আসছে উন্মুক্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা

জি. মুনীর | May 18, 2020 09:36 pm
আসছে উন্মুক্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা

আসছে উন্মুক্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা - সংগৃহীত

 

বিগত মধ্য-এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টটির শিরোনাম : ‘Adherence to and Compliance with Arms Control, Nonproliferation, and Disarmament Agreements and Commitments (Compliance Report)’। এ রিপোর্ট নিয়ে বিশ্বে এক ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty (CTBT) চুক্তি ভঙ্গ করে চীন এর লপ নুর সাইটে ল’ ইয়েল্ডের পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে আরো দাবি করা হয়, রাশিয়াও এমন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যাতে সিটিবিটির আওতাভুক্ত নিউক্লিয়ার ইয়েল্ড বা পারমাণবিক উপজাত উৎপাদন করেছে। রাশিয়া এবং চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে চলার মাঝে এই রিপোর্ট থেকে এটাই প্রকাশ পায়- তাদের মধ্যে নতুন করে উন্মুক্ত, বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এর ফলে ১৯৬৬ সালে সম্পাদিত, সিটিবিটি চুক্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

একটি রাজনৈতিক কূটনীতির সন্ধানে গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন প্রস্তাবে সম্মত হন যে, জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের চার সদস্য দেশের সাথে চীনেরও উচিত নয়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংলাপে যোগ দেয়া। সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, এর লক্ষ্য হচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত করার জন্য চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করা।

ত্রিমুখী একটি চুক্তিতে এটি ধারণা করা ঠিক হবে না যে, ওয়াশিংটন ও মস্কো রাজি হবে চীনের সমান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে। এটিও ভাবা ঠিক হবে না, চীন অসম পারমাণবিক অস্ত্র রাখার বিষয়টি মেনে নেবে। এ কারণে, চীন ত্রিপক্ষীয় কোনো চুক্তিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেখানে চীন উল্লেখ করেছে এসব পরাশক্তির পারমাণবিক অস্ত্রসংখ্যার ব্যাপক পার্থক্যের কথা। কিন্তু বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার এ প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের রয়েছে উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বেইজিং চায় এর ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট ও রিসাইক্লিং ক্যাপাসিটি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলতে। অর্থাৎ, পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতায় বেইজিং ওয়াশিংটন ও মস্কোর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। বেইজিংয়ের এই প্রত্যাশাকে আর খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, একটি অসম চুক্তিতে রাজি হওয়ার মতো অবস্থানে চীন আর নেই।

বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় চীনের বর্তমান আচরণকে ঘিরে কাজ করছে নানা কৌশলগত রহস্য। এর মধ্যে আছে : পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত চীনের ডকট্রিন বা নীতি এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণে এর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়। চীনের পারমাণবিক নীতিতে ‘প্রথম আঘাত হানা’র অস্তিত্ব নেই। তা সত্ত্বেও দেশটি শিগগিরই চালু করবে কৌশলগত ভূমি, সমুদ্র ও আকাশে পারমাণবিক হামলা চালাবার উপযোগী একটি ত্রয়ী পারমাণবিক ব্যবস্থা। আর এটা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থারই অনুরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণে পৌঁছাতে পারে। চীন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির পেছনেও অর্থ বিনিয়োগ করছে। এগুলো ভরা থাকবে হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকলে, যা অতি উচ্চ গতি নিয়ে বঙ্কিম পথে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে সক্ষম। ফলে বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এটাকে প্রতিরোধ করা যাবে না।

চীনের যে সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা রয়েছে, এর ফলে প্রতি বছর দেড় হাজার নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড (ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরক) তৈরি করতে পারবে। এই সক্ষমতা দিয়ে চীন মাত্র ১০ বছরের মধ্যে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমশক্তি অর্জন করতে পারবে। এর বাইরে, চীন পরিকল্পনা করছে ফ্রান্স থেকে আরেকটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট কেনার। এটি প্রচুর প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করবে, যার ফলে চীন প্রতি বছর আরো ১৬০০ নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরি করতে সক্ষম হবে। এ সব কিছু থেকে ইঙ্গিত মেলে, চীন হতে যাচ্ছে বিশ্ব অস্ত্র-প্রতিযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী। সর্বোপরি, চীন যোগ দিতে পারে রাশিয়ার সাথে মহাকাশের অস্ত্র প্রতিযোগিতায়। এর রয়েছে ভূমিভিত্তিক লেসার, কৃত্রিম উপগ্রহ-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং রোবট স্যাটেলাইট কিলার অপারেশনও। এখন পর্যন্ত, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অপারেশন ব্যাপকভাবে এর ‘প্রথম আঘাত না হানা’র সরকারি নীতির পরিপন্থী।

যখন ১৯৮৭ সালে ‘ইন্টারমেডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ বা আইএনএফ ট্রিটির খসড়া তৈরি করা হয়, তখন পৃথিবীটা ছিল ‘একটি ছোট্ট জায়গা’। রাশিয়ার 9M729-এর মতো নতুন ধরনের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং চীনকে যখন এর আওতায় আনা যাচ্ছিল না, তখন ২০১৯ সালে এই ট্রিটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধরনের পারমাণবিক হুমকির সৃষ্টি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও উত্তপ্ত বিশ্বপরিস্থিতিতে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘ওপেন স্ট্রাইক ট্রিটি’ থেকে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরের কোনো এক সময়ে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এই ট্রিটির মাধ্যমে স্বল্প নোটিশে নিরস্ত্রীকরণ এবং সামরিক বাহিনী ও এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত ডাটা কালেকশনের জন্য ট্রিটির সদস্য দেশগুলোর ওপর দিয়ে পর্যবেক্ষণ ফ্লাইট চালানোর সুযোগ রয়েছে। এদিকে নতুন START (New Strategic Arms Reduction treaty) ট্রিটির সময়সীমা শিগগিরই উত্তীর্ণ হবে। এ কারণে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন স্টার্ট চুক্তি সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিচ্ছেন। এই চুক্তিটি প্রথমত ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল মস্কোয়।

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য মোতায়েন করা ওয়ারহেডের সংখ্যা দেড় হাজারে এবং মোতায়েন করা ৭০০ ডেলিভারি সিস্টেমে সীমিত করে। শোনা যায়, আসন্ন চুক্তি সম্প্রসারণে রাশিয়ার নতুন ভারী আন্তঃমহাদেশীয় নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাভানগার্ড হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকলকেও রাশিয়ার অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রের সাথে গণনাভুক্ত করা হতে পারে। অপর দিকে, যদি নয়া ‘স্টার্ট’ চুক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায় এবং আর সম্প্রসারণও করা না হয় তবে ১৯৭২ সালের পর থেকে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কোনো বৈধ উপায় অবশিষ্ট থাকবে না। তখন ঝুঁকি সৃষ্টি হবে অবাধ বা উন্মুক্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাওয়ার। তখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিক্ষুব্ধ মনোভাব আরো বেড়ে যাবে। তা সত্ত্বেও, নতুন স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলে এবং এতে হাইপারসোনিক ওয়েপন অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ‘অদৃশ্য অস্ত্রের’ পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। এসব অদৃশ্য অস্ত্র প্রতিরোধ করা যাবে না বিদ্যমান পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে। ২০১৯ সালে চীন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় হাইপারসোনিক ওয়েপন মোতায়েনের। একই সাথে, দেশটি তার জাতীয় দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করে ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্র। তবে, রাশিয়ার অ্যাভানগার্ডের তুলনায় ‘ডিএফ-১৭’-এর প্রযুক্তি নিম্নমানের।

উদাহরণতভাবে ধরা যাক, তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করল। তখন চীন হয়তো আগ বাড়িয়ে হামলা চালাবে প্রচলিত হাইপারসোনিক ওয়েপন নিয়ে। এর মাধ্যমে এরা প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারবে। চীনের সামরিক বাহিনী তাদের হাইপারসোনিক ওয়েপনকে দেখছে একটি ‘assassins mace হিসেবে। এই ‘assassins mace হচ্ছে রূপকথার পরিভাষা। এর মাধ্যমে এমন একটি অস্ত্র বোঝানো হয়, যা উন্নততর অস্ত্রসজ্জিত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধেও একটি বাহিনীকে সুবিধাজনক অবস্থায় রাখে।
অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রও ট্রাম্প প্রশাসনের আওতায় চালু রেখেছে হাইপারসোনিক মিসাইল তৈরির কাজ। তার পূর্বসূরি ওবামা এই কর্মসূচি বাতিল করে দিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পুরোমাত্রার হাইপারসোনিক ওয়েপনের কথা ঘোষণা করেনি। এর প্রতিরক্ষা বিভাগ ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ করছে এই হাইপারসোনিক গবেষণায়।

