গ্রেটা থুনবার্গ : ছোট্ট মেয়ের বড় হুঙ্কার

Sep 25, 2019 04:33 pm
গ্রেটা থুনবার্গ : ছোট্ট মেয়ের বড় হুঙ্কার

 

সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ। খুবই হতাশ। কারণ আর কিছু নয়, জলবায়ু বিপর্যয়রোধে বিশ্বনেতাদের কার্যকর পথ দেখাতে ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনে একজন প্রথম সারির নেতা তিনি। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, এতটা পথ পাড়ি দিয়ে আমার এখানে আসা উচিত হয়নি। তিনি এবং তার ফ্রাইডে ফর ফিউচার মুভমেন্ট অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার পেয়েছেন। সম্ভাবনা রয়েছে, ২০১৯ সালে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার। কেন একজন কিশোরী এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন? মূলত মানবজাতি ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে যাচ্ছে। মানুষ নিজেই নিজেকে দ্রুত বিপর্যয়ের শেষ প্রান্তে যেন টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। দুনিয়ায় শুভবুদ্ধির মানুষের বড়ই অভাব। কিন্তু এর পরিণাম উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বিশ্ব জলবায়ু চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনকে সরিয়ে নিলেন; তখনই দৃশ্যপটে এই সৎসাহসী কিশোরীর আবির্ভাব।

পনেরো বছরের গ্রেটা ২০১৮ সালের আগস্টে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন। ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ প্লাকার্ড নিয়ে গনগনে রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন পার্লামেন্টের বাইরে। তার ধনুর্ভঙ্গ পণ, সুইডেনকে বিশ্ব জলবায়ু প্রশ্নে অবশ্যই কাক্সিক্ষত শক্ত অবস্থান নিতে হবে। প্রথমে সুইডিশ মিডিয়া খুব একটা পাত্তা দেয়নি এ কিশোরীর ভূমিকাকে। অথচ এক বছরের মাথায় সেই কিশোরীই জলবায়ু আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা হয়ে গেছেন। তার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলনের আগে সারা বিশ্বের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা তার আন্দোলনে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। জাতিসঙ্ঘ সম্মেলনে আসার জন্য থুনবার্গ উড়োজাহাজে ওঠেননি। কার্বন নিঃসরণ হবে বলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেন নৌকায়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে তার সময় লেগেছে দুই সপ্তাহ।

জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের পাশে বসে বক্তৃতা করেছেন থুনবার্গ। ওই বক্তব্যে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি মূলত বলতে চাইছেন নবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ বসবাসের কথা। বর্তমান সময়ের মানুষ খুব স্বার্থপর। নিজেরাই ধ্বংস করছে ধরিত্রীকে। এর প্রতিবাদে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলে উঠেছেন গ্রেটা। তাকে ‘তারকা’ খ্যাতি দিতে বিশ্ববাসীর কোনো কার্পণ্য নেই। অথচ মূল সমস্যা সমাধানে তার ডাকে সাড়া দিতে বর্তমান বিশ্ব নেতৃত্ব রাজি নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জলবায়ু সম্মেলনে হাজিরা দিয়েছেন মাত্র কয়েক মিনিটের মতো। বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি সেখানে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন। মোদি আগের দিন ট্রাম্পের পক্ষে ভোট চাইলেন এক জনসভায়। অন্য দিকে বিশ্বের তৃতীয় প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ভারত কার্বন নিঃসরণ কমাতে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এ নিয়ে তাদের কোনো ধরনের সচেতনতা বা সতর্কতাও নেই। গ্রেটা তাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের উপস্থিতির সময় তার দিকে চোখ রাঙিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে এই কিশোরীর রাগান্বিত ছবি এসেছে।

জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলনের আগে এ সংক্রান্ত সায়েন্স অ্যাডভাইজরি গ্রুপ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগের অর্ধশতাব্দীতে বৈশ্বিক তাপ যতটা বেড়েছে; এখন সেটি আরো অনেক কম সময়ের মধ্যে বাড়ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের হার হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে এখনো বাড়ছে। ২০১৮ সালে তা ২ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর কলকারখানা থেকে তিন হাজার ৭০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে। অন্য দিকে খবর হচ্ছে, কার্বন শোষণকারী বনভূমি ধ্বংস করছে মানুষ। পরিকল্পিতভাবে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিত বনভূমি দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ব্রাজিলের বর্তমান শাসকশ্রেণী আমাজনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল কার্বন অ্যাটলাস’ ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে চীন একাই ২৭ শতাংশের বেশি ক্ষতিকর কার্বন গ্যাস নিঃসরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সাড়ে ১৪ শতাংশের বেশি কার্বন নিঃসরণ করে রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। প্রায় ৭ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে তৃতীয় অবস্থানে ভারত। এই তিনটি দেশ মিলে বিশ্বের অর্ধেক কার্বন নিঃসরণ করছে। এ তিনটি দেশের কার্বন নিঃসরণের হার অদূর ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। চীন ও ভারতে কলকারখানা স্থাপন ও উৎপাদন এখন ঊর্ধ্বমুখী। জনগণের জন্য উন্নত ভোগের সামগ্রীর নিশ্চয়তা দেয়ার এখনো অনেক বাকি তাদের। তাই কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পরিবেশবাদীদের কান্নাও নিকট ভবিষ্যতে হালে পানি পাবে না বলে আশঙ্কা হচ্ছে।

অন্য দিকে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে কিছু ধনী দেশ। এসব দেশ জনসংখ্যার হারের অনুপাতে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিজনের তুলনায় কাতার নিঃসরণ করছে তিনগুণ কার্বন। এর পরই রয়েছে ত্রিনিদাদ টোবাগো, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বেশি কার্বন নিঃসরণ করে শুধু দেশগুলোর নাগরিকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, ব্যাপারটা এমন নয়। এমনটি হলে এ নিয়ে বিশ্ববাসীর খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। তাদের মাত্রাতিরিক্ত কার্বন গ্যাস নিঃসরণের ক্ষতিকর ফল ভোগ করতে হচ্ছে পুরো বিশ্ববাসীকেই। অনুন্নত দরিদ্র দেশগুলো এর শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সমুদ্র পরিবেষ্টিত দেশগুলোর অবস্থা এদিক দিয়ে ভয়াবহ। তারা সবার আগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ এই কাতারের দেশ। অর্থাৎ, একদল স্বেচ্ছাচারী মানুষের লাগামহীন কর্মকাণ্ডের মাশুল দিতে হচ্ছে অন্যদের। এর প্রতিকার পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের। যারা বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে; তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু আজও সেই ধরনের বিশ্বব্যবস্থা কায়েম হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকারহীনভাবে অবস্থার শিকার হওয়া ছাড়া তাই কোনো উপায় থাকে না।

বিগত শতাব্দীতে মানুষ নিজেদের মধ্যে হিংসাবিদ্বেষে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্বেষের ফলে জন্ম হওয়া যুদ্ধ থেকে মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কখনো রোগ-শোক-মহামারী দেখা দিলে ব্যাপক প্রাণহানির শিকার হয় মানুষ। তবে যুদ্ধবিগ্রহে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়েছে। তাই শান্তি স্থাপনের ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সৃষ্ট জাতিসঙ্ঘ শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। তবু পৃথিবী থেকে হিংসাবিদ্বেষ বিদায় নেয়নি। যুদ্ধও থামেনি। রোগ-শোকও রয়েছে ব্যাপকভাবে। এর সাথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়; যা দিন দিন বাড়ছে। আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, বিশ্ববাসীর সামনে অপেক্ষা করছে মহাবিপদ। ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ নামে একে আখ্যা দেয়া হলেও ‘প্রকৃতি’ নামের কিছু আদৌ এর জন্য দায়ী নয়। মানুষ নিজেই এ বিপর্যয় সৃষ্টির কারিগর। এখন পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্বের উপযোগী অন্য কোনো গ্রহ মহাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা অসংখ্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। তবে সেগুলো অনুর্বর, পানিহীন, অর্থাৎ প্রাণের অস্তিত্বের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে পৃথিবী নামক গ্রহটি ধ্বংস হয়ে গেলে অন্য জায়গায় আশ্রয় নেয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগও নেই।

পৃথিবী এক মহাবিস্ময়! এর যে গঠনপ্রকৃতি, সে বিষয়ে ভাবলে চিন্তাশীলদের হৃদয় খুলে দেয়ার জন্য তাই যথেষ্ট। এর কেন্দ্রভাগের ব্যাস প্রায় ১২০০ কিলোমিটার; ভারী ধাতু লোহা ও নিকেলের মিশ্রণে তৈরি। এর উত্তাপ সাড়ে পাঁচ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, যা সূর্যের উপরিভাগের উত্তাপের কাছাকাছি। ধারণা করা হয়, এটি দেখতে ডিমের লালাভ কুসুম বা অগ্নিকুণ্ডসদৃশ। বাইরের দিকটি একটা সুন্দর নমনীয় গ্যাসীয় আবরণে তৈরি; পৃথিবীর কেন্দ্র কেন নরকসদৃশ, তা ভাবনার বিষয়। পৃথিবীর একেবারে ওপরের ভাগ মাটি ও পানি দিয়ে তৈরি। কেন্দ্রের অগ্নিকুণ্ডটি মাটি ও পানির কমনীয় আবরণে আচ্ছাদিত।

একেবারে উপরিভাগে ভূপৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগজুড়ে পানি। পানি জীবনের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটাতে এবং তা জীবন্ত রাখতে অতীব প্রয়োজনীয়। গ্যাসীয় আবরণের পাশাপাশি, পানি জীবন ধারণ সহজ করেছে। গ্যাস ওপর থেকে আসা ক্ষতিকর নানা পদার্থ থেকে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্বকে নিরাপদ রাখে। অন্য দিকে, মহাসাগরের নিচে রয়েছে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি। মহাবিশ্ব যেন এক কঠিন বৈরী আবহাওয়া। এই চরম বৈরিতার মধ্যেও একেবারে বিপরীত এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে পৃথিবীর প্রাণিজগতের জন্য। আবার গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, এ পুরো সৃষ্টি মানুষ নামক প্রজাতি ঘিরে। মানুষকে ঘিরেই সব কিছুর আবর্তন।

