‘মৃত্যুর সওদাগর’ অ্যালফ্রেড নোবেল

Aug 18, 2019 02:48 pm
অ্যালফ্রেড নোবেল

 

ঊনিশ শতকের শেষ ভাগ। এক ভদ্রলোক ইতালির স্যানরিজো শহরে নিজের বাড়িতে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন। ভদ্রলোকের নিজস্ব ব্যবসা আছে। তার আর্থিক অবস্থা যে ভীষণ ভালো তা বলাই বাহুল্য। সেইসঙ্গে ইতালি, সুইডেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তার প্রভাব প্রতিপত্তিও যথেষ্ট।

কিন্তু, কাগজ দেখতে দেখতে হঠাৎ তিনি ভয়ে চমকে উঠলেন। তিনি দেখলেন সংবাদপত্রের মৃত্যুসংবাদের তালিকায় তার নামটি লেখা আছে। ক্ষণিকের জন্য যেন তার চেতনা লুপ্ত হলো। এই অর্ধচেতন অবস্থায় তিনি যেন দেখলেন সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে ‘মৃত্যুর সওদাগর, ডিনামাইটের রাজার মৃত্যু’। ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে পাওয়ার পর ভালো করে সংবাদপত্রটি দেখে তার মনে হলো হয়তো একই নামের অন্য কোনো লোকের মৃত্যুর খবর সেটি, কিংবা ভুলবশত প্রকাশিত।

কিন্তু তার মনে কিছুক্ষণ আগে আসা ভাবনাটি ভেবেই আবার শিউরে উঠলেন তিনি, ‘মৃত্যুর সওদাগর’। তবে কি তার মৃত্যুর পর এই নামেই লোকে তাকে মনে রাখবে! সেই দিন থেকে তিনি ঠিক করলেন যে তিনি শান্তির জন্য কাজ করবেন। তিনি এমন কিছু করবেন যাতে মৃত্যুর পর লোকে তাকে ডিনামাইটের স্রষ্টা নয়, অন্য কোনোভাবে মনে রাখে। বাস্তবে হয়েও ছিল তাই। আমরা স্যার আলফ্রেড নোবেলকে যতটা না মনে রেখেছি ডিনামাইট আবিষ্কারক হিসাবে তার থেকে অনেক বেশি মনে রেখেছি নোবেল পুরস্কারের স্রষ্টা হিসাবে।

আসলে নোবেল প্রথম জীবনে একটু ভিন্ন প্রকৃতির ছিলেন। চারপাশের মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে তিনি মোটেই পছন্দ করতেন না। তার সব সময়েই মনে হতো তার মতো ধনী লোকের কাছে অন্য লোকেরা আসে শুধুমাত্র সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েই। তার এও মনে হতো যে তার আবিষ্কারগুলোকে তার সঙ্গীরা হাতিয়ে নিতে চায়। ফলে তিনি একা থাকতেই পছন্দ করতেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিনামাইট, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদির আবিষ্কারের মাধ্যমে তিনি যে বিপুল অর্থ ও সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিলেন সব তিনি উইল করে দান করে দিয়ে গেলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার উৎকর্ষের জন্য। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল। নোবেল তার এই উইল করার জন্য কোনো উকিলের সাহায্য নেননি। কারণ, তিনি ওকালতি পেশার লোকজনকে ভীষণ অপছন্দ করতেন।

তবে, নোবেল পুরস্কারের জন্য তার সব কিছু দেয়ার আগেও তিনি বহু দান-ধ্যান করেছিলেন। একবার তার এক গৃহ পরিচারিকার বিয়ে। সেই পরিচারিকা গিয়ে হাত পাতলেন নোবেলের কাছে। নোবেল সেই পরিচারিকাকে প্রশ্ন করলেন, ‘বলো, তুমি কত টাকা চাও?’ উত্তরে সেই মহিলা বলল, ‘আপনার একদিনের যা উপার্জন’, স্যার আলফ্রেড নোবেল সেই পরিচারিকারে আশা পূর্ণ করেছিলেন। তিনি সে সময় সেই মহিলাকে যে অর্থ দিয়েছিলেন তা আজকের দিনে প্রায় কয়েক লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

আলফ্রেড নোবেলের এক অদ্ভুত ইচ্ছা ছিল। তিনি চাইতেন তার মৃত্যুর পর তার লাশ যেন অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে গাছের সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।