নতুন সঙ্কটে ব্যাংক খাত

May 27, 2019 11:50 am
টাকা

 

 আশরাফুল ইসলামগ্রামে একটি কথার প্রচলন আছে, ‘এমনিতেই নাচুনি বুড়ি, তার ওপর ঢোলের বাড়ি’। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক থেকে জনগণের আমানত হাতিয়ে বিদেশে পারি জমাচ্ছেন এক শ্রেণীর গ্রাহক। আরেক শ্রেণী আছেন, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু ফেরত দেয়ার বালাই নেই। বছরের পর বছর আটকে রেখে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের আয়েশি জীবন নিশ্চিত করছেন। দেশে-বিদেশে আলিশান বাড়ি বান্নাচ্ছেন। দামি গাড়ি হাঁকাচ্ছেন। সন্তানদের বিদেশে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উপরন্তু বিভিন্ন সময়ে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে। এ কারণে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর এক ধরনের ক্ষোভ আছে। অনেকেই ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করার ফন্দি ফিকির করেন।

এমনি সময়ে পুরোনো ঋণখেলাপিদের শাস্তি না দিয়ে উল্টো পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যারা ব্যাংকের ভালো গ্রাহক, নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেন, তাদের শিল্পঋণে সুদের হার ১২-১৪ শতাংশ এবং চক্রবৃদ্ধি হারে নেয়া হচ্ছে। অথচ ব্যাংকিং খাতে যারা চিহ্নিত ঋণখেলাপি, তাদের ঋণ পুনঃতফসিলে ৯ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে, তাও আবার সরল সুদ। ঋণখেলাপিদের নানা ধরনের সুযোগ দেয়ার ঘোষণায় ঋণ পরিশোধে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। যারা এতদিন নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে ব্যাংকের নগদ আদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকের নগদ আদায় কমে যাওয়ায় ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক ব্যাংক। এতে একদিকে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, অন্য দিকে কমে যাচ্ছে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সক্ষমতা। প্রভাব পড়ছে ব্যাংকের মুনাফায়। ব্যাংকাররা বর্তমান এ অবস্থাকে নতুন সঙ্কট হিসেবে মনে করছেন।

প্রচলিত বিধান মতে, কোনো ঋণের কিস্তি পরপর তিন মাস পরিশোধ না করলে ওই ঋণকে ব্যাংকিং ভাষায় সাব-স্ট্যান্ডার্ড বা নিম্নমানের ঋণ বলা হয়। অনুরূপভাবে কোনো ঋণ পরপর ছয় মাস পরিশোধ না করলে ডাউটফুল বা সন্দেহজনক ঋণ, আর ওই ঋণ পরপর ৯ মাস অতিক্রান্ত হলে তাকে ব্যাড অ্যান্ড লস বা কুঋণ বলা হয়। এ তিন শ্রেণীর ঋণই খেলাপি হিসেবে বিবেচিত। কোনো গ্রাহক খেলাপি হওয়ার পর ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারেন না। এমনকি কোনো জাতীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে পারেন না। গ্রাহককে সুবিধা দিতে তাই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। তবে কোনো গ্রাহককে বারবার এ সুযোগ দেয়ার বিধান নেই। সর্বোচ্চ তিনবার এ সুবিধা পেতে পারেন একজন গ্রাহক। তবে প্রথমবার তাকে মোট খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ এককালীন নগদে পরিশোধ করে এ সুবিধা নিতে হয়। এর পরের দুইবার আরো বেশি এককালীন পরিশোধ করতে হয়।

তবে রাজনৈতিক চাপে রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে এ পুনঃতফসিল করা ঋণের নাম ও ধরন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হতে দেখা যায়। কখনো ‘বিশেষ সুবিধা’ কখনো ‘পুনর্গঠন’ ইত্যাদি নামকরণ করা হয়। যেমন- ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল না বলে ‘পুনর্গঠন’ নাম দেয়া হয়। ওই বছর মাত্র ১ ও ২ শতাংশ এককালীন পরিশোধ করে ১৪টি শিল্পগ্রুপকে ১৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করার সুযোগ দেয়া হয়। আবারো রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারো হয়তো বড় অংকের খেলাপি ঋণ বিশেষ সুবিধার নামে নবায়ন করা হবে নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে। খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠিত এ ঋণকে ‘স্টেসড’ বা দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৮ সালে রেকর্ড ২৩ হাজার ২১০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে ব্যাংকগুলো। একই বছরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এর সাথে বিদায়ী বছরে পুনঃতফসিল করা ঋণ যোগ করলে ২০১৮ সাল শেষেও দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের হার ২২ শতাংশের বেশি দাঁড়ায়। এ দিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গত ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের হার ছিল ১৯ শতাংশ। ব্যালান্সশিট পরিচ্ছন্ন দেখাতে ব্যাংকগুলো বাছবিচার ছাড়াই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণ তিনবারের বেশি পুনঃতফসিলের সুযোগ না থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রভাবশালী গ্রাহকেরা ১০ বারেরও বেশি পুনঃতফসিল সুবিধাও নিয়েছেন। তারপরও ওই ঋণ খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে বিশেষ বিবেচনায় পুনর্গঠন করা ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের চেয়ে পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠিত ঋণের হার বেড়ে গেছে।
স্ট্রেসড ঋণের হার খেলাপি ঋণের দ্বিগুণ হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে যেমন ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতাও কমে যাচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিসংখ্যান কিংবা ব্যাংকগুলোর ব্যালান্সশিটে দেখানো চিত্রই দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা নয় বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো নিজেদের অবস্থা ভালো দেখাতে অনেক তথ্য গোপন করে থাকে। অনেক ঋণ বহু আগেই খেলাপি হওয়ার উপযুক্ত হলেও তা খেলাপি দেখানো হচ্ছে না। শাখা ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে শীর্ষ নির্বাহী সবাই নিজেদের দক্ষ ও সফল দেখানোর চেষ্টা করছেন। বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাথে যুক্ত অনেকে ঋণ খেলাপি হলেও কৌশলে তা গোপন রাখা হচ্ছে। নিজেদের সফল দেখাতে অনেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আয় নয়, এমন অর্থও আয়ের খাতে দেখাচ্ছেন।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় পরিচালিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরীক্ষায়ও এমন চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণত ১৫ মার্চের মধ্যেই আগের বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এবার মার্চ শেষ হলেও বেশির ভাগ ব্যাংকই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারেনি। অনেক ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় ত্রুটি ধরা পড়ছে। খেলাপি হওয়ার উপযুক্ত হলেও খেলাপি দেখানো হয়নি এমন ঋণও উদঘাটিত হচ্ছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে যথাযথ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হয়নি, ইতোপূর্বে বাড়তি মুনাফা দেখানোসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা দলের কাছে ধরা পড়েছে।

দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংকারেরা বলে আসছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করছেন না কিছু ব্যবসায়ী। দীর্ঘ দিন ঋণ পরিশোধ না করায় তা এখন আদায় অযোগ্য বা কুঋণে পরিণত হয়েছে। এদের কেউ কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঋণ নবায়ন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কিস্তি পরিশোধ না করায় আবার ওই ঋণ খেলাপি হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার তালিকায় থাকা শীর্ষ ২৫ ঋণখেলাপির কাছে রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। যদিও এ তালিকায় ঋণগ্রহীতা অনেক রাঘববোয়ালের নাম নেই। দীর্ঘ দিন আদায় না হওয়ায় এ ঋণ এখন ব্যাংকগুলোর ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ এসব খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের আয় থেকে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি এসব ঋণের বিপরীতে অর্জিত সুদ, আয় খাতে স্থানান্তরিত করতে পারছে না। ফলে ব্যাংকের বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মামলা করেও দীর্ঘ দিন তা ঝুলে আছে।

খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কয়েক বছর ধরে বিপদ সঙ্কেত বাজিয়ে যাওয়ার মতো। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের বিপরীতে ব্যাংক খাতে অবনতির দাগ প্রকাশ করছে এ খেলাপি ঋণ। সরকারের অন্যান্য সাফল্যকে সবচেয়ে বেশি ঢেকে দিচ্ছে ব্যাংকিং খাতের এ কালো দাগ। খেলাপি ঋণের এ প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শক্ত হাতে একে মোকাবেলা করা না গেলে, অদূরভবিষ্যতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের কারণ হতে পারে ব্যাংকিং খাতের এ কালো ছায়া।

নতুন সঙ্কট

ঋণখেলাপিদের নানা ধরনের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ ঘোষণা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রথমে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, খেলাপি ঋণের এক শতাংশ অথবা এক কোটি টাকা এর মধ্যে যেটি কম তা পরিশোধ করে ১৫ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন ঋণখেলাপিরা। ঋণের সুদ হবে সরল সুদ অর্থাৎ ৭ শতাংশ। পরে তিনি বললেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ নবায়নের সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগ দেয়া হবে ১২ বছরের জন্য। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি। পরে ফের তিনি বলেছেন, সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।

নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের এ ঘোষণায় যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন, তারা কিছুটা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, সারা বছর শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, সরকারের নানা ধরনের কর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলার পর ব্যবসায় যেটুকু মুনাফা থাকে; তা থেকে শুধু ব্যাংকের ১২ শতাংশ সুদ পরিশোধ করে আসছেন তিনি। যে কয়েকটি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে তিনি ব্যবসা করছেন, কোনো ব্যাংকেই ঋণখেলাপি হননি তিনি। অথচ যিনি ব্যাংকের টাকা নিয়ে সারা বছর পরিশোধ না করে ব্যবসা করছেন, ঋণখেলাপি হয়েছেন; তাকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে তিনি কি দোষ করছেন নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে? তিনি বলেন, এতে ব্যবসায় অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়ে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হবে তাকে। এ পরিস্থিতিতে অন্য ঋণখেলাপিদের পথে হাঁটা ছাড়া সামনে বিকল্প থাকবে না।

ব্যাংকারেরা জানিয়েছেন, ব্যাংকের নগদ আদায় হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হারে কমে যাচ্ছে। এমনিতেই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে ঋণ নিয়ে তা আর পরিশোধ করতে চান না। এর ওপর কিছুদিন ধরে ঋণখেলাপিদের নানা সুযোগ দেয়ার ঘোষণায় যারা এতদিন নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন বলা চলে, কিছু দিন ধরে তারা ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে ব্যাংকগুলো বহুমুখী সমস্যায় পড়ে যাচ্ছে। প্রথমেই ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। কারণ, ব্যাংকের আমানত প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এতদিন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করায় ঋণ আমানতের অনুপাত বাংলাদেশ ব্যাংক বেধে দেয়া সীমার মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমানত বাড়ছে না। ফলে আমানত প্রবাহ না বাড়লেও ঋণ আদায় কমে যাওয়ার কারণে আমানতের চেয়ে ব্যাংকের ঋণের পাল্লা ভারী হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণ আমানতের অনুপাত সাড়ে ৮৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। সম্প্রতি এটি সমন্বয়ের সময়সীমা ছয় মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে, ব্যাংকের ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বেশি হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে নিট আয়। অন্য দিকে, নগদ আদায় কমে যাওয়ায় ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এমন পরিস্থিতিতে খেলাপিদের নতুন করে সুযোগ দেয়া হলে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা আরো বেড়ে যাবে। ঋণখেলাপিদের বাঁচাতে যারা একের পর এক ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন; তাদের সাথে খেলাপিদের সম্পর্ক আরো ঘনীভূত হবে। এ নীতিমালা অর্থ মন্ত্রণালয় পাস করলে ব্যাংকিং সেক্টর আরো বিপদে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন কেউ ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে চাইবেন না।