প্রত্যেক প্রাণীর বাঁচার জন্য এক অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের আয়োজন সত্যিই অত্যন্ত বিস্ময়কর। আবার তার খাবারও থরে থরে সাজানো। সমুদ্রতলের একটি মাছ যেমন আহারের অভাবে প্রাণ হারায় না, ঠিক তেমনি গহিন অরণ্যেও কোনো পশু-পাখি না খেয়ে থাকে না। মানে, খাবারের কোনো অভাব হয় না। মানুষের জন্য রয়েছে আরো বেশি কিছু। তারা সর্বোৎকৃষ্ট খাবার পেয়ে থাকে। প্রাণিজগতের মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং সুস্বাদু খাবারের আয়োজন রয়েছে মানুষের জন্য। এ ছাড়া তার জন্য রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থাও, যেটি অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এক মহাকর্মকুশলী এর মধ্যে যতœ করে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছেন। মহাবিশ্বের যেকোনো বিপর্যয় মুহূর্তে তাদের জীবন নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

পৃথিবীতে মনুষ্য জাতির উদ্ভব-বিকাশ নিয়ে রয়েছে বহু মতবাদ। মহান স্রষ্টা বলছেন, ‘আমি পানি থেকে প্রাণের উন্মেষ করেছি।’ আর এক মহা ওলটপালটের মাধ্যমে এর ধ্বংস হবে। সে দিন সমুদ্রে আগুন ধরে যাবে। এখন আগুনকে ঢেকে রাখা হয়েছে মাটি ও পানি দিয়ে। অনিবার্য মহাদিবসের সেই ধ্বংসের আগেই মানুষ নিজেই যেন নিজের ধ্বংসের আয়োজন করতে চাচ্ছে।

‘উন্নয়ন’-এর লাগামহীন ও উদগ্র আকাঙ্ক্ষা সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে। সবাই নিজেদের উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে চায়। লক্ষ্য ব্যক্তি মানুষের সীমাহীন ভোগ। পশ্চিমা বিশ্বই এর স্রষ্টা। আমাদের ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের কৃতিত্ব দেখাতে চায় জাতীয় উৎপাদন বাড়িয়ে। মানুষ নিজেরা দেখে, কত বেশি সে খেতে পেল ও বিনোদন পেল। সরকার আর জনগণের মধ্যে এ নিয়ে সম্পর্ক। যারা উন্নয়ন দিতে পারবে; ক্ষমতায় থাকার অধিকার যেন কেবল তাদের। একুশ শতকে উন্নয়নের মডেল হচ্ছে চীন। এর মূলনীতি : খাও-দাও আর ফুর্তি করো।

জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত রাষ্ট্র পরিচালনাকারী শাসকেরা দায়ী। উন্নয়নের মাধ্যমে ভোগবিলাস বাড়ানোর আগ্রাসী মনোভাব সবচেয়ে ক্ষতি করছে। এ ধরনের উগ্র নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে দেশে দেশে। সব মহাদেশে এমন অন্তত দু-একজন নেতার আবির্ভাব ইতোমধ্যে ঘটেছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে জলবায়ু বিপর্যয় বাড়বে, এটিই এখন বিশ্ববাসীর নিয়তি। তবে বিপরীত চিত্র যে নেই তা নয়, আছে। যেমন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তাকে ইতোমধ্যে ‘ক্লাইমেট চ্যান্সেলর’ নাম দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে শুরু থেকেই লেগে আছেন তিনি।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রকল্পে অর্থ সরবরাহ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। চলমান শতাব্দীর শেষে কার্বন নিঃসরণ শূন্যতে নামিয়ে আনার প্রচার চালাচ্ছেন মার্কেল। এ জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্ব নেতৃত্বকে প্রণোদিত করছেন। নিজের দেশেও তিনি জোরালো চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এ জন্য। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ অনুৎসাহিত করতে কঠিন সব নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করছেন। নিজ দেশেও জলবায়ু তহবিলের আকার বাড়িয়েছেন। তবে জার্মানিতেও উগ্র জাতীয়তাবাদী দলের উত্থান ঘটছে। এ নীতি যে মার্কেল যুগের অবসানের পরও অব্যাহত থাকবে, তেমন সম্ভাবনা কম। যা হোক, কিশোরী থুনবার্গ বলেছেন, আমাকে বাহবা দিচ্ছেন। সেলফি তুলছেন। এগুলোর জন্য রাস্তায় নামিনি। আপনারা কাজটি করুন; বিশ্ববাসী এ ধরনের তারকা খুঁজছে। কিন্তু কাজটি করতে আগ্রহী নন বিশ্ব মুরব্বিরা। দেখেশুনে মনে হয়, মানুষ নিজের উন্নত মর্যাদার প্রতি সুবিচার করতে পারছে না। করুণাময় স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিতে মানুষকে যে আনুকূল্য দিয়েছেন, তারা সেটি নিজেরাই ধ্বংস করছে। এর পরিণাম শেষ পর্যন্ত শুভ হতে পারে না।
[email protected]