বর্তমানে পেন্টাগনের প্রায় এক ডজন কর্মসূচি রয়েছে, যেগুলোর আওতায় চলছে এমন সব পারমাণবিক সুপারসোনিক অস্ত্র উদ্ভাবন ও তৈরির কাজ, যেন চীন ও রাশিয়ার নতুন নতুন ধরনের অস্ত্রের মোকাবেলা করা যায়। ২০১৯ সালে ‘লকহিড মার্টিন’-এর সাথে পেন্টাগন স্বাক্ষর করেছে বহুশত কোটি ডলারের দুটি হাইপারসোনিক ওয়েপন কন্ট্রাক্ট।
সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, মস্কো নিজের যুদ্ধজাহাজগুলোকে হাইপারসোনিক অস্ত্রসমৃদ্ধ এবং সেইসাথে এগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করতে পারে। যদি এই পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রাশিয়ার জন্য এই পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’। ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের শৌর্যবীর্য মোকাবেলায়, বিশেষ করে এর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করায় এটি রাশিয়ার জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ‘স্যাম নান স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স’ সহযোগী অধ্যাপক মার্গারেট কোসালের রয়েছে ভিন্নমত। সম্প্রতি এই মহিলা বলেছেন : ‘হাইপারসোনিক টেকনোলজি ‘গেম চেঞ্জার’ হবে না। কারণ, সাক্ষ্যপ্রমাণ নির্দেশ করে, এই প্রযুক্তি সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত নিরুৎসাহিতকরণ যন্ত্র হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রকে বিতাড়িত করবে না।’ এর অর্থ হচ্ছে, হাইপারসোনিক ওয়েপন যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে। কিন্তু প্রধান তিনটি পরাশক্তির একটিও এই অস্ত্রকে ব্যবহার করবে না প্রিয়েম্পটিভ স্ট্রাইকিং টুল বা আগে থেকেই আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে। তবে তা তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তি জোরদার করা অব্যাহত রাখবে। এসব দেশ হাইপারসোনিক ওয়েপন তৈরির সাথে জড়িত। এ দেশগুলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ না করার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে একটি সঙ্কটকে পাল্টে দেয়ার কাজও করতে পারে।

আইএনএফ ট্রিটির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, রাশিয়া তা ভঙ্গ করেছে এক দশক আগেই, যখন দেশটি বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করে ক্রুজ মিসাইল এবং এগুলো ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যস্থলে আঘাত হানতে সক্ষম। অপর দিকে রাশিয়া বলেছে, এই ট্রিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার পারমাণবিক অস্ত্রসম্পর্কিত নিয়মনীতি ভঙ্গের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ২০১৯ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আইএনএফ-ট্রিটি-উত্তর সময়ে দেশটির প্রথম ‘বিজিএম-১০৯ টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এটি বিজিএম-১০৯জি গ্রাইফর-এর একটি ভিন্ন সংস্করণ। বিষয়টি চীন ও রাশিয়ার ক্ষোভের কারণ ঘটায়। দেশ দু’টিই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিধর শত্রু দেশ। তখন দেশ দু’টি বলে, যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তিগুলোর মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দিচ্ছে।

এই আইএনএফ ট্রিটির মেয়াদ পার হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়, যা এই ট্রিটিতে নিষিদ্ধ ছিল। আইএনএফ ট্রিটির কথা ছিল- ভূমিভিত্তিক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণ করা। সেই সাথে ইউরোপ থেকে ৫০০ কিলোমিটার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণ করা। এই ট্রিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন অবাধে এর ভূমিভিত্তিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা অব্যাহত রাখতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষণ ও সাযুজ্যকরণ বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্র্যাঙ্ক রোজ বলেছেন, ‘আইএনএফ ট্রিটির অবসান হচ্ছে বৃহত্তর কাহিনীর সর্বশেষ ধাপ। এর অর্থ হচ্ছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত স্থিতিশীলতা অবকাঠামোর বিনাশ ঘটেছে।’

এর অর্থ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে উন্মুক্ত আবেদন জানাল একটি ভয়াবহ অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য। এভাবে এক-এক করে বিদায় নিচ্ছে অস্ত্রনিরোধ কিংবা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক চুক্তিগুলো। আর চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নামছে উন্মুক্ত অস্ত্র প্রতিযোগিতায়। এর জন্য অনেকেই দায়ী করছেন ট্রাম্প প্রশাসনকে। ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু করেছিল এই বিনাশী কাজটি। এরপর এক-এক করে বিভিন্ন চুক্তি অকার্যকর করে দিয়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন এখন একে-ওকে ডাকা ডাকি করছে নতুন কোনো চুক্তি করতে। জানি না, এই পাগলামোর শেষ কোথায়?

 


 

ko cuce /div>

দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসিক প্রকাশনা

সম্পাদক: আলমগীর মহিউদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সালাহউদ্দিন বাবর
বার্তা সম্পাদক: মাসুমুর রহমান খলিলী


Email: [email protected]

যোগাযোগ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।  ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Follow Us