গরিবের কথা বলে নোবেল অভিজিতের

Oct 15, 2019 01:45 pm
অভিজিত

 

বিশ্বে দারিদ্র্য মোকাবিলা করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু ঠিক কী তার এই পদ্ধতি?

অর্থনীতিবিদ বাবা-মায়ের সন্তান অভিজিৎ প্রথমে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে স্নাতকস্তরে ও পরে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে নিয়ে পড়াশোনা করেন৷

এরপর উচ্চতর গবেষণার উদ্দেশে পাড়ি দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ এর আগে, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইন্সটিটিউটে পড়তে গিয়ে মাঝপথে ছেড়ে দেন পড়া৷ কেন? গণিতের ভাষায় অর্থনীতি বুঝতে গিয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অভিজিতের বাস্তব মনে হয়নি৷ হার্ভার্ডে পড়তে এসে শুরু করলেন সমাজবিজ্ঞানের সমান্তরালে অর্থনীতিকে দেখতে শেখার অভ্যাস৷

এরই ফলস্বরূপ ২০০৩ সালে এমআইটি অর্থাৎ, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে ‘আবদুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব' বা ‘জেপ্যাল' গঠন৷ এই কাজে অভিজিতের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী, এসথার ডুফলো ও সেনথিল মুলাইনাথান৷ উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে অভিজিতের সাথে যুগ্মভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন এসথার ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল ক্রেমার৷

জেপ্যাল ছাড়াও, অভিজিৎ এখন এমআইটিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল প্রফেসর অফ ইকোনমিক্স হিসাবে কর্মরত৷

গবেষণা ছাড়া, জেপ্যালের কাজের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির আর্থিক নীতিগঠনে সহায়তা প্রদান, আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা ও ক্ষমতায়নের নানা কর্মসূচীও৷

২০০৮ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সমকালীন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদদের একটি সমীক্ষা চালায়৷ সেখানে দেখা যায়, সব পরিমাপেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অভিজিৎ, এসথার ও তাদের চিন্তার ফসল ‘জেপ্যাল'৷ বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড রোমার সেখানে বলেন. ‘‘বর্তমান অর্থনীতির কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দারিদ্রের৷ কেন বিশ্বের এত এত মানুষ দরিদ্র? আর অর্থনীতির এখানে আসলেই কী করণীয়? জেপ্যালের কাজের সাহায্যে এখন আমরা আস্তে আস্তে এই প্রশ্নগুলির ধারণা পাচ্ছি৷''

উন্নতশীল বিশ্বে দারিদ্র ঠেকাতে চালু রয়েছে একাধিক সহায়তা প্রকল্প৷ কিন্তু বাস্তবে কতটুকু সফল হচ্ছে এই প্রকল্পগুলি, তা পরীক্ষা করে জেপ্যাল৷ গত ১৬ বছর ধরে তাদের গবেষণা থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু যুগান্তকারী চিন্তাধারা, যার সাম্প্রতিকতম ফল ২০১৯ সালে প্রকাশিত অভিজিৎ ও এসথারের ‘হোয়াট দ্য কান্ট্রি নিডস নাও‘ শীর্ষক বইটি৷

ভারতের বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও মন্দা থেকে উত্তরণের পরামর্শ রয়েছে সেখানে৷ উন্নতশীল বিশ্বে নাগরিকের খরচ প্রবণতার সহজ অথচ প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ করে ২০১১ সালে এসথার ও অভিজিৎ রচিত ‘পুওর ইকোনমিক্স' বইটি ‘গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক অফ দ্য ইয়ার' পুরস্কার পায়৷

উল্লেখ্য, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস তাদের ‘ন্যায়' প্রকল্প গড়ে তোলে৷ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম সমালোচক অভিজিৎ এর আগে নরেন্দ্র মোদির ‘নোটবন্দি‘ বা ডিমনিটাইজেশনের কড়া সমালোচনা করেন৷

সোমবার নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা রয়াল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ঘোষণার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই ভারতে নতুন করে আলোচনায় রয়েছেন চতুর্থ বাঙালি নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে