম।’

উল্লেখ্য, কর্নাটকে উদুপি-তে মুসলমান ছাত্রীরা হিজাব পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন না, এই নির্দেশ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। অন্য দিকে, কর্নাটকের স্কুল-কলেজের সেই আন্দোলন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। এই বিতর্কে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী রুবিনা খাতুন। অখিলেশের দলের নেত্রীর দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অঙ্গ মেয়েদের ঘোমটা ও হিজাব। কিন্তু তা নিয়ে যে ভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে, তা ঘৃণ্য। তার পর এসপি নেত্রীর হুঙ্কার দেন, ‘যে হাত হিজাব ছোঁয়ার চেষ্টা করবে, সে হাত কেটে ফেলা হবে।’

হিজাব পরার দাবিতে বিক্ষোভকারী ৬ ছাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

ভারতের কর্নাটক রাজ্যের উদুপির গভর্নমেন্ট গার্লস পিইউ কলেজে হিজাব পরার দাবিতে মাসখানেক ধরে বিক্ষোভরত মুসলিম ছাত্রীদের ছয়জনের ব্যক্তিগত তথ্য নেটমাধ্যমে ফাঁস করে দেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীদের অভিভাবকরা ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উদুপির পুলিশ সুপার এন বিষ্ণুবর্ধনের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে ও তার বান্ধবীদের নাম, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বরসহ নানা তথ্য নেটমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। আশঙ্কা করছি, ভবিষ্যতে তাদের হুমকি দিতে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বিষ্ণুবর্ধন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রীদের থেকে এ সংক্রান্ত অনলাইন তথ্য চাওয়া হয়েছে। তা পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জানুয়ারি মাসে কর্নাটকের উদুপির ওই কলেজে হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের ক্লাস করতে না দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। জেলা প্রশাসনের ‘বার্তা’ পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষই হিজাব পরে ক্যাম্পাসে না ঢোকার নির্দেশিকা জারি করেছিল বলে অভিযোগ।

কয়েকজন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। ওই ছয়জন ছাত্রী তার প্রতিবাদ করেছিলেন। এর পর তাদের সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় মুসলিম ছাত্রদের একাংশ। এর পাল্টা হিসেবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো হিজাব নিষিদ্ধের দাবিতে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে।


চলমান এ হিজাব-বিতর্কের ইতি টানতে চলতি মাসে কর্নাটকের সরকারি কলেজগুলোতে পোশাক নির্দেশিকা জারি করেছে সে রাজ্যের বিজেপি সরকার। কর্নাটক শিক্ষা আইন ১৯৮৩-এর কথা উল্লেখ করে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট করে দেয়া পোশাক পরেই শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে হবে। যেসব কলেজে নির্দিষ্ট কোনো পোশাকবিধি নেই, সেখানে এমন পোশাক পরা যাবে না যাতে শিক্ষাঙ্গনের ভারসাম্য, ঐক্য ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয়।

কর্নাটকের শিক্ষা আইন অনুযায়ী, সরকারি কলেজগুলো নিজস্ব পোশাকবিধি চালু করতে পারে। কয়েকটি সরকারি কলেজে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরে আসার অনুমতি থাকলেও হিজাব পরে ক্লাস করা যাবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: online@dailynayadiganta.com

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us